রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের অভিশাপ যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে শহরের ভেতরে থাকা চার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এই উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আশার সঞ্চার হলেও কাজের গতি আশাব্যঞ্জক নয়।
সর্বশেষ গত ১৫ জুন বর্তমান সরকার এক সভায় ঢাকার ভেতরে থাকা চার বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সায়েদাবাদ টার্মিনাল কাঁচপুরে, গাবতলী টার্মিনাল হেমায়েতপুরে, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান টার্মিনাল কেরানীগঞ্জের বাঘাইর-তেঘরিয়ায় এবং মহাখালী টার্মিনাল স্থায়ীভাবে টঙ্গীর কাছে নেওয়ার আগে সাময়িকভাবে পূর্বাচলে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে (২০২৮-২৯ সালের মধ্যে) এই টার্মিনালগুলো পুরোপুরি ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনার পর এরই মাঝে দুমাসের বেশি পেরিয়ে গেলেও কাজের ‘কচ্ছপগতি’র কারণে জমি নির্ধারণ, অধিগ্রহণ, নকশা, অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থায়ন ও প্রশাসনিক অনুমোদন কাজের তেমন দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চারটি টার্মিনাল আদৌ সরানো সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কাঁচপুরে কাজের গতি সীমিত, মাদকের আখড়ার অভিযোগ: সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকার কথা কাঁচপুরের প্রকল্পটির। গত ২৪ জুন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ কাঁচপুরের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন; কিন্তু ২৪ আগস্ট সরেজমিন দেখা যায়, বাস্তবে প্রকল্পের অবকাঠামোগত অগ্রগতি অত্যন্ত সীমিত। মাঠের দুপাশে সীমানা পিলার থাকলেও বাউন্ডারি গাঁথুনি অসম্পূর্ণ। ৮ লাখ ঘনফুট বালু ভরাটের প্রস্তুতি হিসেবে স্কেভেটর দিয়ে বাঁধ তৈরি করতে দেখা গেছে। তবে সেখানে মাত্র সাতজন শ্রমিক এবং একটি রোলার ও একটি হুইল লোডার (ভেকু) ছাড়া বড় কোনো নির্মাণযন্ত্র বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। মাঠে থাকা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার অফিস কক্ষটিও তালাবদ্ধ ছিল।
বর্তমানে দৃশ্যমান কাজ বলতে সীমানা নির্ধারণ, অসম্পূর্ণ বাউন্ডারি গাঁথুনি এবং মাঠ প্রস্তুতের প্রাথমিক কাজই শেষ হয়েছে। এক্সক্যাভেটরের দায়িত্বে থাকা ইব্রাহিম কালবেলাকে জানান, মাঠের মাঝামাঝি অংশে প্রায় ৮ লাখ ঘনফুট বালু ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। বালু যাতে প্রয়োজনের তুলনায় মাঠের চারদিকে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য তিনি বাঁধ তৈরি করছেন। স্থানীয় এক বালু ঠিকাদারের হয়ে তিনি এই কাজ করছেন বলে জানান।
স্থানীয়দের মতে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু করা প্রায় অসম্ভব। তারা জানান, অরক্ষিত এই এলাকাটি বর্তমানে সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এবং কর্মরত শ্রমিকদের ঘরেও মাদকের আসর বসছে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় কোনো নিরাপত্তাকর্মী নেই। টার্মিনালের কিছু জায়গায় স্থানীয় দখলদাররা কয়েক ধরনের খাবার এবং গাড়ি মেরামতের দোকানসহ স্থায়ী কিছু স্থাপনা গড়ে তুলেছে।
টার্মিনাল সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা সুরিয়া বেগম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সরকারের লোকজন টার্মিনালের সীমানা নির্ধারণের সময় আমার ৯টা রুম ভেঙে ফেলতে বলেছিলেন। তাদের দাবি টার্মিনালের সীমানা আমার বাড়ির ভেতরে পড়েছে। কথামতো বাড়ির ওই অংশ টার্মিনালের জন্য ছেড়ে দেওয়ার পরও এখনো কাজ বালু ভরাট পর্যন্তই রয়েছে।’ অন্যদিকে, স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, টার্মিনালের সীমানা নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিয়ম মানেনি।
ডিএসসিসির কর্মকর্তারা জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মালিকানাধীন ১২ দশমিক ৫ একর জমিতে ২০২৩ সালের আগস্টে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ শেষ হয়েছে। মাটি সরে যাওয়া ঠেকাতে সীমানা পিলার স্থাপনের কাজও শুরু হয়েছিল ওই সময়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
