Image description
শর্তের কারণে হয়নি ঋণ চুক্তি

তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও আধুনিক ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ (ইডিসি) প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। তবে চীন সরকারের ঋণের শর্ত পরিবর্তন এবং মুদ্রা সংক্রান্ত জটিলতায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। কেননা অর্থায়নের অভাবে ল্যাব ও ডিজিটাল ভিলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইসিটির ব্যবহার দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৯ হাজার ২৪৪টি প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ প্রদান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ১০ হাজার ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, উপজেলা পর্যায়ে ৫৫৫টি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ছাড়া রাজধানীতে ২১ তলা একটি আইকনিক ‘আইসিটি টাওয়ার’ নির্মাণের মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যও ছিল। একই সঙ্গে ১০টি ডিজিটাল ভিলেজ গড়ে তোলার পাশাপাশি বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের ডিজিটাল সিস্টেম ‘বন্ধন’ সফটওয়্যার নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরনের আইসিটি অবকাঠামো স্থাপনই ছিল এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এই ইডিসি প্রকল্প ছিল সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম স্তম্ভ। এর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের প্রতিটি গ্রামে আধুনিক আইসিটি অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে সরকারি সেবাগুলোকে ই-সেবায় রূপান্তর করে জনগণের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দেওয়া। আইসিটি অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। একই সঙ্গে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা। সব মিলিয়ে তৃণমূলের মানুষের হাতে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্নের সারথি হওয়ার কথা ছিল ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ (ইডিসি) প্রকল্পটির।

তবে গত বছরের নভেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়া কথা থাকলেও এক দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৮.২৯ শতাংশ। অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তি না হওয়ায় প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে বেশিরভাগ কাজই বাদ দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইডিসি প্রকল্পের এমন বেহল দশা।

প্রকল্প বাস্তবায়নের এমন বেহাল দশার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, এই অচলাবস্থার মূলে রয়েছে চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তি না হওয়া। আইএমইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ হাজার ৯২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের ইডিসি প্রকল্পে চীনের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল ৩ হাজার ৩৭৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ ঋণ হিসেবে এই প্রকল্পের বেশিরভাগ অর্থায়ন করা কথা ছিল চীনের। এ লক্ষ্যে ২০২২ সালে দুদেশের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক চুক্তিও হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালে চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তি হওয়ার কথা ছিল।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের একটি বিশাল অংশ চীনা ঋণে হওয়ার কথা থাকলেও মুদ্রা ও সুদের হার নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। চীন সরকার প্রাথমিকভাবে ডলারে ঋণ দেওয়ার কথা বললেও পরবর্তী সময় ২০২৪ সালে এসে তারা শর্ত জুড়ে দেয়—ঋণ নিতে ও পরিশোধ করতে হবে তাদের নিজস্ব মুদ্রা আরএমবিতে। ডলার দিয়ে চীনা মুদ্রা কিনে ঋণ শোধ করতে গেলে কার্যকর সুদের হার ১০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া এ প্রকল্পে চীন শর্ত পরিবর্তন করে তাদের নিজস্ব মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার কথা বললে আওয়ামী লীগ সরকার তাতে রাজি হয়নি। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারও ডলারে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, কিন্তু তারাও চীনের কাছ থেকে ঋণ নিতে ব্যর্থ হয়।

কয়েক বছর ধরে চেষ্টার পরও চীনের কাছ থেকে ডলারে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে চিঠি দিয়ে জানায়, আরএমবি মুদ্রায় বর্তমানে সুদ হার অনেক বেশি। ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে উচ্চ সুদ হার ও ঋণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনায় এ মুহূর্তে আরএমবিতে ঋণচুক্তি করা বাংলাদেশের জন্য সমীচীন হবে না। ইআরডির এমন চিঠির পর গত বছরের শেষদিকে চীনা ঋণ বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চীনা ঋণের অংশটি বাদ দিয়ে এখন সরকারি নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি টেনে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে প্রকল্পটি দ্বিতীয়বার সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি অধিদপ্তর। এরই মধ্যে সংশোধনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের পরিধি অনেক কাটছাঁট করা হচ্ছে। শুধু জরুরি অংশগুলো (যেমন উপজেলা আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ব্রডব্যান্ড সংযোগ) সরকারি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। দ্রুতই সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হবে পরিকল্পনা কমিশনে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রথম সংশোধনীতে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এর পরও চীন সরকারের সঙ্গে ঋণচুক্তি সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্পের মূল বরাদ্দ থেকে ৩ হাজার ৩৭৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বাদ দিয়ে দ্বিতীয় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে কাজ শেষ করতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। পরে সংশোধন করে ব্যয় নির্ধারণ করে ৫ হাজার ৯২৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। তবে চীন সরকারের সঙ্গে ঋণচুক্তি না হওয়ায় দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫৪৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মূলত চীনা ঋণের অংশটি বাদ দিয়ে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব করায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনা অর্থায়ন না পাওয়ায় যেসব লক্ষ্যমাত্রা বাতিল হয়েছে, তাতে প্রকল্পটির উপযোগিতা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ।

