‘মোহাম্মদপুরে দিনদুপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে টাকা ছিনিয়ে নিল কিশোর গ্যাং।’ ‘বখাটেদের ছুরিকাঘাতে পথচারী নিহত।’ ‘হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু’-গত কয়েক মাসে এমন একাধিক শিরোনাম উঠে এসেছে সংবাদপত্রে। সব ঘটনার পেছনেই কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার কথা বলছে পুলিশ। অথচ অজ্ঞাত কারণে অসহায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসআরবি-পুলিশ এমনকি যৌথ বাহিনীর অভিযানেও বাগে আনা যাচ্ছে না কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য।
পুলিশ বলছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী এবং বিস্তীর্ণ মিরপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য সর্বাধিক। এসব এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধেও জড়িত বিভিন্ন কিশোর গ্রুপের সদস্যরা। এদের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক শেল্টার। ২৪-এর পটপরিবর্তনের পর বদলেছে রাজনৈতিক গডফাদার। বাস্তবে কিশোর গ্যাং সদস্যদের কোনো হেরফের হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দেশের রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কিশোর গ্যাং কোনোদিন বন্ধ হবে না। মূলত প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের ‘বড়ভাই’ নামধারী একশ্রেণির নেতারা রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াও তাদের নানামুখী অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করে। অন্ধ গলির এই পথ ধরে কেউ কেউ একসময় বড় মাপের সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে। কেউ কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাদক কারবারি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের স্থানীয় চাঁদাবাজ হিসাবে নিজেকে পরিচিত করে তোলে। তারা বলেন, বাস্তবতা এমন-কোনো গণমাধ্যম চাইলেও এদের আসল গডফাদারদের বিরুদ্ধে কিছু লিখতে পারবে না।
আলোচিত মোহাম্মদপুর : ২০২৪ সালেও মোহাম্মদপুরে পুলিশের তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং ছিল ১৩টি। কিন্তু বর্তমানে সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০। তবে তালিকার বাইরে আরও অন্তত ডজনখানেক গ্যাং সক্রিয়। এর মধ্যে লাড়া দে, ভইর্যা দেসহ বেশ কয়েকটি গ্রুপের হাতে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসআরবি-পুলিশ এমনকি সেনা অভিযানেও মোহাম্মদপুর এলাকার কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর বসিলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দই আর থাকবে না। তবে কমিশনারের এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার মাত্র ৫ দিনের মাথায় উলটো চিত্র দেখা যায়। ১৭ সেপ্টেম্বর সাদেক খান রোডে প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ছিনতাইয়ের শিকার হন হৃদয় মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী। তাকে দিনদুপুরে কুপিয়ে ২০ হাজার টাকাসহ মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
সরেজমিন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং, চন্দ্রিমা হাউজিং নদীর পাড়, একতা হাউজিং, চাঁদ উদ্যান, সাত মসজিদ হাউজিং, বসিলা চল্লিশ ফিট, বসিলা সিটি, রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, কলেজ গেট ও আসাদগেট এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। এসব এলাকায় প্রকাশ্যে একাধিক কিশোর গ্রুপের সদস্যদের অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়।