কেরানীগঞ্জে স্থান নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা: কেরানীগঞ্জে টার্মিনাল স্থানান্তরের জন্য কোন স্থানটি নির্ধারিত হয়েছে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের বিপরীতে টার্মিনাল স্থানান্তরের কথা বললেও সেখানে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। সেখানকার রাজেন্দ্রপুর পাইকারি কাঁচা বাজারের ম্যানেজার নিজামুদ্দিন বলেন, সরকারের কিছু লোকজন স্থানটি কয়েক দফায় দেখে গেছেন। সঙ্গে ছিলেন পরিবহন নেতারা। তবে টার্মিনালের জন্য স্থানটি পছন্দ না হওয়ায় বসুন্ধরা নতুন রাস্তার দিকে একটি স্থান সম্ভবত নির্ধারণ করেছেন।
পরিবহন নেতাদের পরিদর্শন করা স্থানটিতে গিয়ে একটি ভাড়ায় চালিত পার্কিং মাঠের সন্ধান পাওয়া যায়। যেখানে প্রায় ২০০ গাড়ির পার্কিং এবং গাড়ি মেরামতের কয়েকটি দোকান, প্রার্থনার স্থান, দুটি পুরাতন ভবন এবং একটি বন্ধ পেট্রোল পাম্প দেখা যায়। সেখানে কথা হয় সোনাবান অটোমোবাইলসের ম্যানেজার জাকের হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, টার্মিনাল এবং সিটি করপোরেশনের কিছু কর্তাব্যক্তি স্থানটি পরিদর্শন করে গেছেন, তবে এটা টার্মিনালের জন্য নির্ধারণ হয়েছে কি না সেটা জানি না। তিনি বলেন, এখানে সর্বোচ্চ ছোট বড় ২০০ গাড়ি পার্কিং করা যায়। তবে টার্মিনালের জন্য স্থানটি নির্ধারণ করা হলে বসুন্ধরা অংশে মাটি ফেলে জমি উঁচু করতে হবে। পেছনে কিছু ঘরবাড়ি আছে, সেগুলো অধিগ্রহণ করতে হবে।
সোনাবান অটোমোবাইলসের মালিক মো. মামুন জানান, স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের আগ পর্যন্ত দুই থেকে তিন বছরের জন্য তার ব্যবহৃত পার্কিং এলাকাটি সাময়িক টার্মিনাল হিসেবে ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে পরিবহন নেতারা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে তার দাবি, জায়গাটি বিপুলসংখ্যক গাড়ির জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ ছাড়া এলাকার সড়ক তুলনামূলক সংকীর্ণ হওয়ায় গাড়ি প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে অল্পসংখ্যক গাড়ি সেখানে অবস্থান করলেও যানজটের সৃষ্টি হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, পার্কিং এলাকাটি তিনিও ভাড়ায় নিয়েছেন। পরিবহন নেতারা জায়গার মূল মালিকের সঙ্গে কথা বললে তিনি (মালিক) জানান, মামুনের সঙ্গে সমঝোতা হলে জায়গাটি ব্যবহারে তার আপত্তি নেই। তবে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে পরিবহন নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। পরে তারা বিকল্প জায়গা খুঁজতে অন্য এলাকায় চলে যান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবহন নেতারা আরও কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা হাউজিং এলাকা, প্রিয় প্রাঙ্গণ সংলগ্ন এলাকা এবং একটি চিতা/শ্মশানের পাশের এলাকা। এর মধ্যে প্রিয় প্রাঙ্গণ এলাকায় সাময়িকভাবে টার্মিনাল করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে বলে জানান পরিবহন নেতারা।
পূর্বাচলে সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিক: মহাখালী টার্মিনাল টঙ্গীর কাছে স্থানান্তরের আগে সাময়িক ডিপো হিসেবে পূর্বাচলকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সেখানে বাস শ্রমিক ও কারিগররা বিভিন্ন সুবিধা-বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, একতা পরিবহনের সুপারভাইজার মাসুদ রানা বাসের নিচে ঘুমাচ্ছেন। তিনি জানান, নিরাপত্তার সমস্যা না থাকলেও পর্যাপ্ত হোটেল না থাকায় প্রতিদিন খাবারের জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।
ডিপোর পূর্ব দিকে হানিফ অ্যান্ড নাসির ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক হানিফ দেওয়ানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আটজন স্টাফ নিয়ে মহাখালী থেকে পূর্বাচলের ডিপোতে বডি মেরামতের জন্য টিন দিয়ে নিজেই ঘর তৈরি করে নিয়েছেন। এক সপ্তাহ হয় তিনি এই ডিপোতে বডি মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত চারটি গাড়ির কাজে হাত দিয়েছেন। আটজনের এই দলে চারজন মিস্ত্রি এবং চারজন হেলপারের বেতন বাবদ মাসে দেড় লাখ টাকা গুনতে হয় তাকে। হানিফ জানান, এখানে আপাতত দোকান ভাড়া না থাকলেও বাস কোম্পানিগুলোকে এখানে পাঠাতে বাধ্য না করা হলে কর্মচারীদের দেড় লাখ টাকা বেতনের ব্যবস্থা করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ ছাড়া এখানে রং, ব্যাটারি, গ্লাস, ইঞ্জিন ও চাকা মেরামতের (ভলকানাইজিং) আনুষঙ্গিক সুবিধা এখনো গড়ে ওঠেনি বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মাঠে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), সিটি করপোরেশন বা টার্মিনাল কর্তৃপক্ষ, পরিবহন সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের লোকজনকে সীমানা এরিয়ায় খুঁজে পাওয়া যায়নি বা কোন কোন কর্মকর্তা কাজ তদারকির জন্য আসেন, সেই তথ্যও পাওয়া যায়নি।
