Image description

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অস্থায়ী কার্যালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডটি মূল পারমাণবিক স্থাপনার বাইরে হওয়ায় এতে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রভাবিত হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অগ্নিকাণ্ডে কিছু চেয়ার, আসবাব ও নথি পুড়ে গেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সার্ভারে থাকা তথ্য ও নথির ব্যাকআপ রয়েছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। আগুনের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা ঠিক করা হবে।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউনিট-১-এর পিওআরভি (প্রেসার-অপারেটেড রেগুলেটরি ভালভ) নিয়ে জটিলতার কারণে কমিশনিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আটকে আছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, তিনটি ভালভের মধ্যে একটি কাজ করছে। বাকি দুটিতে সমস্যা দেখা দেওয়ায় প্রায় দেড় মাস ধরে সেগুলো খুলে পরীক্ষা, পুনঃসংযোজন এবং তাপমাত্রা ও চাপের পরীক্ষা চলছে। সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ এসেছেন। তারা বর্তমানে রূপপুরে কাজ করছেন।

মন্ত্রীর ভাষ্য, ভালভে সমস্যা না থাকলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এখন নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

রূপপুরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রায় দুই হাজার ফ্লাশ টেস্টসহ ৪৭টি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। পরে আরও প্রায় ৯০টি পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে ভালভের সমস্যার কারণে এক পর্যায়ে কাজ থেমে যায়। সামনে আরও পরীক্ষা রয়েছে।

নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রকল্পটি দ্রুত চালুর চাপ থাকলেও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।

রূপপুরের বিদ্যুতের দামও এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় এবং বাকি পরীক্ষাগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় বলা সম্ভব নয়।