প্রোপাগান্ডা এবং ডিসইনফরমেশন ছড়ানোয় আওয়ামী লীগ বিএনপির বাপ, কিম্বা দাদা। এবং তারা সেটা বিএনপির ঘাড়ে (বা ঘরে) বসেই করতেছে এবং করবে।
ব্যাপারটা এক্সপ্লেইন করতেছি।
তিন দিন আগে একাত্তর টিভিতে একটি রিপোর্ট হয়েছে "সাত মাসে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজের জিডি, কোথায় হারাচ্ছে তারা?"
গত রাতেই আমি এই রিপোর্টের সিরিয়াস দুর্বলতার জায়গাগুলো তুলে ধরেছি।
কিন্তু ওই রিপোর্টটি যাদের পারপাস সার্ভ করার কথা সেটা খুব ভালো করেই করা শুরু করেছে। (হ্যাঁ, আমি একটা সচেতনভাবেই বলছি! বাট এখন এক্সপ্লেইন করবো না!)
রিপোর্টের পর দেখেন (স্ক্রিনশটে) কিভাবে হাসিনার ডিজিএফআইয়ের সাবেক (বর্তমানে পলাতক) কর্মকর্তা নেমে গেছে ওই ভিডিওকে উপলক্ষ্য করে নতুন নতুন ডিসইনফরশেন ও কনস্পাইরেসি তৈরি করে ছড়াতে।
পলাতক খাইরুল ইসলাম বলছে, ওই নিখোঁজের সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে আছে: ইন্টারন্যাশনাল চক্র (মিডল ইস্টে জকির কাজ করানো, পতিতাতলয়, ভিক্ষাবৃত্তির জন্যে) বা ড্রাগ ডিলাররা শিশুদের নিয়ে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে। জঙ্গি গোষ্ঠিগুলোও নাকি থাকতে পারে ওদের নিয়ে যাওয়ার পেছনে। ওরা ট্রেইন করবে বলে নিচ্ছে। এবং আরও অনেক কিছু।
খাইরুল আরও একটা ভুয়া তথ্য উৎপাদন করেছে। বাংলাদেশ সরকার নাকি এই নিখোঁজ সংক্রান্ত খবরগুলো ডিলিট করতে বাধ্য করছে মিডিয়াগুলোকে!
হাহাহা! এই রিপোর্ট মূলত একাত্তর টিভির। এবং সেই টিভি ওই রিপোর্ট তো তাদের প্লাটফর্মগুলোতে রেখেছেই, সাথে আরও একাধিক অনুষ্ঠান করেছে ওই রিপোর্ট নিয়ে। তাদের দেখে কিছু ছোটখাটো অনলাইন পোর্টাল সেই রিপোর্টটি রিপ্রডিউস করেছে। কোন ডিলিটের চিহ্ন কোথাও দেখিনি।
শুধু খাইরুল না, এমন আরও বহু পেইজ/একাউন্ট থেকে ওই ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ ঘিরে নানান নতুন নতুন ভুয়া খবর প্রডিউস করা হচ্ছে। এমনকি ছোটখাটো মিডিয়াতেও দেখলাম কলাম লেখা হয়ে গেছে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
সব জায়গায় এমন আলোচনা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাচ্চা নিখোঁজ করা শুরু করেছে। এবং তারা জঙ্গি ট্রেইনিং, বিদেশে পাচারের শিকার হচ্ছে। ভয়াবহ!
কিন্তু যিনি রিপোর্ট করেছেন তিনি ওই তথ্য দেননি যে, এই সরকারের সাত মাসের আগের সাত মাসে নিখোঁজের সংখ্যা কত ছিল? বা তার আগের সাত মাসের? এর আগের সাত মাসের?
আজকে দেখলাম প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, আগের সাত মাসে এই নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজারের বেশি। জানি না এর আগের সাত মাস বা বিগত একাধিক সরকারের সময়ের এমন সাত মাস করে সময়ের হিসাবগুলো কেমন।
যদি বিগত ইউনূস এবং হাসিনা সরকারের আমলে এরকম প্রতি সাত মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়ে থাকে তাহলে ডিজিএফআইয়ের খাইরুলরা তখন কি উদ্বিগ্ন হয়েছিল ওই শিশুরা মধ্যপ্রাচ্যে পাচার হওয়া বা জঙ্গি ট্রেইনিং নেয়ার বিষয়ে?
আওয়ামী প্রোপাগান্ডা এখন সক্রিয় হবে বিএনপির ঘাড়ে বসেই।
মানুষের মধ্যে একটা পারসেপশন আছে ৫ আগস্টের পর বড় বড় মিডিয়াগুলো বিএনপিপন্থীরা নিয়ন্ত্রণ করছে। একত্তর টিভির ক্ষেত্রে একই পারসেপশন আছে। অনেকে মনে করে এটা এখন বিএনপির মিডিয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একাত্তর থেকেই বের হচ্ছে এমন পেশাগত জায়গা থেকে প্রশ্নবিদ্ধ রিপোর্ট যেগুলোকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের প্রপাগান্ডা মেশিন নতুন মাত্রায় সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। খাইরুলের ওই ভিডিও পোস্টে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল পেইজ থেকে রিয়েকশন দেয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ, খাইরুল বা একাত্তরের ভেতরে বসে থাকা ‘আহ্ লীগ’রা একে অন্যের সাথে কানেকটেড না থেকে এগুলো প্রডিউস হচ্ছে-- এমনটা ভাবাটা বোকামি হতে পারে!