রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি এনসিপি। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
আখতার হোসেন বললেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম দোসর সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আমরা আগেই তার পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। তিনি ব্যাংক দখল, গুম ও খুনের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি নিজে দুর্নীতি করার পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতিতেও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন।’
২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, ‘আন্দোলন চলাকালে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেননি। তার দায়িত্বে থাকাকালে অজস্র মানুষকে হত্যা করা হলেও তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।’
সাবেক এই রাষ্ট্রপতির দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর সাহাবুদ্দিন প্রথমে নিজেই জানিয়েছিলেন যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিকদের কাছে তিনি দাবি করেন, তার কাছে কোনো পদত্যাগপত্র নেই।’
আখতার হোসেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বললেন, ‘শেখ হাসিনা তাকে লালন-পালন করে রাষ্ট্রপতির আসনে বসিয়েছিলেন। এখনো সুযোগ পেলে তিনি শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের চেষ্টা করবেন। তাই কেবল তার পদত্যাগই যথেষ্ট নয়। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) হস্তান্তরের দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন এমন এক ধরনের ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, যাতে তিনি একটি সেফ এক্সিট পান। তবে তার বিচার না হলে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি অবিচার করা হবে এবং দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন উঠবে।’
সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ বললেন, ‘শেখ হাসিনার গুম-খুনের রাজনীতির সবচেয়ে বড় দোসর ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। আমরা শুরু থেকেই তার অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছি এবং এ নিয়ে মিছিল-সমাবেশ করেছি। এমনকি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যাতে তিনি বক্তব্য দিতে না পারেন, সেজন্য সংসদ ভবনের ভেতরেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। তবে সরকার সে সময় সব প্রতিবাদ উপেক্ষা করে এই রাষ্ট্রদ্রোহীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয়। এখন তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণেই আজ তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।’