ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি হোটেলে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের সবাই বাংলাদেশি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা নিউমার্কেটের কাছে হোটেলে আগুন লাগে। এ ঘটনায় বেঁচে ফেরা তিন বাংলাদেশির ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
বুধবার (১৮ আগস্ট) আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মির্জা গালিব স্ট্রিটের আগুন লাগা ভবনের চারতলায় ছিলেন বাংলাদেশের ঢাকার বাসিন্দা মহম্মদ আসাফুল জামাল এবং তার ভাই।। কলকাতায় এসেছেন ব্যবসার কাজে। মঙ্গলবার রাতের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বারবার কেঁপে উঠছিলেন জামাল।
তিনি জানান, তখনও রাত ২টা বাজেনি। ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। পাশের বিছানায় ছিলেন তার ভাই। হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে। জানলা খুলে দেখেন, নিচ থেকে সবাই চিৎকার করে বলছেন, ‘আগুন লেগেছে।’ শোনামাত্রই ভাইকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দরজা খুলতেই চাপ চাপ ধোঁয়া ঢুকে পড়ে ঘরে। তার মধ্যেই কোনোক্রমে ছাদে ওঠেন তারা।
জামাল বলেন, ‘নিচে নামতে পারছিলাম না। কোনোক্রমে ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে ওই তলার সকলে ছাদে উঠি। ২০-২৫ জন ছিলাম। সবাই চলে যাই জলের ট্যাঙ্কের কাছে। বুঝতে পারছিলাম না কোন দিক থেকে আগুন আসতে পারে। তবে আমরা ঠিক করেছিলাম, আগুনের শিখা দেখতে পেলেই ট্যাঙ্ক থেকে পানি নিয়ে নেবানোর চেষ্টা করব।’
একই অভিজ্ঞতা ঢাকার আর এক বাসিন্দা মহম্মদ নাজমুল সরকারের। হৃদ্রোগের চিকিৎসা করাতে তার কলকাতায় আসা। ছিলেন চারতলার ওই হোটেলে। তার কথায়, ‘একটা সময় মনে হয়েছিল মরেই যাব। অক্সিজেনের অভাব ছিল। শ্বাস নিতে পারছিলাম না।’ রাতের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে বারবার তার গলা কেঁপে যাচ্ছিল।
বাংলাদেশ থেকে সন্তানকে নিয়ে সপরিবার ওই ভবনের একতলার অন্য একটি হোটেলে উঠেছিলেন কৌসর হোসেন। তার কথায়, ‘আগুন লেগেছে প্রথমে জানতেই পারিনি। আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। হোটেলের কর্মীরা এসে দরজা ধাক্কা দিয়ে ডাকেন আমাদের। তার পরে হুড়োহুড়ি করে হোটেলের বাইরে আসি।’ তবে বাইরে আসার পর তার মনে পড়ে, হোটেলের ঘরেই রয়ে গিয়েছে তাদের পাসপোর্ট। সেগুলো আনতে আবার হোটেলে ঢুকেছিলেন বলে জানান কৌসর।