‘আমি পানিওয়ালা যামু না, তোরা এইকগাও (একজনও) পৌরসভায় আসবি না’— এভাবেই লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়াকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশের বিরুদ্ধে।
একটি বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মোবাইল ফোনে এ হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ফোনালাপের একটি অংশ ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ফোনালাপের একটি অংশে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন পলাশকে বলতে শোনা যায়, ‘মনোয়ার প্রধান অতিথি, আমনে বিশেষ অতিথির ব্যানার কইরছেন। আঁই হানিয়ালা (পানিওয়ালা) স্কুলে যাই আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারী প্রধান অতিথি ওইতে হারিনো, আমনে কন পলাশ কে? আমনে কি, সাংগঠনিক রাজনীতি কি বৃদ্ধাঙ্গুলি দিবেননি আমনে মারুফ ভূঁইয়া। আমনে বলে কইছেন, পলাইশশা কে? আমনে যদি সাংগঠনিক রাজনীতি না চর্চা করেন, আমনে ইউনিয়ন বিএনপি কিভাবে করবেন? আমার নাম কেন আসে নাই ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে? আমনে কইছেন পলাইশশা কে? আমি পানিওয়ালা যামু না, এটা আমি বলছি। তোরা এইকগাও আসবি না পৌরসভায়। আঁই প্রধান অতিথি কেন হইতে পারিনো। এ মারুফ ভূঁইয়া সাংগঠনিক রাজনীতি যদি না বুঝেন, তাহলে করিয়েন না।’
আরও বলতে শোনা যায়, ‘আঁই পৌর বিএনপির সেক্রেটারি, আমার নাম ব্যানারে আসে নাই, আমনে কন পলাইশশা কে? নির্বাচিত সেক্রেটারি, ৫০ লাখ টিয়া (টাকা) খরচ করে হালাইছি। আমনে বলেন পলাইশশা কে? আপনি পানিওয়ালাতে আসেন, সেখানে কথা হবে।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনাটি পুরনো। পরে আমি জানানোর পর সিনিয়র নেতারা বসে সমাধান করে দিয়েছেন। পলাশ আমাকে সরি বলেছেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করলেও ধরেননি তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সম্মেলন হয়। এতে ভোটে শেখ কামরুল ইসলাম সভাপতি ও গিয়াস উদ্দিন পলাশ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।