ডিপোতে উপস্থিত গুলশান বিভাগের ট্রাফিকের টিএসআই মামুনুল ইসলাম জানান, গুলশান ট্রাফিক বিভাগ থেকে চারজন এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষায়িত বিভাগ পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) থেকে চারজন সদস্য অর্থাৎ তিন শিফটে ১৮ জন পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। যেখানে প্রতি শিফটে একজন টিএসআই ও ট্রাফিক সার্জেন্ট কর্তব্যরত থাকেন। পাশাপাশি ডিপো এলাকা গুলশান ট্রাফিক বিভাগ অস্থায়ী ডাম্পিং পয়েন্ট হিসাবে ব্যবহার করছে।
ট্রাফিকের এই কর্মকর্তা জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে, যেসব গাড়ি ডিপো এলাকায় প্রবেশ এবং বের হয় তাদের গাড়ির নম্বরসহ লক বুকে এন্ট্রি করা। পাশাপাশি উপস্থিত পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ২৪/৭ ঘণ্টা সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা। যেটি পরিবহনের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সরেজমিন টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ৫০-৬০টি গাড়ি রাখার মতো একটি মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ঢালাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে। ফলে দমকা বাতাসে আশপাশে বালুঝড় তৈরি হয় এবং রোদে মাঠ এরিয়া উত্তপ্ত থাকে। কবে নাগাদ মাঠ পুরো প্রস্তুত হবে, এই তথ্য উপস্থিত কারও কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দেড় মাস ধরে যেসব পরিবহন নিয়মিত ডিপো এলাকায় গাড়ি নিয়ে আসে—বিশেষ করে বিলাস, পিংকি, এলাহি ও এনা পরিবহন, তাদের স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আগামী ছয় মাস রাস্তার ওপরেই গাড়ি পার্কিং করে রাখতে হবে। তারা জানান, দুটি অস্থায়ী বাথরুম আর একটি গোসলের জায়গা থাকায় ব্যবহারে কিছুটা বেগ পেতে হয়। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব মহাখালী টার্মিনাল থেকে রং মিস্ত্রি, ব্যাটারি মিস্ত্রি, গ্লাস মিস্ত্রি, ইঞ্জিন মিস্ত্রি ও চাকা মিস্ত্রি (ভলকানাইজিং) এই ডিপোতে নিয়ে আসার (সংযুক্ত করা) প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তারা।
হেমায়েতপুরে প্রাথমিক অনুমোদনই মেলেনি: গাবতলী বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুরে স্থানান্তরের কাজ বর্তমানে প্রাথমিক ও পরিকল্পনা স্তরে রয়েছে এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।
হেমায়েতপুরে প্রায় ৪২ একর জমির প্রস্তাবিত সাইটটি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদনের পর বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এখন পর্যন্ত প্রাথমিক কার্যক্রমের কোনোটিই শুরু করেনি কর্তৃপক্ষ।
অধিগ্রহণ জটিলতা ও সমন্বয়হীনতায় দীর্ঘসূত্রতা: নগর পরিকল্পনাবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণে টার্মিনাল স্থানান্তরের ধীরগতির পেছনে মূলত জমি অধিগ্রহণের জটিলতা, রাজউক, সিটি করপোরেশন ও পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকর সমন্বয়ের অভাব এবং টার্মিনালগুলোকে যাত্রীসেবার বদলে ‘ওয়ার্কশপ’ বানানোর মানসিকতাকে দায়ী করা হচ্ছে। ঢাকার পেরিফেরি বা প্রান্তিক এলাকায় উপযুক্ত জমি নির্বাচন এবং তা অধিগ্রহণ করতেই বছরের পর বছর সময় অপচয় হয়েছে।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল হাসনাবাদ, কাঁচপুর ও বাঘাইর এলাকা পরিদর্শন করে স্থান নির্বাচনের কাজ কিছুটা এগিয়ে নিলেও বাস্তবায়নে এখনো বহু পথ বাকি। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কেবল টার্মিনাল সরালেই হবে না। মেট্রোরেল বা বিআরটি লাইনের সঙ্গে এই দূরপাল্লার টার্মিনালগুলোর সরাসরি সংযোগ নিশ্চিত করতে না পারলে ঢাকার সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে তীব্র যানজট ও চরম যাত্রী ভোগান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।