চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর ১১ তলা ভবনের গেট লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির নাম রুনা টাওয়ার। ১১ তলা এ ভবনের মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ। তার দুই ছেলে প্রবাসী ব্যবসায়ী। তাদের গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি। ইউসুফ নিষিদ্ধঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন পর গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন আজিজুর রহমান।
ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘রাতে বিদ্যুৎ ছিল না। হঠাৎ প্যান্ট-শার্ট পরা দুই যুবক এসে গেট বন্ধ করে দিতে বলেন। পরে তারা গেট লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছুড়ে হেঁটে চলে যান। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশও।’
ভবনটির মালিক ইউসুফ জানান, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে তার ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, ইউসুফের ছেলেমেয়েরা কোথায় কী করেন, তাদের জীবনবৃত্তান্ত এবং কোথায় কোথায় বাড়ি আছে, সবই তাদের জানা। এক ঘণ্টার মধ্যে বড় ভাইয়ের কথামতো ৫০ লাখ টাকা দিতে হবে। না হলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘হামজারবাগ এলাকায় চাঁদা না পেয়ে একটি ভবনের গেট লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় এখনও থানায় মামলা হয়নি।’
এর আগে গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
গত ১৩ জুন নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ওই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ইমন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। পরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি ১০ দিনের রিমান্ডে আছেন।