Image description

রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশি সহায়তা দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর  উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যেও হতাশা দিনের পর দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় কৌশল প্রণয়নের প্রতি জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। সংকট দিনের পর দিন ঘনীভূত হচ্ছে। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পরিণত হচ্ছে। এ নিয়ে সরকার, সাহায্য সংস্থা ও রোহিঙ্গাদের কপালে ভাঁজ পড়েছে।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে দেশটির ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পক্ষকে সঙ্গে নেওয়া হবে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গতকাল কক্সবাজারে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা সরকারের এবং দেশের তরফে ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে জীবিত রাখতে চেষ্টা করছি। এই প্রক্রিয়ায় আমরা কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখব যাতে একটা পর্যায়ে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে পারে’।

রোহিঙ্গাদের জন্য বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘তহবিল কমে যাচ্ছে। আমরা সবাই এটা জানি। কিন্তু আমরা অধিক তহবিল সংগ্রহের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারকে ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের তহবিল বৃদ্ধির জন্য বলছি’। এ ব্যাপারে সচিব আর বিস্তারিত কিছু বলেননি। রোহিঙ্গা ঢলের দশম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কক্সবাজারে এবং রোহিঙ্গা শিবিরে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ ধরনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পররাষ্ট্র সচিব কক্সবাজার আসেন। রোহিঙ্গা ঢলের বার্ষিকী উপলক্ষে আন্তর্জাতিক সাহায্যকর্মীরাও রোহিঙ্গা শিবিরে যাচ্ছেন।

উখিয়ায় বাস্তুচ্যুত মানুষের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্যাম্পে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেল, সাহায্যকর্মীরা বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় নানা সমস্যায় ভুগছেন। অনেকে রোহিঙ্গাদের মৌলিক সহায়তাও কমিয়ে দিয়েছেন। কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে দাঁড়িয়ে কানাডাভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এখানে গণহত্যা হয়েছে বলা হলেও গত কয়েক বছর আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুকে জীবিত রাখতে পারিনি। বর্তমানে এই ইস্যুতে কেউ কিছু বলছে না। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। এই ইস্যু তাই ভুলে যেতে বসেছে। এ কারণে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল দিচ্ছে না। ফলে এটা একটা সংকট। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক’।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাহায্য সংস্থার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, মৌলিক সহায়তা বন্ধ হলে রোহিঙ্গারা ডেসপারেট হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যেতে পারেন। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও বিনষ্ট হতে পারে। কুতুপালং ক্যাম্পে দাঁড়িয়ে হুসেইন জহুর নামের একজন ৩০ বছর বয়সি রোহিঙ্গা বলেন, ‘২০১৭ সালে নির্যাতনের শিকার হয়ে আরাকান (রাখাইন) থেকে আমি বাংলাদেশে আসি। আরাকানে তখন গণহত্যা চলছিল। বার্মিস সরকার আমাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। জীবন রক্ষা করতে আমরা আমাদের দেশত্যাগ করি। ৪ নম্বর ক্যাম্পে আছি। এখানে এখন রেশনের পরিমাণ কমে গেছে। শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধাও কমে গেছে’। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয় দিলেও মিয়ানমার এখন তাদের ফিরিয়ে নিতে অনীহা প্রকাশ করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিবছর ৩০ হাজার নতুন শিশুর জন্ম হওয়ায় রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য বিরাট এক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।