Image description

স্প্রেডের (ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদহারের ব্যবধান) সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ বেঁধে দেওয়া হলেও ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ৬টি ব্যাংক এই সীমায় আসতে পেরেছ। বাকি ৫৫টি ব্যাংকের স্প্রেড এখনো ৪ শতাংশের ওপরে। ১৪ ব্যাংকের স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে ও ৪ শতাংশের ওপরে। ৩৯টি ব্যাংকের স্প্রেড ৫ শতাংশের ওপরে। আর আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার বা কলমানির সদুহার ৮ শতাংশের ঘরে ও ভিত্তি সুদহার ৮ শতাংশের ঘরে রয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, বিনিয়োগ বাড়াতে ও ঋণের সুদহার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সম্প্রতি বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসাবে ঋণের সুদহার কমাতে মুদ্রাবাজারের ভিত্তি সুদের হার ১৫ এপ্রিল থেকে প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে এর ভিত্তিতেই গ্রাহকদের সঙ্গে ঋণ চুক্তি করতে হচ্ছে। আগে মুদ্রাবাজারের কলমানি সুদের হার সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশে ওঠেছিল। এখন তা কমে গড় সুদহার ৮ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে। ভিত্তি সুদ ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট এবং বাংলাদেশ ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট এখন ৮ শতাংশের সামান্য ওপরে অবস্থান করছে। এটা আগে ছিল ১২ শতাংশের ঘরে। ভিত্তি সুদের হার কমায় ব্যাংকগুলোর ধারের খরচ কমেছে। ফলে তাদের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও সামান্য কমছে। এ কারণে ঋণের সুদের হার কমাতে বাধ্য হচ্ছে ব্যাংকগুলো।

২৯ জুন থেকে ব্যাংকগুলোর ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদের হারের ব্যবধান বা স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগে এ হার ছিল প্রায় ৬ শতাংশ। ওই সীমা বেঁধে দেওয়ার পর ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের হার যেমন কমাচ্ছে, তেমনি কমাচ্ছে ঋণের সুদের হারও। এতে স্প্রেড কমছে। ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড কমে এখন ৫ দশমিক ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী কয়েক মাসে স্প্রেড আরও কমবে বলে আশাবাদী কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে ৬টি ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশের নিচে নেমেছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেওয়ার সীমার মধ্যেই রয়েছে। বাকি ৫৫টি ব্যাংকের স্প্রেড এখনও সীমার ওপরে রয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই আরও ৭টি ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে নেমে আসতে পারে। কারণ এসব ব্যাংকের স্প্রেড ৪ শতাংশের সামান্য ওপরে রয়েছে। ওই ৭টিসহ মোট ১৪টি ব্যাংকের স্প্রেড এখন ৪ শতাংশের ওপরে ও ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। ৩৯টি ব্যাংকের স্প্রেড এখনো ৫ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ ব্যাংকের স্প্রেড রয়েছে ৭ শতাংশের ওপরে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এসব ব্যাংককে স্প্রেড ৪ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি খাতের ৬ ব্যাংকের গড় স্প্রেড হচ্ছে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ; যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমার চেয়ে অনেক বেশি। আর সরকারি খাতের বিশেষায়িত ৩টি ব্যাংকের গড় স্প্রেড হচ্ছে ৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ; অর্থাৎ সীমার মধ্যে আছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড হচ্ছে ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ; যা সীমার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার বেশি ও আমানতের সুদহার কম বলে তাদের স্প্রেডও বেশি। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড হচ্ছে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ; যা সীমার চেয়ে বেশি।

যে ৬টি ব্যাংকের স্প্রেড সীমার মধ্যে নেমে এসেছে সেগুলো হলো-বাংলাদেশ ডেভেলপমন্টে ব্যাংক (১ দশমিক ৭৩ শতাংশ), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (৩ দশমিক ৪০ শতাংশ), প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক (৩ দশমিক ১৪ শতাংশ), ইসলামী ব্যাংক (৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ), কমার্স ব্যাংক (৩ দশমিক ৭১ শতাংশ) এবং মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট ব্যাংক (৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ)।

স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে ও ৪ শতাংশের ওপরে রয়েছে এমন ব্যাংকগুলো হলো-অগ্রণী, রূপালী, বেসিক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন, হাবিব, পূবালী, সীমান্ত, ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল, স্ট্যান্ডার্ড, ওয়ান, এক্সিম, প্রিমিয়ার ও মিডল্যান্ড ব্যাংক।

এদিকে ২ আগস্ট থেকে নীতি সুদের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর ধারের খরচ কমছে। আমদানি ও রপ্তানি খাতে বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্রেও সুদের হার ৪ শতাংশে থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব পদক্ষেপের ফলে সুদহার নিম্নমুখী হচ্ছে।