জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করেই লিটারপ্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত রোববার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ডিজেলের দাম ১১৫ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশেও বাড়ানো হলো জ্বালানির দাম। অবশ্য বৈশ্বিকভাবেই জ্বালানির দাম আগে থেকেই বাড়তি ছিল।
প্রতিবেশী ভারতের দিল্লিতে গতকাল পেট্রোলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ১৩১ টাকা এবং ডিজেল ১২২ টাকা। কলকাতায় পেট্রোল প্রায় ১৪৫ টাকা ও ডিজেল ১২৮ টাকা। আর মুম্বাইয়ে পেট্রোল প্রায় ১৪২ টাকা এবং ডিজেল ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
প্রতিবেশী আরেক দেশ পাকিস্তানে জ্বালানির দাম বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর কার্যকর দামে সেখানে পেট্রোল ৩৮৯ দশমিক ১৪ পাকিস্তানি রুপি এবং উচ্চগতির ডিজেল ৪২৪ দশমিক ০৪ রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা যথাক্রমে প্রায় ১৭২ ও ১৮৮ টাকা। এছাড়া পাশর্^বর্তী দেশ নেপালে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রায় ২০০ নেপালি রুপি লিটার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১৬০ টাকা। অর্থাৎ সেখানে পেট্রোলের দাম বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় সমান, আর ডিজেলের দাম বেশি।
দেশে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও সাধারণ ভোক্তার দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাড়তি চাপের মুখে পড়বে, শেষ পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাই ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মত ব্যবসায়ীদের। এর আগে গত শনিবার নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করে সরকার। যার প্রভাব জনজীবনে আসতে না আসতেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি একসঙ্গে সব কিছুর দামে প্রভাব ফেলবে, যা মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মত বিশ্লেষকদের। তবে কেবল বেতন বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় কোনো সরাসরি প্রভাব না-ও পড়তে পারতো। কিন্তু একসঙ্গে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা পণ্যের দাম আরো বাড়িয়ে দেবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে তেলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার। জনগণের যে কষ্ট হবে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম আবারও সমন্বয় করে আগের পর্যায়ে বা তার চেয়েও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর বহুমুখী চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার বহুমুখী প্রভাব পড়ে। এটি কৃষি ও পরিবহন খাত এবং পরবর্তীতে শিল্প ও কলকারখানাকেও প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে ২০ টাকা দাম বাড়ানোটা অনেক বড় একটি বৃদ্ধিÑএকবার ভেবে দেখুন, শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে বাসের খরচ কতটা বাড়বে এবং ভাড়ার ওপর এর কী প্রভাব পড়বে। অর্থনীতিবিদ নাজনীন মত দেন, সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একযোগে না বাড়িয়ে সরকারের উচিত ছিল আরো সুপরিকল্পিত বা ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেয়া।
তিনি বলেন, যদি লক্ষ্য হয় ভর্তুকির বোঝা কমানো, তবে তা ধাপে ধাপে করা যেত। গত দুই মাসে মূল্যস্ফীতি বাড়ার হার কিছুটা কমেছিল, কিন্তু এই পদক্ষেপটি নতুন ধরনের চাপের সৃষ্টি করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ডিজেল ও কেরোসিন মূলত দরিদ্র পরিবার, গণপরিবহন এবং শিল্পখাতে বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই আমার মনে হয় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত রাখা উচিত ছিল এবং পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়িয়ে ভর্তুকির বিষয়টি সমন্বয় করা যেত।
নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে ড. নাজনীন বলেন, কেবল বেতন বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় কোনো সরাসরি প্রভাব না-ও পড়তে পারে; তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার সাথে একই সময়ে এটি ঘোষণা করায় মানুষের প্রত্যাশা বেড়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, আলাদাভাবে দেখলে হয়তো বেতন কাঠামো পরিবর্তনের খুব একটা প্রভাব পড়ত না, কিন্তু দু’টি ঘটনা একই সময়ে ঘটায় মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রত্যাশা বেড়ে যাবে এবং তা পণ্যের দাম আরো বাড়িয়ে দেবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ইনকিলাবকে বলেন, সরকার হয়তো অনেকটা নিরুপায় হয়েই এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চ মূল্যের কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) লোকসান হচ্ছিল। প্রতি লিটারে যে ৮৯ টাকা করে ভর্তুকি দিতে হচ্ছিল, দাম বাড়ানোর ফলে তা কিছুটা কমে আসবে। তিনি বলেন, তবে শুধু দাম বাড়িয়েই সমস্যার পুরো সমাধান খোঁজা উচিত নয়। সরকারের উচিত হঠাৎ করে এভাবে অনির্ধারিতভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা থেকে সরে আসা। এর বদলে পূর্বে চালু থাকা বাজারভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা দরকার। তিনি মনে করেন, এই প্রক্রিয়া চালু থাকলে প্রতি ১৫ দিন বা এক মাস পর পর আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে মিল রেখে দাম সমন্বয় হবে, যাতে সাধারণ জনগণ, পরিবহন ব্যবহারকারী, শিল্প মালিক কিংবা কৃষকÑসবার ভেতরেই একটি অনুমানযোগ্যতা থাকবে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোতে তেল পাচারের ঝুঁকি থাকার কারণেও এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে’। এ বিষয়ে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, প্রতিবেশী দেশে পাচার হওয়ার ঝুঁকি একেবারে অমূলক নয়, তবে এটি মূল্যবৃদ্ধির প্রধান বা বড় কোনো ফ্যাক্টর নয়। মূল বিষয় হলো বিপিসি’র ওপর চাপের দায় কিছুটা কমানো। অন্য দেশের ওপর দায় চাপিয়ে