Image description

ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এ বিষয়ে সম্প্রতি পৃথক তিনটি পত্র জারি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের দাবিতে লিখিত আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাঠানো পত্রে বলা হয়, সংসদ সদস্যের সুপারিশের ভিত্তিতে চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়, চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।

পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠান তিনটিকে সরকারিকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরকেও গুরুত্বের সঙ্গে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি হলে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হবে।

চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. সামছুদ্দিন টিপু বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম নয়নের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারিকরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এসব ধাপ শেষ হওয়ার পরই সরকারিকরণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।