Image description

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রায় ৫ কোটি  টাকা আত্মসাত্ করে এক ব্যাংক কর্মকর্তা পালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঐ কর্মকর্তা হচ্ছেন শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শফিফুজ্জামান সোহাগ। এদিকে টাকা হারানোর আশঙ্কায় গতকাল ব্যাংকের সামনে শত শত গ্রাহক তাদের গচ্ছিত টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। অনেককে আহাজারি করতে দেখা যায়।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপকসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ বৃহস্পতিবার বিকালে শ্রীনগর শাখায় ছুটে আসেন। তারা ব্যাংকের কাগজপত্র দেখে খোঁজখবর নিচ্ছেন আসলে কত টাকা আত্মসাত্ করেছে ঐ ব্যাংক কর্মকর্তা। তবে এখনো পর্যন্ত কত জন গ্রাহকের কত টাকা আত্মসাত্ করা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব করা সম্ভব হয়নি বলে ব্যাংক কর্তৃৃপক্ষ জানিয়েছেন। ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা হলে গ্রাহকরা দাবি করেন, আত্মসাতের পরিমাণ কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, গ্রাহকদের এফডিআরের মূল দায়িত্ব পালন করেছেন শরিফুজ্জামান। তাই এফডিআরের টাকাই বেশি আত্মসাত্ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ব্যাংকের সামনে বেশ কয়েক জন গ্রাহকের সঙ্গে কথা হলে জানা যায়, তাদের হিসাব থেকেই অন্তত দেড় কোটি টাকা আত্মসাত্ হয়েছে। জানা গেছে, এই শাখায় প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে কত জন গ্রাহকের এফডিআর আছে তার তথ্য জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন পূর্ণাঙ্গ তথ্য শিগিগরই ব্যাংকের অডিট টিম এসে শনাক্ত করবেন।

শ্রীনগরের বেজগাঁও এলাকার গ্রাহক জুথি আক্তার বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। তিন দিন আগে ব্যাংকে টাকা জমা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তারা জানায় ব্যাংকের সার্ভারে সমস্যা তাই জমা হয়েছে কি না এই মুহূর্তে জানা যাবে না। আমাকে অন্যদিন আসার কথা বলেন। তখনই আমার বিষয়টি সন্দেহ লাগে। গতকাল বৃহস্পতিবার টাকা তুলতে ব্যাংকে এসে জানতে পারি আমার হিসাবে টাকা নেই। শরিফুজ্জামানের সিটে খোঁজ করে দেখি তিনিও নাকি উধাও।

একইভাবে উপজেলা বারিগাঁও এলাকার জাকিয়া সুলতানা ৭ লাখ, আড়িয়ল পাড়ার নাছির হাওলাদার ১৫ লাখ, নুরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তি জানান তার আত্মীয়ে ৮১ লাখ টাকা জমা করে সব খুইয়েছেন। এমন আরো অনেক গ্রাহক তাদের টাকা হারানোর কথা জানান। তাদের দাবি, এই টাকা লোপাটের পেছনে একটি চক্র কাজ করেছে। তাদের সবাইকেই খুঁজে বের করতে হবে।

এদিকে, শরিফুজ্জামান পলাতক থাকায় তার বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) আনিসুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া নিব। তবে এই মুহূর্তে আমরা আইন শৃঙ্খলার যাতে অবনতি না হয় সেই বিষয়ে প্রস্তুত আছি। 

এ বিষয়ে ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আতিকুল রহমান সিদ্দিক বলেন, এটি সরকারি ব্যাংক। বৈধ রশীদ যাদের আছে তারা সবাই টাকা ফেরত পাবেন। কারো টাকা হারানোর ভয় নেই। তবে কত জন গ্রাহকের টাকা হারিয়েছে তার হিসাব অডিট না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।