রাজনৈতিকভাবে হয়তো কিছুটা বাহবা পাওয়া যায়, তবে বাস্তব চিত্রে এটি খুব বড় কারণ নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু রাখলে এই পাচারের আশঙ্কা এমনিতেই দূর হয়ে যায়। তাই কেবল প্রতিবেশীদের দিকে আঙুল না তুলে আমাদের নিজস্ব জ্বালানি নীতি ও কাঠামোর দুর্বলতাগুলো দূর করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ ইনকিলাবকে বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শিল্প ও পরিবহন খরচ এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাড়তি চাপের মুখে পড়বে, যা শেষ পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাই ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, দেশ বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। শিল্পখাত পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, যার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার অত্যন্ত কম।
এমন এক সময়ে কারো সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই জ্বালানি তেলের দাম ১৫ শতাংশেরও বেশি বাড়ানো হলো, যা সব খাতেই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্পোৎপাদন ও পরিবহন খরচ এবং মুদ্রাস্ফীতিÑসবই বাড়বে। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। মানুষ চাকরি হারাবে এবং অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তাদের কার্যক্রম সংকুচিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়বে। সরকার যে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিল, তা পূরণ করতে পারবে না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিএনপি প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দেবে। সামগ্রিকভাবে, এটি একটি আর্থ-সামাজিক সংকট সৃষ্টি করবে।
এদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যেই পরিবহন খাতে পড়তে শুরু করেছে। বাস, ট্রাক ও অন্যান্য গণপরিবহনে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বের হওয়া মানুষজন বাড়তি ভাড়ার কারণে পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বাগি¦ত-ায় জড়াচ্ছেন।
একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, সবকিছুর দাম বাড়ে, শুধু আমাদের বেতন বাড়ে না। প্রতিদিন বাসে যাতায়াত করতে হয়। তিনি জানান, ‘সকালে অফিসে আসার সময় বাসে ডাবল ভাড়া দাবি করছে’। প্রতিবাদ করলে হেলপার বলে তেলের দাম বাড়ার জন্য বাসের ভাড়াও বাড়তি দিতে হবে। এ নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এস এম আহমেদ খোকন বলেন, জ্বালানির দাম কত শতাংশ বাড়লে ভাড়া কেমন বৃদ্ধি করা যাবে এমন প্রস্তাবনা আগে থেকেই আছে। সেই সঙ্গে আমাদের কিছু চাওয়া-পাওয়া সরকারের কাছে আমরা তুলে ধরবো। ইতোমধ্যেই কিছু কিছু রুটে বাসের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএ’র এক কর্মকর্তা বলেন, পরিবহন খাতের সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে ভাড়া বাড়াতে মালিকপক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব কৃষি খাতেও পড়েছে। বাংলাদেশের কৃষিখাত ব্যাপকভাবে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়ায় ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যা কৃষকদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে ফেলবে। দিনমজুর, রিকশাচালক ও পোশাক শ্রমিকদের মতো প্রান্তিক মানুষেরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে বড়লোকদের কিছু যায় আসে না, মরণ হয় আমাদের মতো গরিবের। একবেলা খেলে অন্য বেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। সরকারের উচিত সাধারণ মানুষের দিকে তাকিয়ে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।
রাজনৈতিক দলগুলোও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, এমনিতেই গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। দ্রব্যমূল্যে ঊর্ধ্বগতিতে জনসাধারণের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকার এসব সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান করতে পারছে না। মুক্তবাজারের নিষ্ঠুর কষাঘাতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের ওপর রাষ্ট্র আবারও চাপিয়ে দিলো এক চরম জুলুমের বোঝা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, যখন মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ না করে দাম বৃদ্ধি ও জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে সরকারের তথাকথিত লোকসান কমানোর এই নীতি সরাসরি আমজনতার পকেট কাটার শামিল।
এ বিষয়ে গতকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারের আন্তরিকতার কথা স্বীকার করে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম অনেক কম। আমরা জ্বালানিতে ভর্তুকি দিচ্ছি। মূল্য সমন্বয়ের পরও লোকসান গুনতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ প্রফেসর আনু মুহাম্মদ বলেন, যৌক্তিকভাবে, আমরা এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছুই জানতাম নাÑতারা কোনো আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ এটি করে ফেলেছে। তেলের দাম কেন বাড়াতে হবে? বিশ্ববাজারে কি এখনই হঠাৎ দাম বেড়ে গেছে? সরকার ভোক্তাদের ওপর বোঝা না চাপিয়ে তেলের ওপর থেকে বিভিন্ন শুল্ক ও কর কমাতে পারত। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় রাতারাতি পরিবর্তন আসেনি, তাই জ্বালানি ও তেল-গ্যাস খাতে সরকারের নীতিতেও ধারাবাহিকতা থাকবে।
বিপিসি’র চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি লিটার ডিজেলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে ৯০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসি’র নিজস্ব তহবিলের লোকসান হয়েছে ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে এপ্রিলে লোকসান সাত হাজার ৮৬৬ কোটি এবং জুনে ছয় হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে লোকসান পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ১০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।