Image description

দেশের বিভিন্ন জেলা ও শহরে বিদ্যুতের লোডশেডিং তীব্রতর থাকা অবস্থায় এবার ঢাকার বাসিন্দাদেরও একই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখন দিনে রাতে বেশ কয়েকবার করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। একবার লোডশেডিং হলে এক ঘণ্টার আগে বিদ্যুৎ আসছে না। এর কারণ সম্পর্কে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দায়িত্বশীল সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে গতকাল জানিয়েছেন, গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ কমাতে এখন রাজধানী ঢাকায়ও লোডশেডিং করা হচ্ছে। মূলত গ্যাসসংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। এর সঙ্গে গত কয়েক দিনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় কারখানায় পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা এরই মধ্যে বিদ্যুৎ অফিসে হামলাও চালিয়েছেন। পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্যাসসংকটের কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া এখন দিনেও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে। আদানি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে রাতের পাশাপাশি দিনেও সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বলা হয়েছে। 

গ্রামে লোডশেডিংয়ের চাপ কমাতে এখন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়ও লোডশেডিং করা হচ্ছে।’ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ (পিজিসিবি) পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ১টায় দেশে মোট বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৩৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ২১৬ মেগাওয়াট। এ সময় ২ হাজার ১১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং হয়। ভুক্তভোগী রাজধানীর মগবাজারের বাসিন্দা আবু সুফিয়ান জানান, কয়েক দিন ধরে দিনে রাতে বেশ কয়েকবার লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে এক ঘণ্টার আগে আর আসছে না। 

গরমে ছোট বাচ্চাদের বেশ কষ্ট হচ্ছে। আবার গ্যাসসংকটে দিনের বেলা বিদ্যুৎ চলে গেলে ইলেকট্রিক চুলাও ব্যবহার করতে পারা যাচ্ছে না। এতে ভোগান্তি অনেকটাই বেড়েছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনরাত মিলিয়ে দফায় দফায় এখন লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও বিদ্যুৎ গেলে ১০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা পর্যন্ত আর আসছে না। এমনকি গভীর রাতে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষকে ঘুমাতেও কঠিন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। 

এদিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং দীর্ঘদিন ট্রান্সফরমার পরিবর্তন না করায় কয়েক শ ক্ষুব্ধ গ্রাহক পিডিবির স্থানীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০ আগস্ট এ হামলার সময় পিডিবি অফিস কার্যালয়ের কাচ, আসবাব, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। পিডিবির এক কর্মকর্তা আহতও হন। তথ্যানুযায়ী, বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন কারখানায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মালিকরা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছেন না। পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকটের কারণে গত কয়েক দিনে বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কারখানার উৎপাদন বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ বিদ্যুৎ না থাকায় মেশিন চালানো যাচ্ছে না। মেশিন না চলায় পোশাক উৎপাদনও বন্ধ থাকছে। শ্রমিকদের কাজও থাকছে বন্ধ।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা। বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের অপারেশন কার্যক্রম পর্যন্ত পরিচালনা করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা করাতেও সমস্যা হচ্ছে।