Image description
ডিআইএর নিরীক্ষায় মিলছে প্রমাণ

রংপুর জেলার কোতোয়ালি থানায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ সালের আয়-ব্যয় নিরীক্ষা করে ৮৪ লাখ ১৯ হাজার ২২০ টাকা ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে এই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি ডিআইএ। একই অবস্থা রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে। এই প্রতিষ্ঠানে ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ব্যয় করা অর্থ থেকে ৩৩ লাখ ৩৮ হাজার ৭৮০ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য মিলেছে।

এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির দোকান ভাড়ার টাকা থেকে ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৩০৬ টাকা ও ট্যাক্স বাবদ ১৩ লাখ ৭ হাজার ৯৫ টাকা ফাঁকি দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর বাইরে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে শিক্ষকদের দেওয়া অতিরিক্ত বেতনসহ নানা খাতে আরও ৩ কোটি ৫ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম পেয়েছে ডিআইএ। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ৩ কোটি ৯১ লাখ ১৯ হাজার ১৮৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হয়েছে। অনিয়ম করা থেকে বাদ যায়নি রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সিটি কলেজও।

২০১২-২০১৩ অর্থবছর থেকে ২০২০-২০২১—এই ৯ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা নিয়মবহির্ভূতভাবে ‘সিটি অ্যালাউন্স’-এর নামে নিয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকা। পাশাপাশি ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির মাধ্যমে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। মিরপুরের হজরত শাহ আলী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে দোকান ভাড়া থেকে আয়সহ বিভিন্ন খাত থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ ৯৯ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৭ টাকা ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে ডিআইএ।

মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ২০০৯-১০ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নানা খাতে কেনাকাটাসহ খরচে ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া হয়েছে ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৬ টাকা। এর বাইরে সম্পত্তি ভ্যাট ও আইটি বাবদ ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা, বিশেষ ক্লাস ও পরিচালনা কমিটির সম্মানির আয়কর বাবদ ১ কোটি ৫৬ লাখ ২৯ হাজার ৯৮৭ টাকা এবং উন্নয়নকাজ বাবদ ১ কোটি ৫৩ লাখ ৯০ হাজার ৪৯১ টাকা এবং ঠিকাদারকে দেওয়া বিল থেকে ১০ কোটি ৫২ লাখ ২১ হাজার ৯৫৬সহ মোট ৫০ কোটি ৫২ লাখ ২৪ হাজার ৭৮০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

শুধু এই পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই চিত্র। ডিজিটাল যুগে এসেও অ্যানালগ পদ্ধতিতে হিসাব ও লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে অন্তত ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, দেশের প্রায় ৪০ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরে অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়। এই টাকাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী সম্পদ থেকে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট-ট্যাক্সের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব পাওয়ার কথা। অথচ সরকার রাজস্ব পায় মাত্র ১০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা নানা কারচুপির মাধ্যমে ফাঁকি দেওয়া হয়। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খাতা-কলমে হিসাব রাখার পুরোনো পদ্ধতি বাদ দিয়ে ডিজিটাল ই-ক্যাশবুক পদ্ধতি চালুর তাগিদ সবার। এতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচলিত নিরীক্ষার ধরনও পাল্টে যাবে। কলামনার ক্যাশবুক দেখে নিরীক্ষার পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা হয়ে যাবে। ঢাকায় বসেই মনিটর করা যাবে যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে।

এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-ক্যাশবুক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডিআইএ ১১৩ কোটি টাকার একটি স্কিম হাতে নিয়েছে। সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতাধীন এই প্রকল্প গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুমোদন হলেও জনবল না থাকায় কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্কিমের আওতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনবল উন্নয়ন, মনিটরিংসহ ই-ক্যাশবুক বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবল অনুমোদনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা শিগগিরই অনুমোদন হওয়ার কথা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ও ডিআইএ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের প্রায় ৪০ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে আদায় হয় আনুমানিক ৪০ হাজার কোটি টাকা। বেতন, ভর্তি ফি, সেশন ফি ও বিভিন্ন অনুমোদিত চার্জের পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানের রয়েছে নিজস্ব জমি, পুকুর, দোকান, মার্কেট ও ভবনসহ নানা সম্পদ। এসব সম্পদ থেকে আসে ভাড়া ও ইজারার অর্থ। এর বাইরে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন উৎস থেকেও আসে দান-অনুদান। বিপুল এই অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব কতটা স্বচ্ছ, কোথায় কত টাকা জমা হচ্ছে, কোন খাতে কত ব্যয় হচ্ছে এবং ব্যয়ের বিপরীতে যথাযথ অনুমোদন ও প্রমাণপত্র রয়েছে কি না—তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। কাগজনির্ভর হিসাব ব্যবস্থায় প্রকৃত আয় কম দেখানো, ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভুয়া বা পুনর্ব্যবহৃত ভাউচার, হিসাবের বাইরে নগদ অর্থ রাখা কিংবা পরে ভাউচার তৈরি করে আগের তারিখ দেখানোর মতো অনিয়মের সুযোগ থাকার অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরে যে ৪০ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়, তা সরকারি বাজেটের অর্থ নয়; মূলত শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুমোদিত খাতে এই অর্থ আদায় করা হয়। এই বিপুল অর্থের মধ্যে প্রকৃত আয় কত, কত টাকা ব্যাংকে জমা হচ্ছে এবং কোন খাতে কত ব্যয় হচ্ছে—এসব তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হলে আর্থিক কর্মকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে। পেমেন্ট গেটওয়ে, ব্যাংক হিসাব এবং ই-ক্যাশবুকের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা গেলে প্রকৃত আয় নিরূপণও সহজ হবে। ফলে প্রকৃত আদায়ের তুলনায় কম আয় দেখানো কিংবা নগদ অর্থের একটি অংশ হিসাবের বাইরে রাখার সুযোগ কমে আসবে।

ই-ক্যাশবুক চালুর উদ্যোগ: উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ডকে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ই-ক্যাশবুকের ধারণাটি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) উদ্যোগ ও উদ্ভাবন। পরে এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জারি করা ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’-এর ৬(ড) অনুচ্ছেদে ভাউচার অনলাইনে ই-ক্যাশবুক সিস্টেমে এন্ট্রি এবং ডিআইএর ব্যবস্থাপনায় ই-ক্যাশবুক সিস্টেম প্রস্তুতের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলে এ ব্যবস্থা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

ই-ক্যাশে নজরদারিতে আসবে সম্পদের আয়ও: অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমি, পুকুর, দোকান, মার্কেট ও ভবনসহ বিভিন্ন সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদ ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনো উপায়ে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান আয় করতে পারে। ই-ক্যাশবুক ব্যবস্থায় এসব আয়ের তথ্যও হিসাবের আওতায় আনার সুযোগ থাকবে। কোন সম্পদ থেকে কত টাকা আয় হয়েছে, কখন অর্থ আদায় হয়েছে এবং তা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে কি না—এসব তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও যাচাই করা সম্ভব হবে। একইভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী বা অন্য কোনো উৎস থেকে পাওয়া দান-অনুদানের অর্থও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে গ্রহণ ও হিসাবভুক্ত করা হলে প্রতিষ্ঠানের মোট আর্থিক কর্মকাণ্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।

ই-ক্যাশবুক ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—একই ব্যয় একাধিক উৎস থেকে যাচাই করার সুযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ধরা যাক কোনো প্রতিষ্ঠান এক লাখ টাকা ব্যয় করেছে। সংশ্লিষ্ট ভাউচার ও ক্রয়-অনুমোদনের তথ্য সিস্টেমে থাকবে। ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ পরিশোধের তথ্য পাওয়া যাবে। আবার প্রযোজ্য ভ্যাট বা আয়কর কর্তন করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট চালানও সংরক্ষণ করা যাবে। ফলে ব্যয়টি প্রকৃতপক্ষে হয়েছে কি না, কার কাছে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে এবং সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব জমা হয়েছে কি না—একই ব্যবস্থায় যাচাই করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি সবকিছু ঠিকমতো আপডেট না করে তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমপিওর বেতন বন্ধ করা যাবে।

