Image description

দীর্ঘ এক দশকের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে চট্টগ্রামে ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের’ (সিইআইজেড) পথচলা শুরু হওয়ায় নতুন আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পটিতে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে এক লাখেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের সাথে সেতুবন্ধন রচনা করবে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী আনোয়ারার বেলচূড়ার বিশেষ এ শিল্পজোন। মহেশখালীর মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের সাথে কর্ণফুলী টানেল হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সংযুক্ত হবে এ জোন। এতে একটি আধুনিক শিল্প লজিস্টিক হাব হিসেবে বাণিজ্যিক রাজধানীর পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে চট্টগ্রাম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীনা বিনিয়োগে বদলে যাবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। এ প্রকল্পটি বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মাইলফলক। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় এ শিল্পজোনের অবস্থানগত গুরুত্ব অপরিসীম। এ শিল্পাঞ্চল শুধু আনোয়ারা বা দক্ষিণ চট্টগ্রাম নয় দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং শিল্পায়নের শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন), সেবাখাত এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের আবাসন গড়ে উঠবে। এর সুফল আনোয়ারার গ-ি ছাড়িয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়বে। বিনিয়োগের সাথে সাথে ব্যবসা, চাকরি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে। কর্ণফুলী টানেলকে ঘিরে আনোয়ারায় নগর সম্প্রসারণ তথা চীনের সাংহাই শহরের মতো কর্ণফুলী নদীর দুই তীর নিয়ে চট্টগ্রাম শহরকে ওয়ান সিটি টু টাউনে রূপান্তর আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

চট্টগ্রামে প্রথম এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন বা ইপিজেড প্রতিষ্ঠা হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। দেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় চট্টগ্রাম ইপিজেডে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের দ্বিতীয় ইপিজেড কর্ণফুলী ইপিজেড। তার হাত ধরে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করে দেশে প্রথম বেসরকারি ইপিজেড কোরিয়ান ইপিজেডের।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। এ ধারাবাহিকতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরেই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পথচলা শুরু হলো দেশে। বিগত ফেব্রুয়ারি মাসে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগের টানা দেড় দশকের সীমাহীন দুঃশাসন, লুটপাট আর পুঁজি পাচারে ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারই অংশ হিসাবে বিদেশি বিনিয়োগের অচলায়তন ভাঙ্গতে তিনি চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। সম্প্রতি তার চীন সফরের সময় ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি এই জোনে প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নানা প্রক্রিয়া শেষে সোমবার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ওই শিল্পজোনের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করেন। সাথে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চীনা রাষ্ট্রদূতসহ দু’দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। চীনের ৭০ জনের বেশি বিনিয়োগকারী ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ শিল্পজোনটি চালুর অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

চাইনিজ ইকোনমিক জোনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ায় আনোয়ারাসহ এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। ওই শিল্পজোনকে ঘিরে ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে এমন প্রত্যাশা সবার। দ্রুত সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার তাগিদও দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তা না হলে সম্ভাবনায় এ প্রকল্পটি কোরিয়ান ইপিজেডের পরিণতি ভোগ করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন অনেকে। ইয়াংওয়ান করপোরেশন দীর্ঘ দুই দশক ধরে কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী আড়াই হাজার একর মূল্যবান ভূমির ওই ইপিজেডে কাক্সিক্ষত কোন বিনিয়োগ আনতে পারেনি। অথচ চট্টগ্রামের সরকারি দুটি ইপিজেডে বিনিয়োগ করার মতো কোন শিল্পপ্লট খালি না থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী বিমুখ হয়ে ফিরে গেছেন। দেশি বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগের উপযুক্ত প্লট পাচ্ছেন না। তবে চীনা ইকোনমিক জোন এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে এমন কথা বলছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা।

বিদেশি বিনিয়োগে দেশের প্রথম এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প বাস্তবায়ন সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ইনকিলাবকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি প্রকল্পটিতে শিল্প কারখানা চালু করতে দেড় বছরের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এক বছরের মধ্যেই সেখানে কারখানা চালুর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন। তার সেই ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন তারেক রহমানের হাত ধরেই হবে। এ শিল্পজোনে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। শিল্পজোনকে ঘিরে আনোয়ারা তথা দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে টেকনাফ থেকে মীরসরাই পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে ব্যাপক শিল্পায়ন হবে। এর ফলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। তাতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।

সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আনোয়ারায় শিল্পজোনের যাত্রা চট্টগ্রামের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। অতীতে বিএনপির হাত ধরেই চট্টগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। আওয়ামী দুঃশাসনের অবসানের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকারের যে পথচলা তাতে চট্টগ্রামের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সরকারের প্রতি আস্থা, বিশ^াস আরও বেড়েছে। চীনা ইকোনমিক জোন চালু হলে আনোয়ারায় নগরায়ন হবে। চট্টগ্রামকে ওয়ান সিটি টু টাউনে রূপান্তরের আরও এক ধাপ অগ্রগতি হলো। তিনি বলেন, বিশ^মানের বিনিয়োগের জন্য বিশ^মানের মহানগরী হিসাবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলা হবে। শিল্প কারখানার পাশাপাশি পর্যটনখাতেও বিনিয়োগের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। চীন, কোরিয়া, জাপানসহ অনেক দেশের বিনিয়োগকারীরা চট্টগ্রামে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণœ রেখে পরিবেশবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি বলেন, এদেশে কর্মসংস্থানের সূচনা হয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। আজকের যে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর ধরে রেখেছেন সেই বৈদেশিক শ্রমবাজারের দ্বার উন্মোচন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার হাত ধরেই চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক কারখানা এবং ইপিজেডের যাত্রা শুরু হয়। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। এ ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী বেকারত্বের অবসান এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, হাসিনার লুটপাট আর অর্থপাচারে বিধ্বস্ত একটি অর্থনীতির উপর দাঁড়িয়ে বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এ অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে তারেক রহমানের যে বলিষ্ঠ উদ্যোগ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ আনোয়ারার শিল্পজোন। চীন আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু, উন্নয়ন সহযোগী। প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম সফর চীন থেকে শুরু করে সেই বন্ধুত্বের নিদর্শন রেখেছেন। চীনা বিনিয়োগ সেইসাথে অর্থনৈতিক করিডোর এ দেশের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করাবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, আনোয়ারাবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি ১০ বছরের অচলাবস্থা ভেঙ্গে চীনা প্রকল্পটি সচল করে দিয়েছেন। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ
চট্টগ্রামের মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। এখানকার সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক কর্মকা- গতিশীল হবে, মানুষের জীবনমান বাড়বে। দক্ষিণ চট্টগ্রামে নগর সম্প্রসারিত হবে।

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, চাইনিজ শিল্পজোনের উদ্বোধন একটা বিরাট সূচনা। এতে অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে কাছের ইকোনমিক জোন হবে এটি। কর্ণফুলী টানেল পার হলেই এই শিল্পজোনের অবস্থান। এতে টানেলের উপযোগীতা অনেক গুণ বাড়বে। চট্টগ্রাম বন্দর এবং বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় গুরুত্ব হবে অপরিসীম। পরিবহন ও লজিস্টিকস সংযোগের দিক থেকে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে এই শিল্পজোন।

আমি বিশ্বাস করি সরকার সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। এখানকার কাজে কোন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য অংশীদারিত্ব শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শুধু কর্ণফুলীর তীরে নয় সীতাকু- থেকে শুরু করে মীরসরাই-নোয়াখালী এমনকি ভোলার সাগর উপকূলেও বিদেশি বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ এবং ভূমি রয়েছে। বেসরকারিখাতের প্রতিনিধি হিসাবে তিনি এসব এলাকায়ও বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ভূমিকা রাখবেন বলে জানান। 

বেজার তথ্যমতে, চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলটি দেশের প্রথম বিশেষায়িত জি-টু-জি অর্থনৈতিক অঞ্চল। এটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৮ কিলোমিটার এবং শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ২০ কি.মি. দূরে কর্ণফুলী নদীর ওপারে। প্রায় ৮০০ একর জমির উপর গড়ে উঠছে চীনা এ শিল্পজোন। প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়ন শুরু হয়েছে। ডিপিপি অনুযায়ী এতে মোট ব্যয় প্রায় ৪,১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২,৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং প্রায় ১,৭২২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্পজোন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ও জেটি সুবিধাসহ আন্তর্জাতিকমানের সকল সহায়ক অবকাঠামো নিশ্চিত হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ডিসেম্বর ২০৩১ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।