পুলিশ বলছে, মোহাম্মদপুর এলাকার অন্তত ২০টি কিশোর গ্যাংয়ের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই, ফরহাদ গ্রুপ, আলমগীর গ্রুপ, নবী গ্রুপ, ডাইল্ল্যা গ্রুপ, এলেক্স গ্রুপ, আকবর গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, রক্তচোষা গ্রুপ, ‘ল’ ঠেলা, আশরাফ গ্রুপ, স্টার বন্ড, ভাইব্বা ল, টক্কর ল, চেতাইলে ভেজাল, ঘুটা দে অন্যতম। এর বাইরে আদাবর এলাকায় সক্রিয় কবজি কাটা গ্রুপ, মেন্টাল গ্রুপ এবং মিরাজ গ্রুপ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোহাম্মদপুর এলাকার বেশির ভাগ কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পুলিশের তালিকাভুক্ত কতিপয় শীর্ষ সন্ত্রাসীর হাতে। এদের মধ্যে লাল্লু ওরফে কিলার লাল্লু, ইব্রাহিম চৌধুরী ওরফে কিলার ইব্রাহিম, আরিফ ওরফে চাপা আরিফ, মাহী, শাওন ওরফে শুটার শাওন, তাবরেজ ও রবিন অন্যতম। এছাড়া আদাবর এলাকায় সজিব আহমেদ ওরফে রানা, মেন্টাল রাসেল, মিরাজ, বাবু ওরফে এক্সেল বাবুর নেতৃত্বে একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এর বাইরে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতার বিরুদ্ধেও কিশোর গ্যাং লালন-পালনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় বিএনপি নেতা এম এ মান্নান ওরফে শাহীন ও বসিলা এলাকায় ডেভেলপার ব্যবসায়ী শামীম এবং হাজি আহমেদ আলীর শেল্টারে রয়েছে একাধিক কিশোর গ্যাং। এছাড়া কৃষি মার্কেট এলাকায় বিএনপি নেতা এনায়েতুল হাফিজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্ছি হেলালের হয়ে কাজ করে যুবদল নেতা জাহিদ মোড়ল এবং আদাবর এলাকায় কথিত যুবদল নেতা রানার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং লালন-পালনের অভিযোগ পাওয়া যায়।
উত্তরায় আতঙ্ক : উত্তরায় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির অন্যতম বড় স্পট ৯ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন আবদুল্লাহপুর এলাকা। স্থানীয় প্রিন্স গ্রুপের অন্তত ৫০ জন সদস্যের হাতে আবদুল্লাপুর এলাকা রীতিমতো জিম্মি। স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, মাছের আড়ত এবং আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি তারা নানা ধরনের অপরাধে জড়িত। পুলিশ বলছে, প্রিন্স গ্রুপের লিডার স্থানীয় যুবদল নেতা বাবু ওরফে প্রিন্স বাবু। গ্রুপের বেশ কয়েকজন সদস্য চিহ্নিত অপরাধী হিসাবে পুলিশের তালিকাভুক্ত। এদের মধ্যে রানা, বাদশা, কাউন্টার বাবু ও শান্তসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মিলন মিয়ার প্রশ্রয়ে প্রিন্স বাবু বেপরোয়া। অবশ্য মিলন মিয়া নিজেও একাধিকবার চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন। পরে দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
বিগবস গ্রুপ : উত্তরা এলাকার কুখ্যাত কিশোর গ্যাং বিগবস গ্রুপ। এদের সদস্য সংখ্যা ৫ শতাধিক। গ্রুপের মূল হোতা ছোট খান ওরফে বিগবস বর্তমানে কারাবন্দি। তবে তার অনুসারীরা উত্তরা ও দক্ষিণ এলাকায় সক্রিয়। মূলত টঙ্গীর বাস্তুহারা বস্তি ঘিরে বিগবস গ্রুপের জন্ম হলেও ৭ নম্বর সেক্টর এবং আশপাশের এলাকায় তাদের বিচরণ। গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে শাওন, শাহিন, মোবারক, রেদোয়ান, গ্যাঞ্জাম সানি, ইমন, আশরাফ, পাপ্পু এবং শিমুল অন্যতম। ছোটন ওরফে বিগবস তেজগাঁও এলাকার মিজানুর রহমান মিজান নামের জনৈক বিএনপি নেতার আপন ছোট ভাই।
দে লাড়া গ্রুপ : উত্তরা এলাকার আরেক আলোচিত কিশোর গ্যাং দে লাড়া গ্রুপ। গ্যাং লিডার সাকিব হাসান সানি ওরফে পিচ্চি সানি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। তার সঙ্গে রয়েছেন আরেক নেতা উত্তরা পূর্ব থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রায়হান ইসলাম ওরফে লাপাত্তা রায়হান। এলাকায় তিনি ইয়াবা ডিলার হিসাবে পরিচিত।
