Image description

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের মেম্বার শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে গত দুই বছরে প্রতিবন্ধী ভাতার প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ বছরও প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ ১৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে পেয়েছেন মাত্র ৩ লাখ টাকা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে তাঁকে এ নিয়ে আক্ষেপ করতে শোনা যায়।

ভিডিওতে তিনি তথ্য দেন, প্রতিবন্ধীদের ভাতা যে মোবাইল ফোন নম্বরে যায়, সেই সিম এক বছর নিজেদের কাছে রেখে দেন সংশ্লিষ্টরা। বছরে জনপ্রতি ১০ হাজার ৮০০ টাকা করে ভাতার টাকা নিজেরাই রেখে দেওয়ার পর ভাতাভোগীদের সিম ফেরত দেওয়া হয়। এ নিয়ে ভাতাভোগীদের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। শাহাদাত হোসেন আরও তথ্য দেন, সম্প্রতি স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া বাগমারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান এ বছর ভাতাভোগীদের সিম নিজের কাছে রেখে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাঁর সহযোগী আরিফ হোসেনের কাছে এখনো প্রায় ১৯০টি সিম রয়েছে।

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বিশেষ ও শিক্ষা ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের এমন অভিযোগ উঠেছে। প্যানেল চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে অনেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সুস্থ ব্যক্তিকেও প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পল্লি ঘুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তালিকায় থাকা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ৭৬১ জন শিক্ষার্থীরও কোনো হদিস মেলেনি।

ভাতাভোগীদের নাম-পরিচয় জানতে চাইলে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনিরা খাতুন এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। বাগমারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিনুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরেজমিন তদন্ত করব।’ জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।