গ্যাস সংকট মেটাতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার।
এরই মধ্যে মহেশখালীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে চীনের একটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরো নতুন তিনটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। যদিও গ্যাস সংকটের টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিতে এলএনজি টার্মিনাল বাড়ানোর চেয়ে এ খাতে অনুসন্ধান বৃদ্ধি, মজুদ নিশ্চিতে কূপ খননের পাশাপাশি ত্রিমাত্রিক জরিপ ও রিগে বিনিয়োগ করার ওপর জোর দেয়ার কথা বলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের নানাবিধ সমস্যা এখন দৃশ্যমান। নতুন টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় ব্যয়, অর্থনীতিতে বিভিন্নমুখী চাপ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিশ্চয়তার মতো বিষয় রয়েছে। পতিত সরকার এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করে গেছে। এলএনজি আমদানিনির্ভরতার একই পথে হাঁটলে জ্বালানি খাত ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারবে না বলে মনে করেন তারা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকটের বাস্তবতায় শুধু এলএনজি আমদানি কিংবা টার্মিনাল নির্মাণ করলেই হবে না। পাশাপাশি গ্যাস খাতে অনুসন্ধানে বিনিয়োগ আরো বাড়াতে হবে। স্থল ও সাগরে আরো বেশি গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো তৎপরতা দেখাতে হবে। সেক্ষেত্রে গ্যাস খাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, মজুদ নিশ্চিতে তথ্য-উপাত্ত (টুডি-থ্রিডি) আরো বেশি বিশ্লেষণ প্রয়োজন।’
২০১৮ সালে দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। এরপর বিগত আট বছরে ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার বেশি এলএনজি আমদানি হয়েছে (২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত)। এ সময়ে এলএনজিতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। দেশে এলএনজি সরবরাহে রয়েছে দুটি টার্মিনাল, যেগুলোর দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা ১১০ কোটি ঘনফুট। প্রতিটি টার্মিনালের দৈনিক ভাড়া সুনির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি টার্মিনালের দৈনিক ভাড়া ৩ লাখ ডলারের কাছাকাছি।
দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি হয়। আট বছরের ব্যবধানে তা এখন বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এলএনজি আমদানির সঙ্গে ভর্তুকির পরিমাণ ছয় গুণের বেশি বেড়েছে। নতুন টার্মিনাল নির্মাণ অনুমোদন দিলে সরকারের গ্যাস আমদানি ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হবে। গ্যাস আমদানির ব্যয় তুলতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দফায় দফায় গ্যাসের দাম বাড়িয়েও অর্থের সংস্থান করতে পারেনি। বরং অর্থের সংস্থান করতে বিদেশী সংস্থার কাছ থেকে ঋণের পাশাপাশি গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) ব্যবহার করেছে।
দেশে এরই মধ্যে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ নীতিগতভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ টার্মিনাল উৎপাদনে আসতে তিন বছরের বেশি সময় প্রয়োজন। সরকার আরো যেসব টার্মিনাল নির্মাণ অনুমোদনের পরিকল্পনা করছে, তার চেয়ে বরং স্থানীয় গ্যাস খাতে কূপ খনন, রিগে বিনিয়োগ, ত্রিমাত্রিক জরিপ এলাকা বাড়িয়ে স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে পারে।
দেশে গ্যাস খাতে এখন চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুট। সামনের বছরগুলোয় এ ঘাটতি আরো বাড়বে। এরই মধ্যে পেট্রোবাংলার চলমান ৫০ কূপ খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে সেখান থেকে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। এ পরিস্থিতির পেছনে অতীতের করা বিভিন্ন দ্বিমাত্রিক জরিপের তথ্য-উপাত্তের ত্রুটি-বিচ্যুতি, সীমাবদ্ধতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টুডি সিসমিক সার্ভের ভিত্তিতে অনেক এলাকায় কূপ খনন করে গ্যাস পায়নি পেট্রোবাংলা। আবার অনেক কূপে যে পরিমাণ গ্যাসের প্রাক্কলন করা হয়েছিল, সেখান থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যায়নি। ফলে টুডি সিসমিক জরিপের চেয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে এবং গ্যাসের নিশ্চিত উপস্থিতি বুঝতে ত্রিমাত্রিক জরিপের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তারা।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার শীর্ষ তিনজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেছেন, বিগত সরকারের নেয়া ৫০ কূপ খনন প্রকল্প থেকে যে পরিমাণ গ্যাস প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা মিলবে না। অনেক কূপ খনন করে গ্যাস পাওয়া যায়নি। বেশকিছু কূপে শুরুতে ভালো উৎপাদন থাকলেও অনেক কূপ এখন ডিক্লাইন (অবনমন) মোডে রয়েছে।
কূপের এমন ফলাফলের জন্য তারা পুরনো টুডি তথ্যকে অনেকাংশে দায়ী করেছেন। তারা মনে করছেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপ খননের পাশাপাশি ত্রিমাত্রিক জরিপ হওয়া দরকার। দেশে গ্যাস খাতের যে পরিস্থিতি সেখানে অনিশ্চিত ও অনুমানের ভিত্তিতে কূপ খনন করে অর্থের অপচয় করার সুযোগ কিংবা সময় কোনোটাই নেই।
দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত দ্বিমাত্রিক জরিপ করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৬৪৩ লাইন কিলোমিটার, আর ত্রিমাত্রিক জরিপ করা হয়েছে ৭ হাজার ১৩৭ বর্গকিলোমিটার। দেশী-বিদেশী কোম্পানির মাধ্যমে এসব সিসমিক সার্ভে করা হয়েছে। তবে টুডি জরিপের মাধ্যমে বিগত কয়েক বছরে যেসব কূপ খনন করে গ্যাসের মজুদ ও উৎপাদন প্রাক্কলন করা হয়েছিল, সেখান থেকে প্রত্যাশিত গ্যাস মেলেনি। আবার অনেক এলাকায় কূপ খনন করে গ্যাস মেলেনি।
