Image description

জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ছিল পুরো সিলেট। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের প্রায় প্রতিটি দিন ছিল আতঙ্কের। একদিকে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী, অন্যদিকে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা। পুলিশের সঙ্গে একজোট হয়ে অস্ত্র হাতে মাঠে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ক্যাডাররা। ৫ আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালালে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। সেই সঙ্গে আড়ালে চলে যান অস্ত্রধারী ক্যাডাররা। ওই দিন সিলেটের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি আন্দোলনে প্রদর্শিত সেসব অবৈধ অস্ত্র। অধরা থেকে গেছেন অস্ত্রধারীরাও। তাদের অনেকে দেশ থেকে পালিয়েছেন। পুলিশের লুট হওয়া সব অস্ত্রও গত দুই বছরে উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বেগে আছেন সাধারণ মানুষ।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই নগরীর আখালিয়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালান ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। শেখ হাসিনার পতনের আগের দিন ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার পূর্বনির্ধারিত সমাবেশস্থল কোর্ট পয়েন্টে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চড়াও হন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ক্যাডাররা। অন্তত ৩০ জন ক্যাডার ওই দিন কোর্ট পয়েন্টে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি করে ত্রাসের সৃষ্টি করে। পরে তারা জিন্দাবাজার, আম্বরখানা ও নয়া সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র উঁচিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে।

ওই দিন অস্ত্র হাতে যাদের দেখা গিয়েছিল তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন শিবলু, মহানগর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হান্নান, ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অনীক, ছাত্রলীগ নেতা আনসার আহমদ ওরফে শুটার আনসার, জায়েদ আহমদ, যুবলীগ নেতা মুনিম আহমদ ও বাবুল আহমদ পাঙ্গাশ। তৎকালীন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য প্রবাসী যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন শিবলুর প্রদর্শিত আগ্নেয়াস্ত্রটি অত্যাধুনিক এম-১৬ রাইফেল বলেও দাবি অনেকের। অস্ত্রধারীদের বেশির ভাগই সরকার পতনের পর ভারতে পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে কেউ কেউ অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এদের মধ্যে রুহুল আমিন শিবলু, এম এ হান্নান, আফতাব হোসেন খান এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। কয়েকজন এখনো ভারতে অবস্থান করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে পুলিশের অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৮৫টি। এখনো উদ্ধারের বাকি ১৬টি। প্রদর্শিত অবৈধ অস্ত্র ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন এসএমপির উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

এদিকে সিলেট জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানা থেকে ৩১টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ২১টি উদ্ধার হয়েছে জানিয়ে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানান, লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত আছে। অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতাও চলমান আছে। র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার তাজমিনুর রহমান চৌধুরী জানান, অবৈধ ও পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে র‌্যাবের অভিযান চলমান। র‌্যাব বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে পুলিশের লুণ্ঠিত বেশ কয়েকটি অস্ত্র, গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও টিয়ার শেল গ্রেনেড উদ্ধার করেছে।