রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস, সেশনজটহীন শিক্ষা কার্যক্রম এবং উচ্চমানের গবেষণার জন্য বিশেষভাবে খ্যাত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আবাসন-ক্লাসরুম সংকট, অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনার অভাব ও প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। মোট শিক্ষার্থীর ৬৯-৭০ শতাংশ আবাসন সংকটের কারণে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সেমিনার লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ল্যাবের ঘাটতি রয়েছে। অনেক ডিসিপ্লিনে সীমিত সংখ্যক ক্লাসরুমে গাদাগাদি করে ক্লাস নিতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘকাল পরও এসব মৌলিক সংকট যেন এ ক্যাম্পাসের নিত্যদিনের বাস্তবতা।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলে ১৯৯১ সালে খুলনার গল্লামারীতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রায় ১০৫ দশমিক ৭৫ একর আয়তনে আটটি অনুষদের অধীনে ২৯টি ডিসিপ্লিনে ৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেসে বা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়, যা ছাত্রদের জন্য চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করে। ছাত্রদের তিনটি হলে ১ হাজার ৩১৫টি ও মেয়েদের দুটি হলে ১ হাজার ৫৫০টি সিট রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যে পরিমাণ নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, সেই তুলনায় পর্যাপ্ত আবাসন নেই। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম জানান, আবাসনসংকট মোকাবিলায় আরও তিনটি হল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার ডিডিপি প্রস্তুত করা হয়েছে।
শুধু আবাসনই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯টি ডিসিপ্লিনে ক্লাসরুমের সংখ্যা ৯৮টি, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকাংশে সীমিত। অনেক ডিসিপ্লিনকে মাত্র দুই থেকে তিনটি ক্লাসরুম নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। ফলে ক্লাসের সময়সূচি নির্ধারণ, পরীক্ষা আয়োজন এবং একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়। জীববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক ডিসিপ্লিনের জন্য পর্যাপ্ত মাঠ গবেষণা ও আধুনিক সুযোগসুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৫১৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময়ে ফিরে আসেননি অন্তত ৩৪ জন শিক্ষক।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম জানান, বিশেষ করে নতুন ডিপার্টমেন্টগুলোতে শিক্ষকসংকট প্রকট। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষকদের বড় একটা অংশ বিভিন্ন প্রশিক্ষণে বিদেশে থাকেন। এ সময় সংকটটা বড় হয়ে দেখা দেয়। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে একটি মাত্র কেন্দ্র্রীয় মাঠ রয়েছে, তবে সংস্কারের অভাব এবং বর্ষার মৌসুমে পানি জমে ও কর্দমাক্ত হয়ে এটি খেলাধুলার প্রায় অনুপযোগী। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় পর্যাপ্ত খেলার মাঠ বা ইনডোর-আউটডোর সুবিধার অভাব রয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায়ই অসন্তোষ দেখা যায়।