Image description

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও কুমিল্লার দেবিদ্বারে আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ ও নির্যাতনের শিকার চারজন স্থান পাননি সরকারের করা আহতদের চূড়ান্ত গেজেটে। শরীরে গুলির ক্ষত ও স্প্লিন্টার বয়ে বেড়ানো এই চার লড়াকু এখনও পাননি কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা সরকারি অনুদান।

তালিকা থেকে বাদ পড়া চারজন হলেন—দেবিদ্বার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাজমুল হাসান সরকার, স্থানীয় সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদ এবং শিক্ষার্থী কাজী ইয়াছিন ও মো. সোহাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দেবিদ্বারে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের হামলায় ব্যাপক সংঘাতের সৃষ্টি হয়। ওই সংঘর্ষে নাজমুল হাসান সরকারের মাথা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান স্প্লিন্টারে ঝাঁঝরা হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসাতেও তার শরীর থেকে সব স্প্লিন্টার বের করা সম্ভব হয়নি। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদ হামলাকারীদের ধাতব পাইপের আঘাতে গুরুতর আহত হন; এতে তার বাঁ কান ও পায়ের জয়েন্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া ওই একই সংঘর্ষে ১৬ বছর বয়সি শিক্ষার্থী কাজী ইয়াছিনের বাহু ভেদ করে গুলি চলে যায় এবং ১৮ বছর বয়সি সোহাগের ডান হাত স্প্লিন্টারে ক্ষতবিক্ষত হয়। আজও তারা সেই যন্ত্রণার মাশুল গুনছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য ও দালিলিক প্রমাণ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তাদের নাম সরকারি তালিকায় আসেনি। ফলে তারা বিনামূল্যে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা ও ভাতা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি সিয়াম আহমেদ বলেন, এটি কোনো করুণা বা ব্যক্তিগত অনুদানের বিষয় নয়, এটি তাদের প্রাপ্য মর্যাদা। আমরা সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে দেবিদ্বারের এ চারজনসহ সারা দেশের বাদ পড়া প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের অবিলম্বে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে ওই আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।