২৭ আগস্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। ওইদিন বেলা ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার ইস্যুতে উত্তপ্ত হবে এ অধিবেশন। এগুলো হচ্ছে সংবিধান সংশোধন, সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের সদস্যদের রাখা না রাখা, গণভোট এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন। এর বাইরে দ্রব্যমূল্য ও চলমান জ্বালানিসংকটের বিষয়টি নিয়েও উত্তপ্ত হতে পারে সংসদের অধিবেশন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা জানান, এরই মধ্যে সরকার ছয় মাস পূর্ণ করেছে। এখন আর তারা বলতে পারবে না যে সরকারের হানিমুন পিরিয়ড চলছে। দেশ গঠনে তাদের কোথায় দুর্বলতা তা আমরা সংসদে উত্থাপন করব। সরকারের কাছে জবাবদিহি চাইব। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যে ধরনের কার্যকর ভূমিকা পালন করা দরকার তা করা হবে। কারণ জনগণের কাছে এজন্য আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। বিরোধী দলের এ ধরনের অবস্থান প্রসঙ্গে সরকারদলীয় এমপিরা জানান, দেশের স্বার্থে সরকারি ও বিরোধী দল বিতর্ক করবে, ইস্যু উত্থাপন করবে এটাই তো সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
এ প্রসঙ্গে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়াটা তো বিরোধী দলের অন্যতম কাজ। যেসব ইস্যু নিয়ে তারা সংসদে সরকারের জবাবদিহি চাইবে তা দেওয়া হবে। যেমন ধরুন তারা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে কথা বলছে। এটা পরিবর্তন করতে হলে তো সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আমরা এ নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছি। তাদের কাছ থেকে নাম চেয়েছি। এখনো নাম দেয়নি। তারা যখনই নাম দেবে তখনই তাদের যুক্ত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল ইস্যুগুলো সংসদে তুলুক। উভয় পক্ষই এ নিয়ে আলোচনা করব। আর কারা সঠিক বা ভুল তা বিবেচনা করবে জনগণ।’ একই প্রসঙ্গে মেহেরপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, ‘জনকল্যাণে যেসব ইস্যু রয়েছে আমরা তা সংসদে উত্থাপন করব। সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট ইস্যু নিয়ে জবাবদিহিতা চাওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, সংবিধান সংশোধন, সংসদীয় কমিটি গঠন, গণভোটের বিধান, জুলাই সনদ-এ চার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পর বিপরীত অবস্থান ও নীতিগত মতপার্থক্যের কারণে সংসদের অধিবেশনে তীব্র বিতর্ক হতে পারে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোয় বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকা ও সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া জুলাই সনদের আইনি রূপ দেওয়া এবং এর বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে সংসদে তীব্র অসন্তোষ ও বিতর্ক দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরে মূল্যস্ফীতি ও বাজারে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখিতা, জ্বালানি ও গ্যাসসংকট, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন বিরোধী দল। জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য জানান, জনহিতকর ইস্যুতে সরকারের জবাবদিহিতা স্পষ্ট না হলে প্রয়োজনে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে গত অধিবেশনেই সরকার ও বিরোধীদলীয় জোটের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সরকারদলীয় জোট সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন করেছে। সেখানে বিরোধী দলের কাছে পাঁচটি নাম চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদলীয় জোট সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করার কথা। কিন্তু সরকারি দল তা পাশ কাটিয়ে সংশোধনে মনোযোগ দিয়েছে। একইভাবে গণভোটের রায় এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে বিরোধীদলীয় জোট।
এ নিয়ে আগামী অধিবেশনে তাদের একাধিক সংসদ সদস্য বক্তব্য দেবেন বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছে বিরোধী দল। অন্যদিকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নোট অব ডিসেন্টসহ স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। তাদের অভিযোগ, বিরোধী পক্ষ সংসদে এক ধরনের কথা বলে, রাজনৈতিক ময়দানে আরেক ধরনের মন্তব্য করে। তাদের মতে, রাজনীতিতে ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের কোনো সুযোগ নেই। সংসদে বিরোধী দল সরকারের জবাবদিহিতা চাইলে তা দেওয়ার জন্য সরকারি দল প্রস্তুত রয়েছে।