ক্ষমতার ৭ মাস যেতে না যেতেই সরকার নানামুখী ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে কিনা তা নিয়ে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, একদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার হুমকি দিচ্ছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল হুমকি দিচ্ছে একদফা আন্দোলনে যাওয়ার। তবে সরকারকে শুধু এই দুই ইস্যু মোকাবিলা করতে হচ্ছে তা নয়; অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন, এমনকি অর্থনৈতিক সেক্টরেও নানামুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের অশনিসংকেত স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, সরকার ও বিরোধী দল এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠবে। এর সুযোগ নিতে পারে জুলাই গণ-আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ।
ইতোমধ্যে ওই দলটির উসকানিতে রাজধানী ঢাকায় একের পর এক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশের একটি অংশের ভূমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে। বলা হচ্ছে, এই অংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে পালিয়ে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের। পুলিশের পাশাপাশি সিভিল প্রশাসনও ফ্যাসিবাদমুক্ত কিনা সে আলোচনাও উঠছে।
ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরীর মতে, রাষ্ট্রের পরাজিত ও ক্ষমতাচ্যুত শক্তি সবসময়ই দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া থাকে। তারা সরকারকে বিপদে ফেলতে চায়। তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে যারা দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলেছিল তারাই আজ পুনরায় ফেরার চক্রান্ত করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী ও গভীর চক্রান্তের অংশ। তিনি বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই পরাজিত গোষ্ঠী নানা ধরনের খেলা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে। তারা চায় সরকারের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে, ক্রাইসিস তৈরি করতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলতে।
‘শেখ হাসিনা ফিরে আসার সম্ভাবনা কম হলেও তাদের পলাতক সহযোগীরা বিভিন্ন উপায়ে আস্তে আস্তে ফিরে এসে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এজন্য পরাজিত শক্তির চক্রান্ত রুখতে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিতে হবে। দেশের বাইরের পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থে তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে’-যোগ করেন তিনি।
সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, একদিকে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের হুমকি, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন-সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের অশনি সংকেত ও চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তো থাকবেই। কারণ সাড়ে ১৫ বছরে সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে আওয়ামী লীগ তাদের আস্থাভাজন লোকদের বসিয়েছিল। তবে রাজনীতিতে বর্তমানে নৈতিক শক্তির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। রাজনীতি এখন অনেকাংশেই সুবিধাবাদী, স্বার্থান্বেষী এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত রূপ ধারণ করেছে, যা সাধারণ মানুষের কল্যাণে আসে না। বর্তমান সরকারকে এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তবে আওয়ামী লীগ দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে কিছুটা সক্ষম হলেও তাদের ফিরে আসার মতো নৈতিক শক্তি নেই।
অনেকের মতে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই হয়তো সব বিষয়কে সরলতার সঙ্গে দেখার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের ভেতরে-বাইরে কারা প্রকৃত বন্ধু, কারা সুযোগসন্ধানী কিংবা ষড়যন্ত্রকারী-তা বুঝতে কিছুটা সময় লাগছে। নানা তৎপরতার কারণে সরকারের আসল সুহৃদ বা শুভাকাঙ্ক্ষী কারা সেটি চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারকে বিভিন্ন কুচক্রী মহলের সাজানো ‘টোপ’-এর মুখেও পড়তে হচ্ছে; এমনকি গোয়েন্দা রিপোর্টেও বিভ্রান্তিকর তথ্য উঠে আসছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এদেশে ইংরেজদের অলিখিত ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ (ডিভাইড অ্যান্ড রুল) নীতি। প্রশাসন, পুলিশ ও পেশাজীবীদের বিভিন্ন অংশ পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘ব্লেম গেমে’ (দোষারোপের রাজনীতি) মেতে উঠেছেন। নিজের হিসাবের সঙ্গে না মিললেই প্রতিপক্ষকে জামায়াত বা আওয়ামী লীগের দোসর বলে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রত্যেকেই করছে নিজের সুবিধা আদায়ের জন্য। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে কে বিএনপি কিংবা বর্তমান সরকারের প্রকৃত সুহৃদ, তা চিহ্নিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের একটি সুবিধাবাদী অংশ নিজেদের পছন্দমতো লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে বসানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনেকে ক্ষেত্রেই সরকারের নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারছেন না কে কার লোক! ওইসব লোকেরা সরকারের সার্বিক স্বার্থ দেখার বদলে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখছেন। এতে কোথাও কোথাও সরকারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ছে কিনা সে প্রশ্ন উঠছে। বলা হচ্ছে, সরকার আসলে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পারছে কিনা?
সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সম্প্রতি দুটি ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথমত, ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল করে। এ ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায় এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সূত্র ধরে গুলশান মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন এবং গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। দ্বিতীয়ত, ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের একটি অডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে; যেখানে তাকে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গেছে। বুধবার ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও বার্তায় রাকিবুল হাসান বলেছিলেন, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলে এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’ এমনকি অডিও বার্তায় সরকার, প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সমালোচনাও করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ওসি পদায়নে টাকা লেনদেনের অভিযোগও করেন তিনি।
এছাড়া, শুক্রবার রাজধানীর তিনটি স্পটে বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই দিন রাতেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ভারতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘটনায় প্রমাণিত হচ্ছে, ভারতে বসে রাজনীতি করার সুযোগ পাচ্ছেন হাসিনা। একই দিনে রাজধানীর ৭টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবারও রাজধানীতে একাধিক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন দেশের ভিডিও বা ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বর্তমান সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা ছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তার নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী ধারাবাহিক লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে। এর আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ করেছেন তারা। শনিবারের লংমার্চ থেকে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাদের দাবি মানা না হলে বর্তমান আট দফা পরবর্তীতে ‘একদফা’ আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। একদফা বলতে সরকার পতনের আন্দোলন বুঝিয়েছেন তিনি। এতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারকে চাপে রাখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে না দিতেই বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। বিশ্লেষকরা এসব ঘটনাকে দেশের রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত হিসাবে দেখছেন। তারা বলছেন, সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের সঙ্গে এই আন্দোলনেরও যোগসূত্র থাকতে পারে। বিএনপি ও জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, সরকারের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র সফল হলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপরই বড় আঘাত হয়ে আসবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যেসব ঘটনা ঘটছে, তাকে নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা চলে না। বরং এটি একটি বড় ধরনের সংকেত। প্রশ্ন হলো-এই পরিস্থিতি কি কেবল সরকারের জন্য সীমাবদ্ধ, নাকি এটি পুরো দেশের জন্য হুমকি? অতীতে দেখা গেছে, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলার মতো ঘটনা ঘটেছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেসময় বিষয়টিকে গভীর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিহতের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমান কিংবা আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে তা পুরো দেশের জন্যই বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। পরবর্তীতে ওয়ান-ইলেভেন আসাসহ দীর্ঘ সময়ের জন্য গণতান্ত্রিক রাজনীতি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার যুগান্তরকে বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের চাইতে আমি মনে করি সরকারের ভেতরেই ষড়যন্ত্রকারীরা আছে। তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকা গুলশানের মতো জায়গায়, আওয়ামী লীগ মিছিল করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। তার প্রমাণ ওসির বদলি এবং ওসির টেলিফোন কনভারসেশন। আমরা সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে জুলাই ঐক্য ধরে রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সরকার নিজেই যে বিভেদ তৈরি করছে, এ বিভেদ যেন আর তৈরি না করে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে চড়াও হচ্ছে, হামলা, মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে, তাতে মূলধারার রাজনীতিতে তাদের ফেরা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সন্ত্রাসীদের কায়দায় সহিংসতার পথ বেছে নিয়ে তারা কেবল সমাজে আতঙ্ক, ভীতি এবং সামাজিক নৈরাজ্য তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের বিরোধীরা শুরু থেকেই সরকারকে ব্যর্থ করার তৎপরতা চালাচ্ছে। এমনকি প্রধান বিরোধী দলও বিভিন্ন সময়ে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এটি ফ্যাসিস্টদের ফেরার পথ প্রশস্ত করছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রশাসনের ভিতরেও ষড়যন্ত্রকারীরা নানাভাবে তৎপর রয়েছে। বিশেষ করে যারা অভ্যুত্থান বা নির্বাচন মেনে নেয়নি, তারা সরকারের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র করতে পারে। এজন্য প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিষয়েও গভীর নজরদারি দেখাতে হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন মনে করেন, দেশে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আওয়ামী লীগের নাশকতা প্রতিরোধে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ থেকে যে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে, তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য একটি চিহ্নিত মহল অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গণহত্যাকারী ও পলাতক শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ধুয়া তুলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও কাপুরুষোচিত ঝটিকা মিছিল করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন।
এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার তুষার যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ। তবে আমরা কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগকে দাঁড়াতে দেব না। সরকার যত কৌশলই করুক না কেন-ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা আমরা রুখে দেব।