মঙ্গলবার রাত ১০টা। বৃষ্টির কারণে বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে উবারের সিএনজিতে ফার্মগেট থেকে উত্তরায় যান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম ইসলাম। এজন্য তাকে গুনতে হয় ৬৮০ টাকা, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে একই পথে সিএনজি ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। ফাহিম বলেন, বৃষ্টির দিনে গাড়ি পাওয়া যায় না। আর চালকরা সেই সুযোগে ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়িয়ে দেন। যাত্রীদের ভোগান্তির কথা কেউ ভাবেন না। রাজধানীতে সরেজমিন দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বাসের পাশাপাশি সিএনজি, রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল ও রিকশার সংখ্যাও কম থাকে। এ সুযোগে অনেক চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। ফলে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপের সঙ্গে বাড়তি পরিবহন ব্যয়ও যোগ হয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। সিএনজি চালকদের ভাষ্য, বৃষ্টির পানিতে ইঞ্জিন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকায় অনেকেই গাড়ি বের করতে চান না। পানি ঢুকলে গাড়ি কয়েক দিন গ্যারেজে রাখতে হয়, আবার রাস্তায় বিকল হলে উদ্ধারেও অতিরিক্ত খরচ হয়। এ কারণে ঝুঁকি বিবেচনায় অনেক চালক বেশি ভাড়া চান।
১০ বছর ধরে সিএনজি চালানো মো. সেলিম মিয়া বলেন, পানি জমার কারণে অনেক চালক গাড়ি নামাতে চান না। যারা ঝুঁকি নিয়ে বের হন, তারা কিছুটা বেশি ভাড়া চান। আবার গাড়ির সংকট থাকায় ভাড়াও বেড়ে যায়। প্রধান সড়কের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অলিগলিও বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। খিলক্ষেত এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে। এতে হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ায় রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশাই ভরসা হয়ে ওঠে। এ সুযোগে অনেক চালক দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া নেন। খিলক্ষেতের বাসিন্দা আল-আমিন মিয়া বলেন, বৃষ্টিতে ২০ টাকার রিকশা ভাড়া ৬০ টাকা দিতে হয়। দর কষাকষির সুযোগ থাকে না। সাধারণ মানুষ তখন অসহায় হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় গণপরিবহন সংকটের কারণে অফিসগামী চাকরিজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাওয়ায় মাসিক বাজেটে চাপ বাড়ে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. আনোয়ার বলেন, পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে অন্য খাতের ব্যয় কমাতে হয়। নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালাতে তখন খুবই কষ্ট হয়। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ হলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা নিয়মিত হচ্ছে। কার্যকর নজরদারির অভাবে যাত্রীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সমস্যা সমাধানে সরকারের সদিচ্ছা ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা সম্ভব নয়।