বিএনপি সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পরপরই শুরু হয়েছে মন্ত্রিপরিষদের রদবদল। শুক্রবার শপথ নিয়েছেন চারজন নতুন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী। জহিরউদ্দিন স্বপনকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আরও একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী ছাড়াও এখন পররাষ্ট্রে দুজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বে থাকছেন। সামনে আরও রদবদল আসছে। এ পরিস্থিতিতে বেশ চাপে পড়েছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের প্রথম ছয় মাসে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন রিপোর্ট এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে। পূর্বপ্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখন তাঁর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কাজের মূল্যায়ন শুরু করেছেন তিনি। ফলে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর প্রতিনিয়ত চাপ বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি সংসদীয় দলের বৈঠকে দলীয় এমপিদের প্রতি এলাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদের রদবদলের বিষয়টি হচ্ছে সরকারের ভিতরে একটি চলমান প্রক্রিয়া। যাঁকে যখন যেখানে প্রয়োজন তাঁকে সেখানেই কাজে লাগাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তা ছাড়া সরকার গঠনের পরপরই ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে প্রতিটি দপ্তরের কর্মপরিকল্পনা যুক্ত করা হয়। প্রত্যেক দপ্তরের কার্যক্রমও মূল্যায়ন করার কথা বলা হয়েছিল। সরকারপ্রধান নিশ্চয়ই সব দপ্তরের পারফরম্যান্স বা কার্যক্রমের মূল্যায়ন করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কাজের গতি বাড়ানোর কড়া নির্দেশনা রয়েছে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রতি। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের কঠোর নজরদারির কারণে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা এই বাড়তি চাপের মধ্যে পড়েছেন। তাই অলসতা বাদ দিয়ে সবাই এখন কমবেশি কাজে মন দিয়েছেন। দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার চেষ্টা চলছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ছুটির দিনেও দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পরপরই ছয় মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি সরকার।
এ সময়ের মধ্যে প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি বাস্তবায়নের টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। স্থানবিশেষে অনেক সংসদ সদস্যকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে তাঁদেরও দিন কাটাতে হচ্ছে ব্যস্ততার মাঝে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দলীয় নির্বাচনি ইশতেহারকে সরকারি ইশতেহার হিসেবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অফিসেও প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিনের কাজের রিপোর্ট প্রতিদিন পর্যালোচনার সংস্কৃতি চালু করেন। সকালে সচিবালয়ে বা মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেওয়া নির্দেশনার বাস্তবায়ন কতটুকু হলো, তা এখন সন্ধ্যা নাগাদ অথবা পরের দিন তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে অবহিত করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘জিরো টলারেন্স’ ও ‘কুইক রেসপন্স’ নীতিতে মন্ত্রিসভার অনেক সিনিয়র সদস্যও ব্যাপক চাপের মুখে আছেন।
জানা যায়, প্রতিদিন ন্যূনতম গড়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা অফিশিয়াল কর্মসম্পাদন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর কর্মগতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। গলদঘর্ম হচ্ছেন সচিবালয়সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। সবাই সদাসতর্ক। অলসতা ত্যাগ করে সবাই এখন কাজকর্মে মনোনিবেশের চেষ্টা করছেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জনস্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি সরকারি ছুটির দিনেও অফিস করেন।
জাতীয় সংসদের পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছেও এমপি-মন্ত্রীদের জবাবদিহির বিষয়ে সতর্ক নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, কাউকেই অন্যায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকারের পাশাপাশি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে মন্ত্রী-এমপি প্রত্যেককে। এ ছাড়া প্রতি তিন মাস অন্তর সভার মধ্য দিয়ে মন্ত্রীদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক সব কার্যক্রম যেমন সামনে আনা হবে, তেমনি সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোকেও দল ও নেতা-কর্মীদের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র আরও জানায়, সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপে আছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সরকারকে একদিকে বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি সামাল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে টার্গেট অনুযায়ী দলের দেওয়া রাজনৈতিক ও উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন। তা ছাড়া রয়েছে ঢাউস আকৃতির নতুন উন্নয়ন বাজেট। দীর্ঘদিন পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়া একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য এ বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সম্পদ ও সামর্থ্যরে ভিতরে বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাবনিকাশ ও বিচারবিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রণীত এবারের জাতীয় বাজেট-ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিন, হিন্দু পুরোহিতসহ ধর্মীয় যাজকদের সম্মানি ভাতা, হেলথ কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন রকমের নতুন ও বাড়তি ব্যয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে পরিপূর্ণ বিশালাকৃতির এই বাজেট বাস্তবায়ন এখন সরকারের সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি চাপে রয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান দায়িত্ব নিয়েছেন। সারা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের সিংহভাগ কাজই হয় এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সামনে রেখে এ মন্ত্রণালয়কে হিমশিম খেতে হচ্ছে যথেষ্ট পরিমাণ। এরপর রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের সীমান্ত রক্ষা থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ জননিরাপত্তার দায়িত্বও তাঁর মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত। তারপরই পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওপর সবচেয়ে বড় প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়িত্ব পড়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি এবার জোরালোভাবে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন সরকার। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের টার্গেট দেওয়া হয়েছে এই মন্ত্রণালয়কে। এর মধ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই কমপক্ষে ১ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়াও পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণেরও টার্গেট দেওয়া হয়েছে তাদের। তার মধ্যে আনুপাতিক হারে নির্ধারিত টার্গেটও পূরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় চাপে আছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ও। দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টার পাশাপাশি দেশীয় খনিজ সম্পদ উত্তোলনসহ বিদ্যুৎসংকট সমস্যার সমাধানেও গলদঘর্ম হতে হচ্ছে এ মন্ত্রণালয়কে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মতো স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ও মানুষের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর মন্ত্রণালয়।
