Image description

বিরোধী রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য নতুন করে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শরিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব, ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের উদ্যোগের মধ্যেই জোট টিকিয়ে রাখার কৌশল নির্ধারণে বৈঠকে বসেছে লিয়াজোঁ কমিটি।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, এটি কেবল নিয়মিত সমন্বয় সভা নয়; বরং জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠক।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে শুরু হয়েছে ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। সভায় জোটের ভবিষ্যৎ, শরিক দলগুলোর অবস্থান এবং সামনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য, গত কয়েক সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বৈঠকের গুরুত্ব বেড়েছে। এরই মধ্যে শরিক দল খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছেড়েছে। একই সময়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে কওমি ঘরানার দলগুলোকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই উদ্যোগে আগ্রহ দেখাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি ইসলামপন্থী দলের জোট ছাড়ার গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়েছে।

১১-দলীয় ঐক্যের একজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে খেলাফত মজলিস বের হয়ে গেছে। হেফাজতের উদ্যোগে আরও কয়েকটি দল বের হওয়ার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এনসিপির বিষয়টিও সামনে এসেছে। এসব বিষয় নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। জোট না ভেঙে কীভাবে এটিকে আরও কার্যকর করা যায়, সেটিই হবে বৈঠকের প্রধান আলোচ্য। জামায়াত অন্যান্য শরিক দলের বক্তব্য শুনবে, আবার শরিক দলগুলোও তাদের বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরবে।’

তিনি জানান, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, এনসিপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা, বিএনপি সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিরোধী দলের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচিও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।