ই-ক্যাশে বদলে যেতে পারে নিরীক্ষার ধরন: ই-ক্যাশবুক কার্যকর হলে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের নিরীক্ষা কার্যক্রমেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চিত্র বুঝতে বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র পরীক্ষা করতে হয়। ডিজিটাল ব্যবস্থায় আয়, ব্যয়, ব্যাংক লেনদেন, ভাউচার, অনুমোদন, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং কর-ভ্যাটের চালান একই প্ল্যাটফর্মে থাকলে নিরীক্ষা আরও দ্রুত ও তথ্যনির্ভর হতে পারে। ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন, আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য, পুনরাবৃত্ত ব্যয় কিংবা নিয়মবহির্ভূত লেনদেন শনাক্ত করার সুযোগও তৈরি হবে। ফলে নিরীক্ষা শুধু কাগজপত্র যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঝুঁকিভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিআইএর একাধিক শিক্ষা পরিদর্শক ও অডিট কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে প্রচলিত যে পদ্ধতিতে অডিট ও নিরীক্ষা করা হয়, তাতে খাতাপত্র ঘেঁটে ঘেঁটে অনিয়ম বের করা কঠিন। একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে এসে তার রিপোর্ট প্রস্তুত করতে কয়েক মাস সময় পার হয়ে যায়। তার পরও সঠিক তথ্য তুলে আনা সম্ভব হয় না। ই-ক্যাশবুক চালু করা গেলে সরেজমিন পরিদর্শনের প্রয়োজন হবে না। ঢাকায় বসেই নিরীক্ষা করা যাবে।

তারা আরও বলেন, ই-ক্যাশবুক চালু হলে শুধু যে আর্থিক স্বচ্ছতা আসবে তা নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বের করা ও ফলাফল তৈরি করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর র্যাংকিং তৈরি করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ই-ক্যাশবুক চালু হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতি তিন মাস অন্তর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদন সিস্টেমে আপলোড করতে হবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়মিত অভ্যন্তরীণ নজরদারি থাকবে।

এ ছাড়াও যেসব অডিট রিপোর্ট দেওয়া হয়, তাতে অভিযুক্তদের ব্রডশিটের মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হয়। কিন্তু কয়টি প্রতিষ্ঠান জবাব দিল তা জানা সম্ভব হয় না। ই-ক্যাশবুক চালু হলে এসব নানা সংকটের সমাধান হবে।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিন্দ্য ইকবাল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যানালগ হিসাব-নিকাশে নানা কারচুপির সুযোগ রয়েছে। তাই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল চ্যানেলে লেনদেন হলে যেমন আর্থিক স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি সরকার আগের থেকে অধিক পরিমাণে রাজস্ব পাবে। তাই ধীরে ধীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল পদ্ধতির দিকে যাওয়ার জন্য বাধ্য করতে হবে। এই ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর জন্য ডিআইএ একটি স্কিম হাতে নিয়েছিল, আমরা নানা পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু এতদিনেও স্কিমটির কার্যক্রম চালু না হওয়া আমাদের জন্য বিব্রতকর।

মাউশির সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আজাদ খান বলেন, আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ বেতন নিশ্চিত করতে চাই। তবে তাদের যে আয় বা ব্যয় আছে, তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই। এর জন্য অ্যানালগ বাদ দিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করতে হবে। আমরা সবসময় চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে পারিনি।

যা বলছে ডিআইএ ও মাউশি: ডিআইএর বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক মো. আফলাতুন কালবেলাকে বলেন, ই-ক্যাশবুক চালু হলে আর্থিক স্বচ্ছতার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বয়ংক্রিয় তদারকির মধ্যে চলে আসবে। ঢাকায় বসেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তদারকি করা সম্ভব হবে। আবার তদন্তের জন্য আমাদের অফিসে যে ফাইলের পাহাড় জমে আছে, তা আর থাকবে না। আমাদের স্কিমের জনবল অনুমোদন হলেই ডিজিটাল করার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

মাউশির বর্তমান মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে এখন ক্যাশলেস পদ্ধতি চালু আছে। বাকিগুলোতেও এই পদ্ধতি চালুর চেষ্টা চলছে।