Image description

ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেম। বছর দুয়েক আগে ১১ বছর বয়সে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় এক কিশোরীর। পরে তাদের কোলজুড়ে আসে এক পুত্রসন্তান। অভিযোগ, সন্তানকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সাত মাসের সন্তানকে ফিরে পেতে ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী আদালতের দ্বারস্থ হন।

মঙ্গলবার ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইডের বিচারক মো. সায়েম খান শিশুটিকে তার মায়ের কাছেই রাখার আদেশ দেন। আড়াই মাস পর সন্তানকে কোলে ফিরে পান ওই কিশোরী।

লিগ্যাল এইড সূত্রে জানা যায়, আড়াই মাস আগে শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে কিশোরী মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ এনে গত ১ জুলাই লিগ্যাল এইডে আবেদন করা হয়। আবেদনে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা জানানো হয়। পরে অভিযুক্তদের ১৬ জুলাই লিগ্যাল এইডে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা উপস্থিত হননি। এরপর বিচারক শিশুটিকে উদ্ধারে চকবাজার থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন।

নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার লিগ্যাল এইডে শুনানিতে দুই পক্ষই উপস্থিত হয়। শিশুটিকেও সেখানে আনা হয়। শুনানির একপর্যায়ে বিচারক কিশোরী মায়ের কাছে জানতে চান, শিশুটি তার সন্তান কি না। উত্তরে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার ছেলে।’

ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুশি কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক খুশি।’

এ সময় বিচারক উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সে প্রথম যেদিন এখানে আসে, আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে তার সন্তান আছে। বিশ্বাস করার মতোও বিষয়টি নয়। সে নিজেও তো একটা বাচ্চা।’

পরে শিশুটির বাবার বয়স জানতে চাইলে তিনি ২২ বছর বলে জানান। কীভাবে এত অল্পবয়সী একটি মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, মেয়েটিকে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেছিলেন। এছাড়া তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়নি বলেও দাবি করেন।

শুনানিতে কিশোরী মায়ের আইনজীবী জানান, শিশুটিকে নিজেদের কাছে রাখতে পারিবারিক আদালতে অভিভাবকত্ব (গার্ডিয়ানশিপ) চেয়ে মামলাও করা হয়েছে।

অন্যদিকে শিশুর বাবার আইনজীবী বলেন, তাদের দাবি অনুযায়ী মা নিজেই সন্তানকে রেখে চলে গিয়েছিলেন। সে কারণেই অভিভাবকত্ব চেয়ে মামলা করা হয়েছে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, ‘যেহেতু বাচ্চাটিকে নিয়ে আসা হয়েছে, মায়ের কাছেই থাকুক। মানবিক দিক তো দেখতে হবে।’

পরে শিশুটিকে মায়ের কাছেই রাখার আদেশ দিয়ে আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

শুনানি শেষে কিশোরী মা বিচারকের কাছে জানতে চান, সন্তান তার কাছেই থাকবে কি না। জবাবে বিচারক বলেন, ‘হ্যাঁ, তোমার কাছেই থাকবে।’

শুনানিতে উপস্থিত কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ে পড়াশোনা করছিল। তাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে দেওয়া হয়। তিনি শুরু থেকেই এই বিয়েতে সম্মতি দেননি বলেও জানান।

কিশোরীর বাবার ভাষ্য, তিনি মেয়ের পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিয়ের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু তাকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করা হয়। এ ঘটনায় তিনি নানা ধরনের হুমকি-ধমকিও পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে শিশুর বাবা দাবি করেন, ফেসবুকে পরিচয়ের পর কিশোরী নিজেই তাকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন। পরে তারা বিয়ে করেন এবং তার পরিবারও মেয়েটিকে মেনে নেয়। তবে সংসারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তার দাবি, একসময় কিশোরী সন্তানকে রেখে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ নেননি।

অপরদিকে কিশোরী মায়ের আইনজীবী বলেন, শুটিং স্পট দেখানোর কথা বলে তাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। পরে বিভিন্ন কাগজে সই নিয়ে বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করা হয় এবং স্বামীর অধিকার দেখিয়ে নির্যাতন করা হয়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সন্তানের জন্মের পর মে মাসে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে শিশুটিকে নিজের কাছে রাখতে অভিভাবকত্ব চেয়ে মামলা করা হয়। নিরুপায় হয়ে লিগ্যাল এইডে আবেদন করলে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং বর্তমানে তাকে মায়ের কাছে রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে।