Image description

এক সপ্তাহের টানা ভারি বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল, সেই সঙ্গে ক্ষণে ক্ষণে বর্ষণে দেশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর—এলজিইডির কমপক্ষে সাড়ে ছয় হাজার কিমি সড়ক-মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব সড়ক-মহাসড়ক সংস্কারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নির্দেশে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজ শুরু হয়েছে।

স্থায়ী মেরামতকাজের জন্য ব্যয় প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

এলজিইডি ও সওজ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও বন্যায় দেশে উভয় অধিদপ্তরের অধীনে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবার মাঠ পর্যায়ের সব তথ্য এলে ক্ষতির পরিমাণ সাত হাজার কিমি ছাড়াবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সওজ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অধিদপ্তরের রক্ষণাবেক্ষণ শাখার গত ২২ জুলাইয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য বলছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে অধিদপ্তরের ৯৬১ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ১৮২.৬ কিমি, আঞ্চলিক মহাসড়ক ১৪২.৪ কিমি ও জেলা মহাসড়ক ৬৩৬.৩ কিলোমিটার। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জোনে ২১২ কিমি। এ ছাড়া খুলনা জোনে ২০০ কিমি, রংপুর জোনে ১৫৫ কিমি, কুমিল্লা জোনে ১৪৬ কিমি, গোপালগঞ্জ জোনে ১৩৪ কিমি মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
 
বরিশাল, কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য জোনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট শাখার তৈরির  কাজ এখনো শেষ হয়নি বলে জানা গেছে।

সওজ অধিদপ্তরের রক্ষণাবেক্ষণ শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, স্থানীয় পর্যায় থেকে তথ্য আসছে। এখনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি। অধিদপ্তরের কমপক্ষে এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সওজ সূত্র জানিয়েছে, এসব মহাসড়ক মেরামতে দুই হাজার কোটি টাকার দরকার হবে বলে ব্যয় প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

তা চূড়ান্ত করবেন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগে ক্ষতি সবচেয়ে বেশি : চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ২১২.৯৪ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়ক মেরামতে ৩৭৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে সওজ অধিদপ্তর। সওজ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। রাঙামাটি সড়ক বিভাগের ৩.৩৯ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জানা গেছে, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন গত সপ্তাহে সওজ অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে মহাসড়ক মেরামতের জন্য স্বল্পমেয়াদি (তিন থেকে পাঁচ বছর স্থায়ী) এবং দীর্ঘমেয়াদি (পাঁচ বছরের বেশি সময় স্থায়ী) ব্যয়ের প্রাক্কলন করে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সওজ চট্টগ্রাম জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহে আরেফীন বলেন, ‘বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোয় যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে নিয়মিত মেরামতকাজ শুরু করা হয়েছে।

এলজিইডির প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত :  সাম্প্রতিক বন্যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গত ২৮ জুলাইয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ৮৬৮.৩৭ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে এক হাজার ২৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া দুই হাজার ৫৯৯.৬৩ মিটার সড়ক-অবকাঠামো (ব্রিজ-কালভার্ট) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ১৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এলজিইডির সড়ক ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণ ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পরিমাণ নির্ধারণে মাঠ পর্যায়ের তথ্য ডিজাস্টার-রিলেটেড রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেমের (ড্রিডাস) মাধ্যমে সংগ্রহ করছি।’

সরেজমিনে সড়ক পরিস্থিতি, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরনো পাগলা সড়ক বেহাল : নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সংস্কারের অভাবে খানাখন্দ বাড়ছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরনো পাগলা সড়কে। প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোটরসাইকেল আরোহীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছেন। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে ভারী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনার লাগাতার চলাচলের কারণে যানজট এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকার পোস্তগোলা থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের তোলারাম কলেজ মোড়, জামতলা, মাসদাইর কবরস্থান, পুলিশ লাইন, লোহার মার্কেট, বন বিভাগ, বিসিক সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক বর্ষায় অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি পঞ্চবটি থেকে পুলিশ লাইন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায়। পঞ্চবটি থেকে নারায়ণগঞ্জ কলেজে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী কাজল বলেন, দুরবস্থার দরুন ভাড়াও দ্বিগুণ-তিন গুণ আদায় করছেন অটোচালকরা। ঢাকা সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন সাকিব বলেন, ‘এ সড়কে বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে ৫০০ মিটার অংশ সংস্কারে দরপত্র অনুমোদন করা হয়েছে। বৃষ্টি কমে আবহাওয়া অনুকূলে এলেই কাজ শুরু করা হবে।’ 

