Image description

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মহত্যায় অন্তত ১০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর মানসিক চাপে এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন। রোববার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক শারমিন আক্তার মীম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের মৃত্যু ও আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আঁচল ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির দাবি, ফলাফলকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর তৈরি হওয়া মানসিক চাপ কমাতে দ্রুত সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, শেরপুর, গোপালগঞ্জ, মেহেরপুর, কুমিল্লা ও চুয়াডাঙ্গায় অন্তত ১০ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন মেয়ে ও তিনজন ছেলে।

সংগঠনটির দাবি, এসব ঘটনার বেশ কয়েকটিতে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া বা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তীব্র মানসিক চাপে পড়েছিল বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরীক্ষার ফল আশানুরূপ না হওয়ায় গত মে মাসে ভোলায় এক নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।

আঁচল ফাউন্ডেশন বলছে, শুধু পরীক্ষার ফলাফলকে শিক্ষার্থীর সাফল্য-ব্যর্থতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। একটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া কোনোভাবেই একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্ধারণ করে না।

সংগঠনটির মতে, ফলাফলকে ঘিরে লজ্জা, ভয়, হতাশা ও সামাজিক চাপ অনেক সময় সংকটকে আরো গভীর করে। তাই শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনাকে শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে পরিবার, শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সমন্বিত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আট দফা দাবি তুলে ধরেছে সংগঠনটি।

সুপারিশগুলো হলোÑ পরিবার থেকে পরীক্ষার সময় এবং ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী অন্তত দুই সপ্তাহ শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ ও নজরদারি জোরদার করা। প্রতিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতা নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগে ও পরে শিক্ষার্থীদের জন্য হটলাইন বা বিশেষ মানসিক পরামর্শ ও সহায়তা কার্যক্রম চালু করা। শিক্ষক ও অভিভাবকদের শিক্ষার্থীদের মানসিক সংকট, আচরণগত পরিবর্তন এবং আত্মহানির সম্ভাব্য ঝুঁকির লক্ষণ শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

পরীক্ষার ফল খারাপ হলে শিক্ষার্থীদের অপমান, শাস্তি, ভয় দেখানো এবং অন্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে তুলনা না করার বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে অভিভাবক সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

ফলাফল প্রকাশের পর মানসিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর সহায়তা ও সংযোগব্যবস্থা চালু করা। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মহত্যার ঘটনা প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত করা এবং অতিরঞ্জিত, চাঞ্চল্যকর বা অনুকরণে উৎসাহিত করতে পারে এমন উপস্থাপন পরিহার করা।

ফাউন্ডেশন জানায়, ২০২৫ সালে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ৩১০, ২০২৩ সালে ৫১৩ এবং ২০২২ সালে ৫৩২ জন।