Image description

চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগে ১০ তলা আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক একটি ভবনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদন ছাড়াই এরিস্টো কেয়ার নামে একটি হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। নির্মাণে নকশা লঙ্ঘন, পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকা এবং একাধিক কাঠামোগত অসংগতি নিয়ে সিডিএ একাধিকবার নোটিশ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও থামেনি কাজ। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা হাসপাতালটি ঘিরে এবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এই অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালটি পরিদর্শনে যান সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এ সময় তিনি আগামী সোমবার সিডিএর নকশাসহ যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে সিডিএর কার্যালয়ে আসার জন্য বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

সরেজমিনে জানা গেছে, হাসপাতালের নিচে নেই পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। ভবন নির্মাণের সময় একটি লিফটের অনুমোদন থাকলেও স্থাপন করা হয়েছে তিনটি। এ ধরনের নির্মাণত্রুটি রেখে ভবনে হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনার বিরুদ্ধে সিডিএ কয়েক দফা সরব হলেও কোনো ফলাফল নেই। সিডিএকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হাসপাতালটি চালুর তোড়জোড় চলছে।

সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২, প্রকৌশলী তানজিব হোসেন বলেন, ‘এই ভবনে হাসপাতাল করার অনুমোদন দেয়নি সিডিএ। আমরা মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করেছি। কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছি কয়েকবার নোটিশ দেওয়ার মাধ্যমে। হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনা নির্মাণে যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সিডিএর চেয়ারম্যান মহোদয় জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন।’

সিডিএ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবনটি নির্মাণে ২০২২ সালের ২১ আগস্ট সিডিএ অনুমোদন দেয়। জমির মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম গংয়ের সঙ্গে ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর হাসপাতাল করার জন্য ডা. তৌফিক হোসেন ও ডা. ফজল করিম বাবুল চুক্তিবদ্ধ হন। এই ভবনে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ২০টি পিলার স্থাপনের কথা থাকলেও করা হয়েছে ১৭টি। এতে ভবনটিতে ঝুঁকি বেড়ে যায়। নকশায় অনুমোদন ছিল একটি লিফট; কিন্তু স্থাপন করা হয় তিনটি। এতেও ভবনটিতে মারাত্মক ঝুঁকি বেড়ে যায়। এসব অসংগতি দেখে ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট ভবনের মালিককে শোকজ করা হয়। কিন্তু তা কর্ণপাত করেননি ভবনের মালিকেরা। এরপর গত বছরের ২৮ জানুয়ারি সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২, তানজিব হোসেন ভবনের মালিকদের আবারও শোকজ করেন। মেহেদিবাগের ওই সড়কটি খুবই ব্যস্ততম। এই সড়কের পাশে সিডিএর অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের হাসপাতাল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক সেন্টার না করতে নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল ওই শোকজ নোটিশে। এতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়ার আগপর্যন্ত সকল প্রকার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও ভবনের কাজ বর্তমানে শেষ করে উদ্বোধনের অপেক্ষা রেখেছেন ভবনের মালিক ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালটির উদ্যোক্তারা।

এ বিষয়ে এরিস্টো কেয়ার হাসপাতালের উদ্যোক্তা ডা. শরীফ মো. তৌফিক হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ভারতে মায়ের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।’

ভবনের মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এসব বিষয় জানি না। ভবনটি ভাড়া দিয়ে ফেলেছি হাসপাতাল করার জন্য।’

এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের (মহানগর) সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বলেন, ‘এরিস্টো কেয়ার হাসপাতালের কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র নেই।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, ‘ভবনটি আমরা পরিদর্শন করেছি। ভবন নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদনের বিষয়টি সিডিএর। আমরা হাসপাতাল ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যাপারগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছি।’