Image description

একের পর এক পর্নোগ্রাফি সাইট বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও থামছে না এর বিস্তার। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে পর্নোগ্রাফির বড় কালোবাজার। টাকার বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে ব্যক্তিগত ও যুগল অন্তরঙ্গ ভিডিও। হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের প্রাইভেট গ্রুপে চলছে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক কনটেন্টের বাণিজ্য। ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামেও প্রকাশ্যে দেওয়া হচ্ছে ক্যাম ও এসকর্ট সার্ভিসের বিজ্ঞাপন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ কালোবাজারে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে। অল্প সময়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের আকাক্সক্ষা এবং আইনের দুর্বলতার সুযোগে অনেকে এটিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি সাইটে বাংলাদেশি কনটেন্টের আলাদা ক্যাটাগরিও রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে।

সুমাইয়ার আয় ৪৮ লাখ টাকা : ১১ আগস্ট রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া ও তাঁর প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়ার কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির তথ্য উঠে আসে। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মো. আবু সাঈদকেও মামলার আসামি করা হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, ২০২১ সালে সুমাইয়ার মোবাইল ফোন চুরি হওয়ার পর এতে থাকা কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনের পরিকল্পনা করেন তিনি। প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পেশাদারভাবে পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রি শুরু করেন। বিভিন্ন সাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিজস্ব প্রাইভেট গ্রুপে ভিডিও বিক্রি করতেন সুমাইয়া। ডিবির দাবি, গত ছয় মাসে শুধু মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তিনি ৪৮ লাখ টাকা আয় করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে মাসে গড়ে ১০ লাখ টাকা আয়ের কথাও জানিয়েছেন। আরও তিন তরুণীকে গ্রুপে যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি।

বিদেশে গিয়েও চলছে কনটেন্ট : গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে গিয়ে পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন অনেকে।

টাকায় মিলছে ক্যাম-এসকর্ট সার্ভিস : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্ধনগ্ন ভিডিওর সঙ্গে ক্যাম ও এসকর্ট সার্ভিসের বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওতে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোনের নম্বর দেওয়া থাকে। যোগাযোগ করলে অর্থের বিনিময়ে সেবার ধরন ও ঠিকানা জানানো হয়।

গত বছরের ২০ অক্টোবর বান্দরবান শহরের মধ্যমপাড়া এলাকা থেকে বৃষ্টি ও আজিম নামে কথিত এক যুগলকে গ্রেপ্তার করা হয়। টেলিগ্রামে প্রিমিয়াম গ্রুপ : সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টেলিগ্রামে অসংখ্য ‘প্রিমিয়াম সার্ভিস’ গ্রুপ রয়েছে। সেখানে এজেন্টরা ক্রেতা সংগ্রহ করে চাহিদা অনুযায়ী নিষিদ্ধ কনটেন্ট সরবরাহ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরির সংঘবদ্ধ চক্রও গড়ে উঠেছে। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, বাংলাদেশেও পর্নোগ্রাফির বাজার বড় হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের এডিসি মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, সাইবার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কেউ অশ্লীলতা ছড়ালে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।