দেশে ক্যানসারে আক্রান্ত ১০০ পুরুষ রোগীর মধ্যে ১০ জনের প্রোস্টেট ক্যানসার বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। এ অবস্থায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হলে তা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শুরুতে শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর পক্ষে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। তাই ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের পর পুরুষকে প্রোস্টেটের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রোস্টেট ক্যানসার সচেতনতা মাস উদযাপন উপলক্ষে গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) হাসপাতালের শহীদ মিলন চত্বরে র্যালি-পরবর্তী আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জন্স (বিএইউএস) ও ঢামেক হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে দেখা দেওয়া অন্যতম প্রধান ক্যানসার। অন্য অনেক ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক কিছু লক্ষণ দেখা গেলেও প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রাথমিক লক্ষণ না-ও থাকতে পারে। প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তের জন্য রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসোনোগ্রাম এবং শারীরিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। রক্তের সিরাম পিএসএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। এ ছাড়া, ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশনের (ডিআরইউ) মাধ্যমে প্রোস্টেট গ্রন্থির আকার ও গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। প্রয়োজনে প্রোস্টেটের বিশেষায়িত আল্ট্রাসোনোগ্রাম, এমআরআই বা সিটিস্ক্যান করা যেতে পারে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তির দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা সম্ভব।
ঢামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে, তা দূরে ছড়িয়ে পড়া বা জটিলতা তৈরি করার আগেই চিকিৎসা করা সম্ভব। ফলে কম ওষুধ, সীমিত চিকিৎসা বা ছোট পরিসরের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই অনেকক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় করা যায়।
বিএইউএসের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, একজন ইউরো-অনকোলজিস্ট হিসেবে প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা, তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা-পরবর্তী ফলো-আপের সঙ্গে যুক্ত থাকা আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রোস্টেট ক্যানসার সময়মতো শনাক্ত করা গেলে অনেকক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।
বিএইউএসের সায়েন্টিফিক পার্টের সদস্য ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নাছির উদ্দিন কাজল বলেন, প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের মধ্যে একটি সাধারণ ক্যানসার। বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ পুরুষের (ক্যানসার আক্রান্ত) মধ্যে আট থেকে ১০ জন প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাময়মূলক চিকিৎসা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারের স্ক্রিনিং করা উচিত। আর যাদের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে, যেমন যাদের বাবা, ভাই, দাদা বা নানা প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন বা মারা গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়স থেকেই স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আওতায় আসা উচিত।