সাম্প্রতিক হাম সমস্যা নিয়ে চাপে ছিল এবং আছে এই মন্ত্রণালয়টি। শেখ হাসিনার বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এবং ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের সব অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও ব্যর্থতার দায় বহন করে জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে সারা দেশে বড় বড় ব্রিজ-কালভার্ট, মহাসড়ক নির্মাণসহ চাপে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে রেললাইন নির্মাণ, দুঃসহ যানজট সমাধানে সড়কে এআই ট্রাফিক লাইট সিস্টেম স্থাপন, মহিলাদের জন্য আলাদা বাস চালু করা, ঢাকার চারপাশে ওয়াটার বাস চালু করা, বন্দর পরিচালনা, ব্যবস্থাপনাসহ নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল প্রকল্প নিয়ে চ্যালেঞ্জর মধ্যে আছে মন্ত্রণালয় তিনটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নজরদারিতে রয়েছেন তাঁর সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিরা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন তারেক রহমান। বলেছেন অনিয়মের অভিযোগ পেলে যে যত বড় পদেই থাকুন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দলীয় এমপি-মন্ত্রীদের বেলায় এ পদক্ষেপ আরও জোরালো হবে। তাঁদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করতে চায় সরকার। সে হিসেবে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন এলাকার সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ছোটবড় নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বেশ কিছু অভিযোগও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এসেছে। তিনি সেগুলোও বিচারবিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নেবেন।
সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী-এমপিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে নানা পদ্ধতি অবলম্বন করছেন সরকারপ্রধান। এ ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ছাড়াও দুদককেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতাদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শুধু দুর্নীতিই নয় বরং যেকোনো পেশিশক্তি বা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর। তাদের প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে দেশে সুশাসন এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রায় প্রতিদিনই সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সচিবালয়ে প্রবেশ করছেন।
তিনি সকালে অফিসে চলে আসায় অন্যদেরও একই সময়ে, অনেক ক্ষেত্রে আগেভাগেই সচিবালয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। কখন কোন মন্ত্রীকে তিনি ডেকে পাঠান, সেটি বলা যায় না। অন্যদিকে দেশের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় মন্ত্রী, এমপি ও আমলাদের প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফর না করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী কাজে প্রধানমন্ত্রীর এই অভাবনীয় গতি এবং কড়া নজরদারির সঙ্গে মানিয়ে নিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন অনেক মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কাজে প্রধানমন্ত্রী যে কঠোর সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দিচ্ছেন, তা পূরণ করতে সংশ্লিষ্টদের নাভিশ্বাস শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন বিএনপি থেকে নির্বাচিত মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের এমপি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের সব কাজ তদারকি করছেন। তিনি কাউকেই জবাবদিহির বাইরে রাখতে চান না। এজন্য ইতোমধ্যে আমরাও যেকোনো কাজের আগে সতর্কতা অবলম্বন করছি। দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সব সময়ই আমাদের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও মন্ত্রী-এমপিদের ত্রুটিবিচ্যুতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়।’
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘ঢিলেঢালা’ কাজের দিন শেষ করে রাষ্ট্রীয় কাজে গতিসঞ্চারে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ৮ মার্চ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মুচকি হেসে বলেছিলেন, ‘চলেন যুদ্ধে যাই।’
বিশ্লেষকদের অভিমত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, ‘ছয় মাস বা বছর শেষে সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মূল্যায়ন হবে-এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। রুটিনওয়ার্কের মতো। ৪৯ জনের মতো ছিল। এখন হয়তো পাঁচ-ছয়জন বেড়েছে। এতে তেমন কিছু আসে যায় না। তবে শাসনযন্ত্র যত ছোট হয়, রাষ্ট্রপরিচালনা ততই সুশৃঙ্খল হয়। এ ক্ষেত্রে যাঁরা রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাঁরাই ভালো বুঝবেন। দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং হারের বিষয়টির ওপরেও অনেক সময় মন্ত্রিপরিষদের আকার নির্ভর করে। তবে আকার-আকৃতি যা-ই হোক না কেন আমরা চাই মন্ত্রিসভায় যেন ভালো লোক আসে, সৎ ও যোগ্য লোক আসে। দেশে যেন আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।’
কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী-শামা ওবায়েদ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি, ব্যস্ততা ও গতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেড়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের সুবিধার্থে এবং গতি আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই সরকার এখানে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘পলিটিক্স ল্যাব : বাংলাদেশে তরুণ নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ছয় মাসে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিগত ১৭ বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কাজ হয়েছে। আমরা তিনটির মতো নতুন উইং চালু করেছি। অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কাজ করছি।’
জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হয়েছে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পদে থাকাকালে জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতনভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগসুবিধা পাবেন। আরেক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ থেকে জহির উদ্দিন স্বপনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। সরকার গঠনের ছয় মাস পর শুক্রবার মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হয়। নতুন পাঁচজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন; আর একজন প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। সব মিলিয়ে চারজন নতুন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। গতকাল রাতেই মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করা হয়। এর মধ্যে জহির উদ্দিন স্বপনের পরিবর্তে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ।
জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার কথা গতকাল প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়। তাঁকেসহ এখন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে জহির উদ্দিন স্বপন ছাড়াও রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে আছেন মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (মির্জা আব্বাস), নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী। শেষের দুজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছাড়াও যথাক্রমে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।