ঋণ চুক্তি না হওয়ার প্রভাব: আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন সরকারের সঙ্গে ঋণচুক্তি না হওয়ায় প্রকল্পটি তার মূল অভিলক্ষ্য অর্জনে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ঋণচুক্তি না হওয়ায় অর্থায়নের অভাবে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি সেন্টার, সিআরভিএস ও ডিজিটাল ভিলেজ সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসমূহ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রকল্পের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সার্ভার, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টারের মতো অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামো স্থাপিত না হওয়ায় প্রকল্পের টেকসই ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ছাড়া, প্রকল্পের মূল কাজগুলো সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সীমিত আকারে পরিচালনার প্রস্তাব করা হলেও এটি প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে যথেষ্ট নয়। ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বাদ দেওয়ায় ডিজিটাল সেবার গুণমান ব্যাহত হচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামো না থাকলে দেশের আইসিটি সক্ষমতা বৃদ্ধি, জনসেবার ডিজিটাল রূপান্তর এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার প্রত্যাশা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে না, যা ডিজিটাল বৈষম্য দূরীকরণে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

জানা গেছে, প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আইসিটি শিক্ষার প্রসারে ১০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ স্থাপন; কিন্তু অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ১০ হাজার ল্যাব স্থাপনের পুরো কার্যক্রমই বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের ডিজিটাল সিস্টেম ‘বন্ধন’ সফটওয়্যার এবং এর আওতায় ৫ হাজার ৫০০ জন কাজীর প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল যন্ত্রপাতির কার্যক্রমটিও বাতিলের তালিকায় রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশের ১০টি গ্রামে ‘ডিজিটাল ভিলেজ’ বা স্মার্ট ভিলেজ গড়ার পরিকল্পনাও বাদ দেওয়া হয়েছে। শুরুতে ৫৭টি বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপনের কথা থাকলেও ঋণের সংস্থান না হওয়ায় এখন সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে মাত্র ২০টি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঢাকার পূর্বাচলে যে ২১ তলা আইকনিক আইসিটি টাওয়ার নির্মাণের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, অর্থের অভাবে তার কাজও শুরু করা যায়নি; এখন তা কাটছাঁট করে ১২ তলা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমানো হচ্ছে উপজেলায় সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ল্যাব ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলো বাদ দেওয়ায় এগুলোর দেখভালের জন্য নির্ধারিত ১২ জন পরামর্শকের পদ দ্বিতীয় সংশোধনীতে বাতিল করে মোট পরামর্শকের সংখ্যা ২৮ থেকে কমিয়ে ১৬ জন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। চীনা ঋণের আওতায় যে যানবাহনগুলো কেনার কথা ছিল, সেগুলোও দ্বিতীয় সংশোধনীতে বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অর্থায়নের এই সংকটের কারণেই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনা থেকে অনেক বড় বড় প্যাকেজ বাদ দিতে হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের যুগ্ম সচিব মর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান কালবেলাকে বলেন, মূলত চীনা ঋণে অনিশ্চয়তা কারণেই প্রকল্প সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পে চীনা ঋণের যে অর্থ ধরা হয়েছিল সেটা বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে প্রকল্প থেকে বেশ কিছু খাত বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে মূল কার্যক্রমের অনেক কিছু বাদ গেলেও বর্তমান সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী অতি জরুরি কাজগুলো রাখা হচ্ছে, যাতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত না হয়। বাকি কাজগুলো ভবিষ্যতে অন্য কোনো প্রকল্পের আওতায় করার পরিকল্পনা থাকবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু করা যায় না। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে যেহেতু বেশিরভাগ অংশই চীনে ঋণে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল, তাদের ঋণ না পাওয়ায় সেসব কাজ শুরু করা যায়নি, এ কারণে বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। এখন প্রকল্প সংশোধন করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই ইডিসি প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে কার্যক্রম শুরু করে নির্ধারিত মেয়াদে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে লক্ষ্যমাত্রা কাটছাঁট আর সময়ক্ষেপণের ফলে প্রকল্পটি তার মূল উপযোগিতা হারাবে এবং তৃণমূলের মানুষকে ডিজিটাল দুনিয়ায় যুক্ত করার স্বপ্নটি অর্থহীন অপচয়ে পরিণত হবে।

জানতে চাইলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ফাহিম মাশরুর কালবেলাকে বলেন, প্রকল্পের মূল উপকরণ বা গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো যদি বাদই দিয়ে দেওয়া হয়, তবে প্রকল্প রাখার কোনো দরকার নেই। তার মতে, প্রকল্পটি পুরোটাই বাদ দেওয়া উচিত। যা খরচ হয়ে গেছে তা বাদে নতুন করে এর পেছনে আর রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই। বর্তমানে সরকার যেখানে অর্থনৈতিক চাপে আছে এবং অনেক জায়গায় ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, সেখানে এ ধরনের ব্যয় যৌক্তিক নয়।

ফাহিম মাশরুর বলেন, এ ধরনের অবকাঠামনির্ভর প্রকল্পে তথ্যপ্রযুক্তি সম্প্রসারণে তেমন কাজে আসে না, এগুলো নেওয়া হয় মূলত লুটপাটের উদ্দেশ্যে। এ ধরনের প্রকল্পের কোনো বাস্তব ‘ইমপ্যাক্ট’ বা প্রভাব নেই। সরকার এ ধরনের কানেক্টিভিটি অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে না, ফলে যন্ত্রপাতি পড়ে থেকে নষ্ট হয়। কানেক্টিভিটির জন্য প্রাইভেট সেক্টরকে উৎসাহ দেওয়া উচিত এবং তাদের জন্য সঠিক পলিসি করা উচিত।