Image description

রংপুর জেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ১০ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও স্বাস্থ্যসেবাসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় একাধিকবার ও রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। রাতের লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবারকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মিল্লাত হাসান বলেন, ‘অসহ্য গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ওয়ার্ডে থাকা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমি ডায়রিয়ার রোগী, আমার আরও বেশি সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে ঘুমানো যায় না। অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।’

এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীরা এমনিতেই কষ্টে থাকেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তাদের ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অন্তত হাসপাতালের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার ব্যবস্থা করা উচিত।’

গঙ্গাচড়া আলমবিদিতর এলাকার শিক্ষার্থী মুন্না মিয়া জানান, রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দিনের বেলাতেও প্রচন্ড গরমের অধিকাংশ সময়েই বিদ্যুৎ থাকে না।

মিঠাপুকুরের কম্পিউটার দোকানদার শাহিন মন্ডল জানান, দিন রাতের প্রায় ১০ ঘণ্টা সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার, ফটোকপি, ইন্টারনেটনির্ভর সেবা ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

কৃষক রোকন বলেন, ‘সেচের সময় বিদ্যুৎ না থাকলে জমিতে ঠিকমতো পানি দেওয়া যায় না। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

ভুক্তভোগীরা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন ও লোডশেডিং কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। পাশাপাশি, নির্ধারিত লোডশেডিংয়ের সময়সূচি প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন, যাতে মানুষ আগাম প্রস্তুতি নিতে পারেন।

এ বিষয়ে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আশরাফ উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘গতকাল আমাদের এলাকায় সর্বোচ্চ ৪৭ শতাংশ লোডশেডিং ছিল। আজ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ লোডশেডিং হয়েছে। গত এক সপ্তাহ থেকে সাপ্লাই কম থাকায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে।’