কলমাকান্দার সড়কে ৮ কোটি টাকার ক্ষতি : নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় এলজিইডির প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক খাতে এ ক্ষতির পরিমাণ আট কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি ঢলে উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে খারনৈ ইউনিয়নের শ্রীপুর, গজারমারি ও নলচাপড়ার তিন কিলোমিটার পাকা সড়ক। এ ছাড়া নাজিরপুরের আনন্দপুর-দিলোরা ও রংছাতির বরুয়াকোনা, খাসপাড়া ও পাঁচগাঁও এলাকার দুই কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব সড়কের অনেকাংশে কার্পেটিং উঠে গেছে এবং বিভিন্ন অংশ ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব স্থানে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা বিকল্প পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করছে। এলজিইডির কলমাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাকা ও সাত কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে সড়ক খাতে প্রায় আট কোটি ৬৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। 

রাজশাহীর ৯ উপজেলার সড়কে ভোগান্তি : রাজশাহী অফিস জানায়, বর্ষায় রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ২০০ কিলোমিটার রাস্তার অনেকাংশ বর্ষায় খানাখন্দে রূপ নিয়েছে। রাজশাহী কাটাখালি-দুর্গাপুর প্রায় ১৮ কিলোমিটার রাস্তাটি বেহাল হয়ে আছে।  রাস্তার অর্ধেকাংশ যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

জেলার কেশরহাট-তানোরের ১৪ কিলোমিটার রাস্তাটি এত খারাপ যে, কোথাও গর্তে হাঁটুসমান কাদাপানি জমে থাকে। এলজিইডির রাজশাহী জেলার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বর্ষা এখনো শেষ হয়নি। শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার তালিকা করব। তবে বেশকিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুঠিয়া-দুর্গাপুরের ওই এক কিলোমিটার রাস্তাটি ২০ বছর ধরে সংস্কার না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি খুবই দুঃখজনক। দুই পাশে সংস্কার হয়েছে মাঝে এক কিলোমিটার কেন এত দিনে হয়নি সেটি বলতে পারব না। আমরা এখন রাস্তাটি কিভাবে দ্রুত সংস্কার করা যায়, সেটি নিয়ে উদ্যোগ নেব।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় রাজশাহীর মোহনপুর-ভবানীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তাটিও বর্ষায় বিধ্বস্ত হয়েছে।

জয়পুরহাটে বেহাল এই তিন কিলোমিটার : জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, জয়পুরহাট-পাঁচবিবি-হিলি সড়কের জয়পুরহাট শহর থেকে পুরানাপৈল বাইপাস পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের স্থানে স্থানে পিচ উঠে গেছে, কোথাও দেবে গেছে। জোড়াতালি দিয়ে সড়ক মেরামতের কাজ চলছে। তবে জেলার সড়ক বিভাগের দাবি, অতি বৃষ্টির পাশাপাশি সড়কের দুই পাশের পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে সড়কের তিন কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তা সংস্কারের কাজ চলছে। সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণেই সড়কটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদার নাজমুল হক মাসুম বলেন, ‘এরই মধ্যে বেশ কিছু অংশের সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। ভিত্তি ভালো না থাকায় সড়কটির শহর অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

পিরোজপুর-শ্রীরামকাঠি সড়ক দুর্ভোগের প্রতীক : পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, পিরোজপুর-শ্রীরামকাঠি সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংস্কারের দীর্ঘসূত্রতা, খানাখন্দ আর জলাবদ্ধতায় আট কিলোমিটার সড়কে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ চলতে চান না। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন একটি ‘মৃত্যুফাঁদ’। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র শ্রীরামকাঠির সঙ্গে পিরোজপুর শহরের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। শ্রীরামকাঠি, টোনা, কলাখালী এবং পিরোজপুর পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডের ২০ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ডুবে পুরো সড়ক ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা সড়কটির সংস্কারের জন্য ‘ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুটি প্যাকেজে ১৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চুক্তি হয়। রাস্তার কাজ ২০২৪ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই রাস্তার কাজ আর কখনোই শুরু হয়নি। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আত্মগোপনে রয়েছেন। এ ছাড়া দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা দায়ের হয়েছে। 

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি জানান, বরিশাল-বানারীপাড়া সড়কের বানারীপাড়ার চৌয়ারীপাড়া-গুয়াচিত্রা অংশে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল খান বলেন, সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। তাতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, প্রায় দুই বছর ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বরিশাল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, অব্যাহত বৃষ্টিতে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার করা সম্ভব নয়। 

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের পশ্চিম বানিয়ারকুম থেকে চট্টগ্রাম-মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ডলমপীর শাহ মাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে একমাত্র কালভার্ট ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। গত ২৮ জুলাই সড়ক সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন অসংখ্য ভুক্তভোগী। এলজিইডি চকরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, ‘সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’