নবম জাতীয় পে-স্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের স্বস্তি দিতে নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে সবার পেনশন সমান হারে বাড়ছে না। যারা কম পেনশন পান, তাদের বৃদ্ধির হার বেশি; আর বেশি পেনশনধারীদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম। অন্যদিকে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বহুল আলোচিত ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) এবারই পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এটি ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর প্রধান কারণ বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি। অর্থবিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কার পেনশন কত বাড়বে : মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে একজন পেনশনভোগী যে নিট পেনশন পাচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি স্তরে বৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ৯ হাজার টাকা বা কম-পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ, ৯,০০১ থেকে ২০ হাজার টাকা-বাড়বে ৭৫ শতাংশ, ২০,০০১ থেকে ৩০ হাজার টাকা-বাড়বে ৬৫ শতাংশ, ৩০,০০১ থেকে ৪০ হাজার টাকা-বাড়বে ৬০ শতাংশ এবং ৪০,০০১ টাকা বা বেশি-বাড়বে ৫৫ শতাংশ। ধরা যাক, কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী বর্তমানে মাসে ৯ হাজার টাকা নিট পেনশন পান। ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে তা দাঁড়াবে ১৮ হাজার টাকা। আবার ২০ হাজার টাকা নিট পেনশন পেলে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে হবে ৩৫ হাজার টাকা। ৩০ হাজার টাকা পেনশন হলে ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে দাঁড়াবে ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। ৪০ হাজার টাকা হলে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধিতে হবে ৬৪ হাজার টাকা। আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশনধারীদের জন্য বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। তবে প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত নিয়ম, সংশ্লিষ্ট সীমা ও অবসর-পরবর্তী সুবিধাগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
এখনই নয় ‘এক পদ এক পেনশন’ : সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে ছিল সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে এক গ্রেড এক পেনশন চালুর কথা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, একই পদ বা গ্রেড থেকে ভিন্ন সময়ে অবসর নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পেনশনের বড় ধরনের বৈষম্য দূর করা। বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক আগে অবসরে যাওয়া কর্মচারী একই পদে বর্তমানে অবসর নেওয়া ব্যক্তির তুলনায় কম পেনশন পাচ্ছেন। ওআরওপি চালু হলে একই পদ বা গ্রেডের অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে এই বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সামরিক ও বেসামরিক-উভয় ক্ষেত্রেই একই সঙ্গে ওআরওপি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কিন্তু এখন এটি করতে গেলে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারের হাতে না থাকায় একবারে ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।