৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচি থাকলেও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আয়োজন সীমাবদ্ধ রয়েছে আবাসিক হলের বিশেষ খাবারে। ক্যাম্পাসে দিবসটিকে কেন্দ্র করে কোনো আয়োজন না থাকায় এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কর্মসূচি না রেখে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে আয়োজন করায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকায় এক দিন আগে, ৪ আগস্ট, ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। তবে পরে সেই অনুষ্ঠানটি আর হয়নি। দিবসটি উপলক্ষে আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও আলোচনা সভা, স্মরণ অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র বা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মতো কোনো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি রাখা হয়নি।
ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. এমদাদ সরকার বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো উদ্যোগ ছিল না। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র কিংবা প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে জুলাইয়ের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা যেত।
ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘জুলাই মানে সাম্য ও ন্যায্যতা। অথচ দিবসটি উপলক্ষে বুটেক্সে কোনো কেন্দ্রীয় আয়োজন দেখা যায়নি। যারা জুলাইয়ের সুফল পেয়েছেন, তাদের এর দায়ও নিতে হবে।’
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ধ্রুব সাহা রুদ্র বলেন, হলের বিশেষ খাবার ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো সাংস্কৃতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক আয়োজন ছিল না। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক অভিজ্ঞতা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কাউন্সেলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসেন সামি বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে সেমিনার আয়োজন করে জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও স্মৃতি তুলে ধরা যেত। আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করার সুযোগও ছিল।
টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহ নাফি উদ্দিন তুর বলেন, বুটেক্সের অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি এমন হওয়া উচিত, যাতে আবাসিক ও অনাবাসিক সবাই সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।