স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় এই গ্রুপের আস্তানা। তবে উত্তরা এলাকাজুড়ে আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই, মারামারি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে গ্রুপের সদস্যরা জড়িত। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন এলাকায় মারামারির ঘটনায় এই গ্রুপের নাম সামনে আসে। গ্রুপ লিডার সাকিব হাসান ইতোমধ্যে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু এতেও তাদের তৎপরতা বন্ধ হয়নি। দে লাড়া গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সাইফুল, শিপু, ফারুক, আসাদুল, ফাহিম ও শহিদুল অন্যতম।
শাহিদ গ্রুপ : উত্তরায় সক্রিয় আরেকটি কিশোর গ্যাংয়ের দলনেতা হলেন সুমন ওরফে শাহিদ। তিনি দক্ষিণখান ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় সদস্যদের মধ্যে আবির, মাহতাব, নেহাল ও রাতুল অন্যতম। এ গ্রুপের সঙ্গে দে লাড়া গ্রুপের পিচ্চি সানি, লাপাত্তা রায়হান এবং টঙ্গী আরিচপুর এলাকার আরেক কিশোর গ্যাং লিডার ল্যাংড়া সবুজের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
দেওয়ান গ্রুপ : উত্তরাভিত্তিক কিশোর গ্যাং নেটওয়ার্কের আরেকটি সক্রিয় অংশ পরিচালনা করে দক্ষিণখান এলাকার ফরহাদ দেওয়ান। তার নামেই দেওয়ান গ্রুপের নামকরণ করা হয়েছে। দক্ষিণখান এলাকার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুলতলা-মোল্লারটেক এলাকায় দেওয়ান গ্রুপের তৎপরতা রয়েছে। সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে রুবেল ওরফে আউলিয়া রুবেল, ডিব্বা রনি, মশলা মামুন, মূসা, কসাই বাবু, সেলিম, আলামিন, রুকু ও সুমন অন্যতম। ফরহাদ দেওয়ানের শেল্টারদাতা হলেন এস এ খোকন নামের জনৈক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা।
সেক্টর ইলেভেন গ্রুপ : উত্তরা-১০ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন রানা ভোলা ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় সিনহা গ্রুপ সক্রিয়। গ্রুপ লিডার তুরাগ থানা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সিনহা রহমান। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে আলিফ, আলবিন, সিয়াম, জহির, আরাবিয়ানসহ অন্তত ডজনখানেক নাম রয়েছে পুলিশের খাতায়। রানাভোলা-সবুজছাতা এলাকার যৌতুক রোডসংলগ্ন এলাকায় ইলেভেন গ্রুপের বিশেষ টর্চার সেল রয়েছে।
নুর খান গ্রুপ : উত্তরা ১০ ও ১১ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন ফুলবাড়িয়া ও টেকপাড়া এলাকায় সক্রিয় নুর খান গ্রুপ। দলনেতার নাম নুর মোহাম্মদ ওরফে নুর খান। তিনি পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের জনৈক নেতার চাচাতো ভাই। নুর খান গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে আরিফ ওরফে মুরগি আরিফ, নূরনবী এবং আলম অন্যতম। সদস্যদের বিরুদ্ধে মারামারি, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ আরও নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
হৃদয় গাজী গ্রুপ : উত্তরা ৫ ও ১৪ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন তুরাগের পাকুরিয়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় সক্রিয় হৃদয় বাহিনীর সদস্যরা। এদের মধ্যে সোলেমান, জয়, শাহিন, যুব, স্বাধীন ও রিবুল অন্যতম।
উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের আরেক হটস্পট ৩ নম্বর সেক্টরের রাজলক্ষ্মী ও আজমপুর এলাকা। বিশেষ করে রাজলক্ষ্মী মার্কেটের পেছনে স্বপ্নের গলি, আজমপুর আমির কমপ্লেক্স মার্কেটের পেছনে কিশোর গ্যাং সদস্যদের সক্রিয় দেখা যায়। তাদের কেউ কেউ ফুটপাতে ভ্যান ও অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে চাঁদা আদায় করে। এছাড়া ৫ ও ৭ নম্বর সেক্টরেও কিশোর গ্যাংয়ের আনাগোনা দেখা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় তাদের তৎপরতা বাড়ে। এদের গডফাদারের ভূমিকায় রয়েছেন শাহজাদা সাজু ও সালাহউদ্দিন নামের দুই ছাত্রনেতা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের লেকপাড় এবং ফুলবাড়িয়ার ওয়াসা মাঠ ঘিরেও বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মুরগি আরিফ, নূরনবী এবং আলমের নেতৃত্বে দাঙ্গাহাঙ্গামা, মারামারি, ছিনতাই, মাদকসেবনসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। এছাড়া গ্রুপটির বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও ভাড়া খাটার অভিযোগ রয়েছে।
