বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি ছয় বছরেও। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে নিষ্পত্তি শেষে বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে আপিল বিভাগে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা যাচ্ছে না।
সিনহার পরিবার দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করে দণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে। ঘটনাটি সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। হত্যার পাঁচ দিন পর ৫ আগস্ট আদালতে মামলা করেন নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। মামলায় টেকনাফ মডেল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ পুলিশের ৯ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সিনহাকে গুলি করেন লিয়াকত আলী।
সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মাদক রাখার অভিযোগে এবং অপরটি পুলিশের অপর হামলার অভিযোগে। চারটি মামলারই তদন্ত করে র্যাব। তদন্তে পুলিশের করা তিনটি মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় সেগুলোতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় সাবেক ওসি প্রদীপ, লিয়াকতসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওসি প্রদীপের পূর্বপরিকল্পনায় আসামিরা মেজর (অব.) সিনহাকে গুলি করে হত্যা করেন।