গ্যাসসংকটে চট্টগ্রামের শিল্প খাতে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। এরই মধ্যে উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন অনেক শিল্পকারখানার মালিক। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ঠেকেছে তলানিতে। এ অবস্থা চলতে থাকলে উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়ে প্রতিযোগী দেশের হাতে চলে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, ‘গ্যাসসংকটের কারণে চট্টগ্রামের বেশির ভাগ শিল্পকারখানায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। উৎপাদন নেমে এসেছে অর্ধেকে। এভাবে চলতে থাকলে বন্ধ হয়ে যাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন। এ সংকট নিরসনে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’
বিজিএমইএর পরিচালক ও এশিয়ান গ্রুপের উপপরিচালক সাকিফ আহমেদ সালাম বলেন, গ্যাসসংকটের কারণে প্রায় প্রত্যেক কারখানার উৎপাদন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমাতে বাধ্য হয়েছে তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। উৎপাদন কমানোর এ প্রভাব সরাসরি পড়বে রপ্তানিতে। যথাসময়ে পণ্য ডেলিভারি দিতে না পারলেও ক্রেতাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হবে। এতে রপ্তানি ক্রয়াদেশ হারাবে অনেক প্রতিষ্ঠান। যার সুবিধা ভোগ করবে প্রতিযোগী দেশগুলো।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটির পর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রামে দেখা দেয় গ্যাসসংকট। শিল্পকারখানাগুলোতে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমে আসে অর্ধেকেরও কম। গ্যাস না পাওয়ায় বায়েজিদ, অক্সিজেন, কালুরঘাট, ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, পতেঙ্গা শিল্প এলাকাসহ প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। তৈরি পোশাক, রড-সিমেন্ট থেকে শুরু করে ভারী শিল্পকারখানার চাকা এখন প্রায় স্থবির।
গ্যাসসংকটের কারণে প্রায় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে। অনেক প্রতিষ্ঠানের কারখানার চাকা পুরো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রসঙ্গত চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে গ্রিড থেকে পাওয়া যায় ২৫০ থেকে ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বিঘ্ন হওয়ায় বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৯০ থেকে ২১০ মিলিয়ন ঘনফুটে। ডায়মন্ড সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আবদুর রহিম বলেন, গ্যাসসংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
যার ফলে সিমেন্টে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে খরচ সমন্বয় করতে সিমেন্টের মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে। গ্যাসসংকট নিয়ে কথা হয় একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তাঁরা জানান, গ্যাসসংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে রড, সিমেন্ট, খাদ্যসহ গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানাগুলো। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় কারখানা চালু রাখতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে পণ্য উৎপাদনের কাঁচামালও। এতে করে উৎপাদনের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।