ময়মনসিংহ নগরের একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে এক চিকিৎসককে মারধর, ভাঙচুর ও টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চাঁদার দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা না দেয়ায় এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসক। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ছাত্রদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জিলা স্কুলের পিছনে ডক্টর পেট কেয়ারে ডাক্তার আসিফের ওপর হামলাকারী সেই আফরিন রশিদ সেজুতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেজুতির বাবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডাঃ হারুন অর রশিদ ও মা ময়মনসিংহ গর্ভমেন্ট ল্যাবরোটরি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা রোকসানা।
ভুক্তভোগী চিকিৎসকের নাম মো. আশিকুর রহমান। তিনি নগরের জিলা স্কুলের পাশের গলিতে ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামে একটি চেম্বারে বিড়ালের চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক উপকরণ বিক্রি করেন। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী চেম্বারে ঢুকে জুতা খুলে চিকিৎসককে পেটাতে থাকেন। পাশে থাকা নগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান (প্রতীক) ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করেন এবং একপর্যায়ে নিজেও চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারেন। শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আশিকুর রহমান। অভিযুক্ত করা হয়েছে ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান, আফরিন রশিদ সেজুঁতি ও সাকিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪৫ জনকে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে আশিকুরের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা চেম্বারে ঢুকে চাঁদার জন্য চাপ দেয়। প্রতিবাদ জানালে সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে এলে দোকানের কর্মী ঈশান আহমেদ, ঈশানের স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকীকেও মারধর করা হয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমানকে (প্রতীক) দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর শাখার সভাপতি গোবিন্দ রায়। ঘটনায় জড়িত সাকিবুল হাসান বলেন, গত ১৭ই আগস্ট একটি গর্ভবতী পারশিয়ান বিড়ালকে (নাম স্নো) কেওয়াটখালী ভেটেরিনারি চিকিৎসক আব্দুল হান্নানের কাছে সেজুঁতি রেখে যান পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। কিন্তু সেখানে বিড়ালটি মারা গেলেও তারা কিছু জানাননি। বিড়ালের খোঁজখবর নিতে ১৮ই আগস্ট কল দিলে তারা জানান, বিড়ালটি মারা গেছে। তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি হলে আশিকুর রহমান ফেক ফেসবুক আইডি থেকে সেজুঁতিকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। যার প্রমাণ থাকায় মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে তাদের অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম।