রংপুর বিভাগের ৫৮১ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার ওপারে মাদক তৈরির অর্ধশতাধিক মিনি কারখানা গড়ে উঠেছে। এগুলোতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক উৎপাদন হচ্ছে। আর এগুলোই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে।
মাদক ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারে প্রায় অর্ধশত মিনি কারখানায় প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক।
এসব মাদক সীমান্তের পয়েন্ট গলিয়ে দেশে প্রবেশ করছে। প্রায় প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদক পাচারকারী এবং সেবনকারীরা গ্রেপ্তার হলেও থামানো যাচ্ছে না কারবার। সূত্র জানায়, লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে পাচার হওয়া মাদক প্রথমে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় প্রবেশ করে। এরপর শহর হয়ে বিভিন্ন স্থানে পাচার হয়। এ ছাড়া কুড়িগ্রামের সীমান্ত গলিয়ে সড়কপথে রংপুর নগরীতে মাদক আসে। এসব মাদকের একটি উল্লেখযোগ্য স্থানীয়রা সেবনের জন্য ব্যবহার করছে, বাদবাকি পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ ছাড়া দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও পঞ্চগড়ের সীমান্ত দিয়ে অভিনব কৌশলে প্রতিদিনই মাদক আসছে। পঞ্চগড় জেলার সীমান্ত পথ ব্যবহার করে উদ্বেগজনক হারে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় মাদক। স্থানীয় মাদক কারবারিদের সঙ্গে ভারতীয় চোরাচালানিদের সুসম্পর্কের ভিত্তিতে নিয়মিত চলছে এই অবৈধ কারবার। সীমান্তঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁও বহু বছর ধরেই মাদক চোরাচালানের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ করিডর হিসেবে পরিচিত। ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সীমান্ত ব্যবহার করে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, ট্যাপেন্টাডল, ডেক্সামেথাসনসহ বিভিন্ন মাদক জেলায় প্রবেশ করছে।
জেলার সাতটি থানার মধ্যে পাঁচটিই ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন। এখানে কমপক্ষে ৩০টি পয়েন্ট দিয়ে মাদক পাচার হচ্ছে।
দিনাজপুরে ১৪০ কিলোমিটার সীমান্তরেখায় পড়েছে দিনাজপুর সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও হাকিমপুর উপজেলার কিছু অংশ। সীমান্তের ৯৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার পড়েছে সদর উপজেলার ৪২বিজিবির অধীনে। বাকি অংশ ২৯ ও ২০ বিজিবির অধীনে পড়েছে। এসব সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন মাদক আসছে। লালমনিরহাট জেলার অলিগলিতে এখন মাদকের ছড়াছড়ি। হাত বাড়ালই মিলছে ফেনসিডিল, হেরোইন, আফিম, মদ, ইয়াবা। গাইবান্ধায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে মাদকের বিস্তার। শহর থেকে গ্রাম প্রায় সর্বত্রই ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল ও হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা রয়েছে। জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, কাপাশিয়া ইউনিয়ন দিয়ে, ফুলছড়ির বালাসিঘাট ও কাটাতারা এলাকা দিয়ে নৌকায়, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন যানবাহনে ছোট ছোট পথ ব্যবহার করে মাদক আনা-নেওয়া করা হচ্ছে।