চট্টগ্রামে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে থামছে না ভাড়া নৈরাজ্য। নগরীর অভ্যন্তরীণ যানবাহনের পাশাপাশি ভাড়া বেড়েছে আন্তনগর পরিবহনগুলোতেও। সরকারিভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের আগেই পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। এতে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে গণপরিবহনগুলোতে খেয়ালখুশিমতো ভাড়া বাড়াচ্ছে। অথচ এ বিষয়ে প্রশাসন নির্বিকার।
সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর ৩ নম্বর বাসগুলো অক্সিজেন মোড় থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত আগে ভাড়া আদায় করত ১০ টাকা, এখন অক্সিজেন মোড় থেকে সরাসরি নিউমার্কেট না গিয়ে মুরাদপুর পর্যন্ত পুরো রাস্তার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অক্সিজেন থেকে দুই নম্বর গেটগামী টমটম-মাহিন্দ্রা টেম্পোগুলো অফিস শুরু ও ছুটির সময় এবং বৃষ্টি পড়লেই বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে, এমনকি অক্সিজেন থেকে দুই নম্বর গেট না গিয়ে পথেই শেরশাহ কিংবা বায়েজিদে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে।
একইভাবে নিউমার্কেট আমতল থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত তিন চাকার টেম্পোগুলো চলাচল করার কথা থাকলেও বেশির ভাগ টেম্পো বহদ্দারহাট গিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছে। একইভাবে সরকারি চার্ট অনুযায়ী বহদ্দারহাট থেকে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত ভাড়া ২২ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। পটিয়া রুটে ৫৯ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা এবং কেরানীহাট পর্যন্ত ১১২ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা। অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে চালক ও সহকারীদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগ্বিতণ্ডা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ভাড়া কোনোভাবেই মানা হচ্ছে না। চালকরা কিলোমিটারভিত্তিক হিসাবও দিচ্ছেন না; বরং নিজেদের ইচ্ছেমতো ১০ টাকাকে ২০ টাকা, ২০ টাকাকে ২৫ টাকা করে ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিকশাতেও অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, যদিও গ্যাসের কোনো সংকট নেই। এদিকে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে অনেক পরিবহন সড়কে নামছে না। বেশকিছু যানবাহন তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে থাকায় সড়কে যানবাহনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গাড়ি পাচ্ছেন না। এ সুযোগে চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) রায়হানা আকতার উর্থি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে বিআরটিএ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। প্রতিদিন বিভিন্ন রুটে আমাদের কার্যক্রম চলছে। অভিযান আরও জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও পুলিশসহ সবার সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ টিম গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সমন্বিতভাবে বিশেষ টিমের কাজ শুরু হবে।