বাপেক্স ও পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে তেল-গ্যাস আবিষ্কারের শুরু থেকে বিদেশী সাত-আটটি কোম্পানি টুডি ও থ্রিডি সিসমিক সার্ভে করেছে। এরপর বাপেক্স ২০১০ সালে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) অধীনে থাকা কূপে দ্বিমাত্রিক জরিপ শুরু করে।
প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান ও ভূগর্ভস্থ গঠন দেখতে টুডি সিসমিক জরিপ বা দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে মাটির নিচের বিভিন্ন স্তরের অবস্থান ও গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ একধরনের কম্পনযন্ত্রের সাহায্যে শব্দতরঙ্গ সৃষ্টি করে দ্বিমাত্রিক রেখাচিত্র তৈরি করা হয়। টুডি জরিপে ভালো ফলাফল পাওয়া গেলেও সুনির্দিষ্ট এলাকায় গ্যাসের সুস্পষ্ট মজুদ বিষয়ে নিশ্চিত হতে ও নিখুঁত চিত্র পেতে ত্রিমাত্রিক জরিপ প্রয়োজন।
২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়ার পর জরিপ খাতে ঠিক কী পরিমাণ বিনিয়োগ হয়েছে সে হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোবাংলার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তবে গ্যাস অনুসন্ধানে দুই যুগে মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে সরকার। যার মধ্যে ২০০০ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি গ্যাস উৎপাদন কোম্পানির আওতায় কূপ খননে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে আরো অন্তত ১ হাজার কোটি টাকা গ্যাসকূপ খননসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে ব্যয় হয়েছে বলে পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে।
বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা ১ হাজার ৮৬৬ লাইন কিলোমিটার টুডি সিসমিক সার্ভে ও ৩৮০ বর্গকিলোমিটার থ্রিডি সিসমিক সার্ভে করেছে।
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) মো. শোয়েব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘থ্রিডি সার্ভে বেশি করা গেলে আমাদের কূপগুলোয় কী পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে, সে বিষয়ে আরো পরিষ্কার তথ্য-উপাত্তের পাশাপাশি গ্যাসের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পেট্রোবাংলা অনেক এলাকায় এখন থ্রিডি প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’
দেশের গ্যাস খাতে স্থানীয় উৎপাদন ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস উৎপাদন কমার প্রবণতা অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্থানীয় গ্যাস খাতে তৎপরতা বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে অনাবিষ্কৃত এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা প্রয়োজন, বিশেষত পাহাড়ি এলাকা ও চরাঞ্চলে। তবে এসব এলাকায় বিস্তৃত অনুসন্ধান ও কূপ খনন করতে হলে রিগের সংখ্যাও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুর্তজা আহমদ ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্থানীয় গ্যাস খাতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ডিপ ড্রিলিং অত্যন্ত জরুরি। এটা পেট্রোবাংলা শুরু করেছে, তবে আরো বাড়াতে হবে। এছাড়া চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, পুরনো তথ্য-উপাত্তে যেখানে গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে, সেগুলোয় অনুসন্ধান শুরু করতে হবে। পেট্রোবাংলার বিপুল পরিমাণ টুডি সার্ভে রয়েছে, আরো পরিষ্কারভাবে গ্যাসের উপস্থিতি জানতে কূপ খননের পাশাপাশি থ্রিডি সার্ভেও জরুরি।’
টুডির পাশাপাশি থ্রিডি জরিপ গ্যাসের মজুদ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে সহায়ক বলে মনে করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক সদস্য ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গ্যাসের ক্ষেত্রে যত তথ্য-উপাত্ত, যত প্রমাণ, তত বেশি মজুদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ডেটা অ্যাকুইজিশন, প্রসেসিং ও ইন্টারপ্রিটেশন। এগুলো কারা করছে, কোন মেথড ব্যবহার করে করা হচ্ছে, এসবের ওপর নির্ভর করে গ্যাসের মজুদ নিশ্চয়তা। তবে কূপ খনন এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমাদের দেশের দ্বিমাত্রিক জরিপ ব্যবহার করেও অনেক বড় বড় গ্যাসকূপ খনন করা হয়েছে। এখন যদি কূপ খনন করে গ্যাস না পাওয়া যায়, তাহলে ডেটা-সংক্রান্ত বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে। এক্ষেত্রে ত্রিমাত্রিক জরিপ করে আরো পরিষ্কার ধারণা নেয়া যেতে পারে।’
দেশে গ্যাস খাতে বৃহৎ আকারে অনুসন্ধানে সরকারের দক্ষ লোকবল, যন্ত্রাংশ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন কেউ কেউ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে কূপ খননে যে কয়টি রিগ রয়েছে, তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তারা। পেট্রোবাংলা বলছে, বর্তমানে পাঁচটি রিগ কূপ খননে কাজ করছে। আরো দুটি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এলএনজি টার্মিনালে আগুন ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় তীব্র গ্যাসের সংকট চলেছে। এ সংকটের কারণে শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আবাসিকে তীব্র ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। যদিও এ সংকট এখন কাটতে শুরু করেছে। সরকার গ্যাসের সংকট সমাধানে এরই মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর পায়রা, বাগেরহাটের মোংলা ও খুলনার হিরণ পয়েন্টে তিনটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কথা জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক সেমিনারে ২০২৯ সালের মধ্যে এসব টার্মিনাল নির্মাণে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে মতামত জানতে বণিক বার্তার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।