Image description

ভাগ্য বদলের স্বপ্নে ইতালি যাওয়ার পথে দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে ২০২৫ ও ’২৬ সালে লিবিয়ায় আট মাস নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন শরীয়তপুরের ইয়ামিন সরদার। তবে তার মতো ভাগ্য হয়নি শরীয়তপুরের  অন্তত ১৯ যুবকের। আট মাস ধরে তাদের কোনো খোঁজ নেই। পরিবার জানে না তারা জীবিত নাকি মৃত। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করেও মেলেনি কোনো তথ্য। এ অবস্থায় দালালচক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিখোঁজদের উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

সম্প্রতি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের তুলাতলা গ্রামে সংবাদকর্মীদের সামনে হাজির হন লিবিয়ায় নিখোঁজ ১৯ যুবকের স্বজনরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাবা, মা, ভাইবোন, স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তান। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের একটাই দাবি-নিখোঁজ স্বজনদের জীবিত ফেরত চান তারা। তাদের অভিযোগ, রাশেদ খান, কামরুজ্জামান টুন্নু খাঁ ও তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনলেই নিখোঁজদের সন্ধান মিলতে পারে। নিখোঁজ রাশিদুল ইসলামের বাবা সেলিম জমাদ্দার বলেন, ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে টুন্নু খাঁ ও রাশেদ খান তার কাছ থেকে কয়েক দফায় ১৮ লাখ টাকা নেন। পরে লিবিয়ায় ছেলেকে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে আরও ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে তিনি ২০ শতাংশ জমি লিখে দেন। এত কিছু করার পরও এক বছর ধরে ছেলের কোনো খোঁজ নেই। নিখোঁজ দিদার আকনের স্ত্রী আছিয়া বেগম বলেন, আমি যখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন আমার স্বামী লিবিয়ায় যান। সন্তান জন্মের আগেই তিনি নিখোঁজ হন। আমার সন্তান আজও বাবাকে দেখেনি। আমার স্বামীকে ফেরত চাই।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চরযাদবপুর গ্রামের রাশেদ খান ‘লামিসা এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কাজ করতেন। তার সহযোগী ছিলেন যমজ ভাই কামরুজ্জামান টুন্নু খাঁ। ২০২২ ও ২০২৩ সালে শরীয়তপুর  অন্তত ২২ তরুণকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। তাদের পরিবারের কাছ থেকে ১২ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। কেউ লিবিয়ার কারাগারে, কেউ মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হন। নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে আবারও মুক্তিপণের টাকা আদায় করা হয়। গত বছরের ২১ ও ২২ মার্চের পর থেকে ওই যুবকদের অধিকাংশের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।