Image description
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ । বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় শিশুসহ নিহত ৫ । জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে পালটা আঘাত।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় আকারের পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে ইরানের বন্দর আব্বাসসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক মার্কিন হামলায় শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। জবাবে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানায় তেহরান। তারা বলছেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হতাহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরানের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী। জবাবে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। পালটাপালটি হামলার মধ্যে দুই পক্ষ আরও বড় হামলার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন সিরিক কাউন্টির পৌরকর্মী ৩৮ বছর বয়সী মাহমুদ টেলিফোনে রয়টার্সকে জানান, ওই এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা হয়েছে।

জবাবে বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, তাদের বর্তমান লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে থাকা বিশাল সামরিক ঘাঁটির নেটওয়ার্ক থেকে মার্কিন বাহিনীকে বিতাড়িত করা। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, ‘এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর, ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেসব দেশ আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করবে, তাদের এর বিপজ্জনক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’

ইরান দাবি করেছে, তাদের হামলায় জর্ডান ও উত্তর ইরাকের ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ‘আলি আল সালেম’ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর এবং এক মার্কিন কমান্ডারের আবাসস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে তেহরান। কুয়েতের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে সৃষ্ট আগুন তারা নিভিয়ে ফেলেছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহত্তম মার্কিন বিমান ঘাঁটির দেশ কাতার জানিয়েছে, তারা ঘাঁটিতে হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করছেন। বাহরাইনে রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদরদপ্তর। দেশটি জানিয়েছে, ইরানের ড্রোনগুলো মাঝপথেই প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

এসব হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যহত রেখেছে ইরান। তারা জানিয়েছে, হরমুজ দিয়ে মার্কিন কর্মীদের পরিচালনায় যাওয়ার সময় দুটি ট্যাংকার মাইন হামলার শিকার হয়েছে। ওয়াশিংটন বলছে, ইরানের হামলা সত্ত্বেও তারা ওই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি পরিচালনা করছে। সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি বুধবার জানায়, দুদিন আগে ওই প্রণালিতে একটি তেল ট্যাংকারে হামলায় দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হন।

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে আঘাত : ইরান জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি বাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বুধবার ভোরে কুহেস্থাক শহরের একটি বাড়িতে এ ‘বর্বরোচিত’ হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, নারী ও শিশুসহ ৫০ জনেরও বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোসেইন কেরমানপুর এক্সে লিখেন, ‘নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’ ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, একটি ভবনের দেওয়াল ও জানালা বিধ্বস্ত হয়ে গেছে; চারপাশে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। মানবিক সহায়তা সংস্থাটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন শিশুর ছবিও প্রকাশ করেছে।

সিরিক এলাকার গভর্নর রেজা শাহিদিয়ান পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় সম্প্র্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে জানান, হামলায় ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫০ জনই নারী ও শিশু।

আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয়া এক শিশুর বক্তব্যও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে শিশুটি জানায়, অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগেই সে যুদ্ধবিমানের শব্দ শুনতে পেয়েছিল। সে বলে, ‘আমরা সেখানে পৌঁছানোর পরপরই একটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরো আমার মুখ ও মাথায় আঘাত করে। আরও অনেকে আহত হয়। সেখানে উপস্থিত সবাই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ছিলেন।’

ইরানের খুজেস্তানে নিহত ৭ : আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মিসাইল হামলায় ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে এ হামলা হয়। প্রদেশের ডেপুটি গভর্নরের বরাতে বার্তাসংস্থা ইরনা জানায়, খুজেস্তানের আলাদা তিনটি জায়গায় হামলা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও আটজন।