ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বললেন, এলএনজি বহনকারী বাংলাদেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হবে না। মক্কা প্যাক্টের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাহাজও এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।
বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল ও এর বাইরের জনগণের স্বার্থে আঞ্চলিক উত্তেজনার দ্রুত অবসান এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বললেন, আমাদের সৌদি আরবের সঙ্গে কোনো চ্যালেঞ্জ বা বিরোধিতা নেই। তুরস্ক ও পাকিস্তান ইরানের খুব ভালো বন্ধু। আর সৌদি আরবের সঙ্গেও আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। এটি এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমরা ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলছি। তাই ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে আমাদের কোনো উদ্বেগ বা চিন্তা নেই।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: গতকাল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অনুষ্ঠিত তাদের বৈঠকে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সম্পর্ক জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আইএসপিআর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের পেশাগত সক্ষমতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং সৌদি আরবের শীর্ষ সামরিক অ্যাকাডেমিগুলোর মধ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও কোর্স বিনিময় আরও জোরদার করার ব্যাপারে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আইএসপিআর আরও জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি মানবিক সংকট মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের যৌথ অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের বিষয়ে উভয় পক্ষ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।