Image description

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজারের কাছাকাছি চলে গেছে। এখানে দিন দিন ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। সরকারি হিসাবের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও স্বাস্থ্য বিভাগ। নগরীর ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে। খুলনাকে ‘মহামারি এলাকা’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। খুলনা জেলায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমতে পারে বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার পাঠানো স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২১।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনা জেলায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। এই জেলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪৪৭ এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ৬৩০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৮৪৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫ হাজার ৭৯৩ এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৭৬ জন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, নির্ধারিত ডেঙ্গু ওয়ার্ড ছাড়িয়ে বারান্দা, মেঝে ও করিডরে বেড পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ম্যানেজার মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে ডেডিকেটেড ১৫টি বেড থাকলেও বর্তমানে চার গুণের বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে।

খুলনা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আইসোলেশন ইউনিটে অন্তত পাঁচটি করে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নরমাল স্যালাইন, খাওয়ার স্যালাইন, প্যারাসিটামলসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মশারির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত কিট রয়েছে।

খুলনা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার হিমেল ঘোষ বলেন, ‘আগে এডিস মশা শুধু দিনে কামড়ালেও বর্তমানে রাত-দিন সমানভাবে কামড়াচ্ছে।’ নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমতে পারে বলে তিনি জানান।

খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. শওকত আলী বলেন, এখন এডিস মশা শুধু স্বচ্ছ পানিতে নয়, ময়লাযুক্ত পানিতেও বংশ বিস্তার করছে।

 

খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নগরবাসীকে নিজ নিজ আঙিনা, টব ও ছাদ পরিষ্কার রেখে লার্ভামুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসতে হবে।

এদিকে খুলনাকে ‘মহামারি এলাকা’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন ড্যাব, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল মশকনিধনে ওষুধ ছিটানো, লিফলেট বিতরণ, বিনা মূল্যে রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং ও সেবাকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি সেন্টারে চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রক্তের গ্রুপ ম্যাচিং সুবিধাসহ ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হটলাইন নম্বর টাঙানো থাকবে এবং স্বেচ্ছাসেবী দল সার্বক্ষণিক কাজ করবে।’

এদিকে সংক্রমণ ও লার্ভার ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে কেসিসি নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করেছে। রেড জোন হিসেবে ঘোষিত ১০টি ওয়ার্ড হলো ১৭, ১৮, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০। অতি সংক্রামক ওয়ার্ড ১, ১৯, ২৬ ও ৩০ এবং মৃদু আক্রান্ত ২, ১০ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড।

কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শরীফ শামিউল ইসলাম জানান, মশকনিধনে তিনটি উচ্চপর্যায়ের তদারকি কমিটি সকালে ‘অ্যাবেট’ স্প্রে ও বিকেলে ফগিং করছে এবং লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।