Image description

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রেলওয়ে কর্মীদের সংঘাত যেন থামছেই না। জুলাইয়ে ট্রেনের ভেতর এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের পর সেপ্টেম্বরে আরও দুই শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে টিটিই ও রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাবি’র শিক্ষার্থী পরিচয় পেলেই রেলকর্মীদের আচরণ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। তবে হঠাৎ করে এমন সংঘাত তৈরি হওয়ার পেছনে কারণ কী, রেলকর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধের সূত্রপাত কোথায় এবং সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

গত ২১শে জুলাই ফোরকান উদ্দীন নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন টিটি’র বিরুদ্ধে। ফোরকান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী ফেরার সময় যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করেন তিনি। এ সময় ৬-৭ জন টিটিই পেছন থেকে তার গলা ধরে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে যান। পরে তার ঘাড় ও পিঠে উপর্যুপরি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ট্রেনের জানালার ধারে নিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
এর প্রতিবাদে পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা চার দফা দাবি জানান। পরে রাজশাহী রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দাবিগুলো মেনে নেওয়া হলে প্রায় আট ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত টিটিইকে বরখাস্ত করা হয়। এর প্রায় দুই মাস পর ১৭ই সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের শিক্ষার্থী মৃন্ময় চক্রবর্তীকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে একাধিক টিটিই’র বিরুদ্ধে।

এরপর রোববার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের কথাকাটাকাটি হয়। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে বেধড়ক পেটান রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা। সেখানে রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা ‘চাকরি গেলে যাবে, তবু দুই একটা ছাত্র মরুক’— বলে হামলা করার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। মারধরের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজশাহী স্টেশনে গিয়ে ভাঙচুর চালান তারা। মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম।

তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোসাম্মৎ হাসিনা খাতুন, বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. মো. শাকিল আহমেদ, আরএনবি কমান্ড্যান্ট রেজওয়ানুর রহমান এবং বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আহমেদ ইশতিয়াজ জহুর তানিম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, ঘটনাগুলো বেশ উদ্বেগজনক। বারবার এগুলো ঘটে যাচ্ছে। রোববারের ঘটনার পরও আমি রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলি। এর আগেও তাদের সতর্ক করার চেষ্টা করেছি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। ঘটনার বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক বিষয় তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনারকেও আলাদা একটি কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, গত এক সপ্তাহ নয়, কিছুদিন ধরেই দেখছি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। অতীতের কোনো ঘটনায় সুস্পষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় তারা বারবার এমন সাহস পাচ্ছে।