Image description

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুক্তিতে বিমানের পক্ষে চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন এবং বোয়িংয়ের পক্ষে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিউইয়র্কের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। এর মধ্য দিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়াল ২৫টিতে। এর আগে ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। মাহ্দী আমিন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের বিমান পরিবহণ খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে বোয়িংয়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে ব্র্যাড ম্যাকমুলেনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে। অর্থাৎ উড়োজাহাজ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির পরিবর্তে দেশের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বিমানের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন বলেন, নতুন চুক্তি বিমানের চলমান বহর নবায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিমানের ফ্লিট পরিকল্পনার নির্দিষ্ট প্রয়োজন বিবেচনা করেই এ অর্ডার করা হয়েছে। নতুন চুক্তি আগামী দিনে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ বলেও জানান তিনি।

বোয়িংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন বলেন, বিমানের নতুন অর্ডারটি বহর নবায়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলগত পরিকল্পনার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি বোয়িং ও বিমানের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের শক্তিও তুলে ধরে। নতুন ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ বাংলাদেশের বৈশ্বিক বিমান পরিবহণ খাতে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা পালনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, বহুমুখিতা ও নির্ভরযোগ্যতা দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার অর্ডার দিয়েছিল বিমান। সেটি ছিল বিমানের ইতিহাসে বোয়িংয়ের সবচেয়ে বড় অর্ডার। ওই চুক্তিতে ছিল আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮।

নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় চলতি বছর বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট অর্ডার দাঁড়িয়েছে ২৫টি। এপ্রিলের ওই অর্ডারের ৭৮৭-১০ উড়োজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদার রুটে ব্যবহারের জন্য এবং ৭৮৭-৯ দূরপাল্লার ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার রুটে ব্যবহারের কথা জানিয়েছিল বোয়িং। আর চারটি ৭৩৭-৮ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গন্তব্যে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল। বোয়িংয়ের হিসাবে, ৭৮৭-১০ উড়োজাহাজটি বড় ওয়াইডবডি বিমানের মধ্যে প্রতি আসনে তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয় এবং বেশি সক্ষমতা দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে। নতুন ৭৮৭-১০ গুলো বিমানের বিদ্যমান ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ বহরের সঙ্গে যুক্ত হবে।