Image description
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের আড়াই লাখ ধর্মীয় নেতাকর্মীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত, অধ্যক্ষ ও যাজক এ সুবিধা পাবেন। আজ রোববার কিশোরগঞ্জে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের ৬ মাসের পরিকল্পনায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, ব্যয় কমানো ও সেবার মানোন্নয়ন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হজের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সেবার ঘাটতি দূর করতে নেওয়া এসব উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে রাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে মাসিক সম্মানি প্রদানের জন্য ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধবিহার ও ৩০১টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে। রোববার কিশোরগঞ্জে ধর্মীয় নেতাদের চলতি অর্থবছরের সম্মানি বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন বিকাল ৪টায় কিশোরগঞ্জ সদরের পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন তিনি। সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন প্রমুখ।

হজ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন : চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত খরচের অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও এবার সরকারের কঠোর নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং প্রশাসনের সরাসরি তদারকির কারণে হজযাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, শুরু থেকেই পুরো হজ ব্যবস্থাপনা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে হজের খরচ কমাতেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এবার হজ ফ্লাইটের বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল একই সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জ ও সফল অভিজ্ঞতা।

হজ ব্যবস্থাপনায় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সেখানে কর্মরতদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ১৮০ দিনের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ছিল ধর্মীয় নেতাদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় আনা।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় সম্মানি : ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধাপে ধাপে সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের নেতাদের সম্মানি দেওয়া হবে। ইমাম মাসে ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন। একইভাবে মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও গির্জার যাজক মাসিক ৫ হাজার টাকা করে পাবেন। মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধবিহারের উপাধ্যক্ষ ও গির্জার সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা করে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো সম্মানি দেওয়া হয়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই চলতি অর্থবছরে কার্যক্রমটি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। এবার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের শ্রেণি ও ওয়ার্ডভিত্তিক নির্ধারিত সংখ্যক মসজিদও এ কার্যক্রমের আওতায় আসবে। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলা থেকে নির্ধারিত সংখ্যক মন্দির নির্বাচন করা হবে। বৌদ্ধবিহার ও গির্জার সংখ্যা জেলাভিত্তিক নির্বাচন করা হবে।

ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ যুগান্তরকে বলেন, ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধর্ম মন্ত্রণালয় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এবার আমরা সবচেয়ে প্রশংসনীয় হজ ব্যবস্থা উপহার দিতে পেরেছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ দুটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার এ খাতে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। একদিকে হজ ব্যবস্থাপনায় স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের সম্মানির আওতায় এনে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।