চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত সরকারের সবচেয়ে আলোচিত ডিরেগুলেশন (বিনিয়ন্ত্রণ) পদ্ধতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশে ব্যবসাবাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ না আসার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সময়মতো পরিষেবা না পাওয়া।
আমরা ডিরেগুলেশনের মাধ্যমে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাই। সম্প্রতি অর্থ বিভাগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ডিরেগুলেশনের পথনকশা তুলে ধরা হয়। এতে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, ডিরেগুলেশন (বিনিয়ন্ত্রণ) পদ্ধতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগসংক্রান্ত কোনো ইস্যুতে সরকারের এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ছুটতে হবে না। এজন্য এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে সব ধরনের সেবা কার্যক্রম।
কোন অনুমোদন কোথা থেকে নিতে হবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে, কত দিনে সেবা পাওয়া যাবে-এসব তথ্য এক জায়গা থেকেই পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পথে অপ্রয়োজনীয় লাইসেন্স, অনুমোদন, ছাড়পত্র ও প্রশাসনিক ধাপ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এজন্য ব্যবসা-বিনিয়োগসংক্রান্ত কয়েকটি সংস্থাকে একত্রিত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ গঠন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বন্দরে পাবেন অগ্রাধিকার সেবা। এ দেশে শিল্প স্থাপন করে তা থেকে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বন্দরে পাবেন বিশেষ সুবিধা। এমনকি শিপিংয়ের জন্য পৃথক জেটিও ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন তারা।
সূত্র আরও জানায়, বিনিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা সহজীকরণবিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের পর এর প্রথম দৃশ্যমান কার্যক্রম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বিশেষায়িত ওয়েব পোর্টাল ডিরেগুলেনডটগভডটবিডি। অর্থ বিভাগের ১৩ সেপ্টেম্বরের এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে এ পোর্টালের জন্য তাদের সেবার নাম, যথাযথ বিন্যাস এবং সেবাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে বলা হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু একটি ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ নয়- লাইসেন্স, অনুমোদন, ছাড়পত্র, কর, শুল্ক, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, নির্মাণ, পরিবেশ ও স্থানীয় সরকারি সেবার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের যে ধরনের নিয়ন্ত্রক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে কমানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে জাতীয় টাস্কফোর্সকে।