মিরপুরজুড়ে তাণ্ডব : মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার বাউনিয়া বাঁধ, লালমাটিয়া, পলাশনগর এলাকায় সক্রিয় একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছেন জোবায়ের হোসেন ওরফে জনি নামের জনৈক ছাত্রনেতা। তার আওতাধীন একেকটি গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০ জন। এছাড়া পল্লবী থানা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধেও কিশোর গ্যাং লালন-পালনের অভিযোগ রয়েছে। ওই নেতার সহযোগীদের মধ্যে শিপন, সায়েম এবং শুভ ওরফে পাগলা শুভ অন্যতম।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাউনিয়া বাঁধ বি-ব্লকের কলাপট্টি থেকে কালশী স্ট্যান্ড পর্যন্ত ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে স্থানীয় সানি গ্যাংয়ের হাতে। এদের সদস্য সংখ্যা অর্ধশতাধিক। এদের বেশির ভাগই মাদক ও ছিনতাই মামলার আসামি। এছাড়া অ্যাভিনিউ-৫, আদর্শনগর, পলাশনগর, নান্নু মার্কেট এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং সদস্য ইব্রাহিম, রায়হান, মানিক, মিরাজ, আকাশ, পারভেজ ওরফে অ্যাভিনিউ-১৭ এর পারভেজ, ইমন, চোরা শাহিন ও আতিক পুলিশের তালিকাভূক্ত। তবে সম্প্রতি এদের বেশ কয়েকজন এসআরবি’র হাতে গ্রেফতার হন।
সূত্র জানায়, স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ভইর্যা দে গ্রুপের প্রধান আশিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে মিরপুর এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এছাড়া শাহ আলী থানা এলাকায় সক্রিয় কয়েকটি কিশোর গ্যাং সদস্যরা ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের হয়ে কাজ করে। শাহ আলী থানায় তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্যদের মধ্যে আমির খসরু ওরফে রবিন, সৈকত, ইমন, সুমন ওরফে নাডা সুমন, ডিজে সোহেল ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা টুকি। দারুস সালাম এলাকায়ও একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয়। স্থানীয় থানায় কিশোর গ্যাং সদস্য হিসাবে তালিকাভুক্তরা হলেন কোটবাড়ী এলাকার সম্রাট, হিমেল, রাহুল, তানভীর, মাইদুল, আলিফ, রাজা ও আল আমিন।
পুলিশ বলছে, ২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণকারীও বদলেছে। আগে আওয়ামী লীগ এবং তাদের সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একাধিক গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিএনপিসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের হাতে। একই সঙ্গে বেড়েছে সদস্য সংখ্যা। আগে প্রায় দুহাজার সদস্যের নাম ছিল পুলিশের তালিকায়। কিন্তু বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজারেরও বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত কিশোর গ্রুপের সংখ্যা দেড় শতাধিক হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি।
রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ওসমান গণি সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ডিএমপিতে কিশোর গ্যাং নামের কোনো শব্দই আর থাকবে না। শিগ্গিরই এ বিষয়ে বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে। তবে সন্তানদের যথাযথভাবে বড় করে তোলার দায়িত্ব পরিবারের। ফলে সন্তানরা কোথা যায়, কাদের সঙ্গে মিশছে সে বিষয়গুলোর প্রতি অবশ্যই পরিবার থেকেই খেয়াল রাখতে হবে।