কুমিল্লার দেবিদ্বারে জুলাইযোদ্ধা ছাত্রদল কর্মী আবু বকর মোল্লা এখন মানসিক ভারসাম্যহীন। দুই বছর চিকিৎসা শেষে জীবন ফিরে পেলেও স্মৃতিশক্তি ফিরে পাননি এই তরুণ। তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে সহায়-সম্বল সব হারিয়েছেন বাবা আবুল খায়ের মোল্লা। পরিবারের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে সাহায্য পেলেও তা চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় অপ্রতুল। এতে চরম বিপাকে রয়েছে পরিবারটি।
জানা গেছে, দেবিদ্বার উপজেলার শাকতলা গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে আবু বকর। পড়াশোনা করতেন পার্শ্ববর্তী ধামতী আলিয়া মাদ্রাসায়। তবে রাজনৈতিকভাবে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ছাত্রদলের সব কর্মসূচিতে অংশ নিতেন।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলন তাকে উদ্বেলিত করে। এতে পরিবারের অজান্তেই প্রতিদিন যোগ দিতেন আন্দোলন-সংগ্রামে। ছাত্রদলের নেতৃত্বে যোগ দিতেন সব সভা-সমাবেশে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দেবিদ্বার উপজেলা সদরের কালাচাঁন মার্কেটের সামনে ছাত্রদলের মিছিলে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসীরা’। এতে আবু বকরের মাথার খুলি ভেঙে যায়। তাকে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা করানো হয়। দীর্ঘ দুই বছর চিকিৎসার পর জীবন ফিরে পেলেও স্মৃতিশক্তি ফিরে পাননি এই জুলাইযোদ্ধা।
পরিবার জানায়, হামলার পর আবু বকরকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কাবিলা ইস্টার্ন মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে একমাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কুমিল্লায় ফেরার আগ মুহূর্তে অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা ট্রমা হসপিটালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ১৬ দিন আইসিইউতে থাকার পর তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালের নিউরোলজি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে ব্রেনের অস্ত্রোপচার করে টানা দুই মাস আবার তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। বর্তমানে বাড়িতে রেখে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আবু বকরের পরিবার আরও জানায়, জুলাই ফাউন্ডেশনসহ রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে কিছু সহায়তা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। স্থানীয় সংসদ-সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার খোঁজ-খবর রাখছেন।
জুলাইযোদ্ধার বাবা আবুল খায়ের বলেন, ছাত্রদলের মিছিলে আমার ছেলে হামলার শিকার হয়। ছেলেটি এখন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। সে কাউকে চিনতে পারে না। আমি ছেলের চিকিৎসার জন্য সব সম্পদ বিক্রি করে দিয়েছি। ইতোমধ্যে অনেকেই আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু যে সহায়তা পেয়েছি তা অপ্রতুল। আমি এখন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই। শাকতলা এলাকার বাসিন্দা সুমন আহমেদ বলেন, আবু বকরকে চিকিৎসা করাতে করাতে তার পরিবার একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসা ছাড়া তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, আমি সদ্য এখানে যোগ দিয়েছি। আমি এই জুলাইযোদ্ধার খোঁজ-খবর নেব। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা এলে ওই পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।